সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।

থানায় ঢুকে ওসির চেয়ারে বসে পড়লেন এমপি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় ওসির চেয়ারে বসা স্থানীয় সংসদ সদস্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চেয়ারে বসা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন এমপি ও ওসি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ফুলপুর থানার ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর তার চেয়ারে বসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহও ওসির চেয়ারে বসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল সকালে ফুলপুর থানার ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে একটি প্যারেডে অংশ নিতে থানার বাইরে ছিলেন। এ সময় সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করেই থানায় উপস্থিত হন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ।

থানায় প্রবেশ করে ওসির কক্ষে গিয়ে তিনি ওসির ব্যবহৃত চেয়ারে বসেন, যদিও পাশে অন্যান্য চেয়ার খালি ছিল। কিছু সময় সেখানে অবস্থান করে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পরে চলে যান।

ঘটনার ভিডিওটি সেদিন প্রকাশ না পেলেও কয়েকদিন পর হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি ওসির চেয়ারে বসে আছেন এবং সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। পাশে বসে আছেন থানার অন্য কর্মকর্তারাও।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। একটি রাজনৈতিক দলের আঞ্চলিক ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে প্রশ্ন তোলা হয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। সেখানে বলা হয়, একজন এমপি যদি থানায় গিয়ে ওসির চেয়ারে বসেন আর ওসি অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে প্রশাসনের অবস্থান কোথায়- এ নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ বলেন, ‘সেদিন আমার পূর্বনির্ধারিত মাস্টার প্যারেড ছিল, তাই সকালেই থানার বাইরে চলে যাই। এমপি সাহেবের থানায় আসার বিষয়ে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। তিনি থানায় আসার পর জানতে পারেন আমি নেই, তারপরও তিনি কক্ষে প্রবেশ করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে তিনি আমার চেয়ারে বসতে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তবে সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে বসতে অনুরোধ করেন। পরে তিনি কিছুক্ষণ বসে কথা বলে চলে যান। তবে নিয়ম অনুযায়ী ওসির চেয়ার অন্য কারও ব্যবহারের বিষয় নয়।’

অন্যদিকে সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি থানায় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ওসি নেই। তখন চলে আসতে চাইলেও সেখানে থাকা কর্মকর্তারা আমাকে জোর করে বসান। আমি কিছুক্ষণ বসে তাদের সঙ্গে কথা বলে চলে আসি। এতে কোনো অপরাধ হয়েছে বলে আমি মনে করি না।’

ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে প্রোটোকল ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি পরিস্থিতির স্বাভাবিক ফল। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি এখন ফুলপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

থানায় ঢুকে ওসির চেয়ারে বসে পড়লেন এমপি

আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

আজকের ক্রাইম ডেক্স
ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় ওসির চেয়ারে বসা স্থানীয় সংসদ সদস্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চেয়ারে বসা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন এমপি ও ওসি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ফুলপুর থানার ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর তার চেয়ারে বসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহও ওসির চেয়ারে বসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল সকালে ফুলপুর থানার ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে একটি প্যারেডে অংশ নিতে থানার বাইরে ছিলেন। এ সময় সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করেই থানায় উপস্থিত হন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ।

থানায় প্রবেশ করে ওসির কক্ষে গিয়ে তিনি ওসির ব্যবহৃত চেয়ারে বসেন, যদিও পাশে অন্যান্য চেয়ার খালি ছিল। কিছু সময় সেখানে অবস্থান করে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পরে চলে যান।

ঘটনার ভিডিওটি সেদিন প্রকাশ না পেলেও কয়েকদিন পর হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি ওসির চেয়ারে বসে আছেন এবং সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। পাশে বসে আছেন থানার অন্য কর্মকর্তারাও।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। একটি রাজনৈতিক দলের আঞ্চলিক ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে প্রশ্ন তোলা হয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। সেখানে বলা হয়, একজন এমপি যদি থানায় গিয়ে ওসির চেয়ারে বসেন আর ওসি অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে প্রশাসনের অবস্থান কোথায়- এ নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ বলেন, ‘সেদিন আমার পূর্বনির্ধারিত মাস্টার প্যারেড ছিল, তাই সকালেই থানার বাইরে চলে যাই। এমপি সাহেবের থানায় আসার বিষয়ে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। তিনি থানায় আসার পর জানতে পারেন আমি নেই, তারপরও তিনি কক্ষে প্রবেশ করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে তিনি আমার চেয়ারে বসতে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তবে সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে বসতে অনুরোধ করেন। পরে তিনি কিছুক্ষণ বসে কথা বলে চলে যান। তবে নিয়ম অনুযায়ী ওসির চেয়ার অন্য কারও ব্যবহারের বিষয় নয়।’

অন্যদিকে সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি থানায় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ওসি নেই। তখন চলে আসতে চাইলেও সেখানে থাকা কর্মকর্তারা আমাকে জোর করে বসান। আমি কিছুক্ষণ বসে তাদের সঙ্গে কথা বলে চলে আসি। এতে কোনো অপরাধ হয়েছে বলে আমি মনে করি না।’

ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে প্রোটোকল ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি পরিস্থিতির স্বাভাবিক ফল। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি এখন ফুলপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।