সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

চুয়াডাঙ্গার হাসাদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, জামায়াত আমিরের ভাই’র মৃত্যু, প্রতিবাদ মিছিল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতের কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এসময় জখম হয়েছে৫ জন। সকালে জামায়াত কর্মীর হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকাল ১০ টায় জীবননগর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে দলীয় নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাঁকা গ্রামের জামায়াত কর্মী হাফিজুর(৫০)’র মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪৫)কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জীবননগর উপজেলা জামায়াতের যুব কমিটির সভাপতি আরিফ জোয়াদ্দার বলেন, হাসাদার ঘটনায় বাঁকা ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই ও স্থানীয় ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক হাফিজুর রহমান মারা গেছেন। মফিজুর রহমানের অবস্থাও সংকটাপন্ন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাতেই হাফিজুরের মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে জামায়াতের চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির রুহুল আমিন রওয়া দেয়।এছাড়া আন্যান্য আহতরা হলেন, জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম(৫০) ও মাহফুজ(২৫)।এছাড়াও হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান(৩৫) ও তার বাবা জসীম উদ্দীন(৬০)। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াতের সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য শনিবার রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বসার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আখতারুজ্জামান বলেন, ‘হামলায় আহত জামায়াতের তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের ঢাকায় নেওয়া হয়। দলীয় সিদ্ধান্তের পর মামলা করা হবে।’
জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান বলেন, জামায়াত এই ঘটনার জন্য দায়ী। নির্বাচনের পর থেকে জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে অহেতুক মারামারি শুরু করে। তারা আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সেই ঘটনার জেরে আজকের সংঘর্ষের ঘটনা। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে জামায়াতের লোকজন জড়ো হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে।
এ ব‍্যপারে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান জানান, জামায়াতের নিরাপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় নেতারা নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলার বিষয় জানতে চাইলে তারা আমাদের চারজন নেতা-কর্মীকে রক্তাক্ত জখম করে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জীবননগর থানা পুলিশের একটি টিম। জীবননগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, হাসাদহে জামায়াত ও বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে পরিবেশ এখন অনেকটা শান্ত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চুয়াডাঙ্গার হাসাদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, জামায়াত আমিরের ভাই’র মৃত্যু, প্রতিবাদ মিছিল

আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতের কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এসময় জখম হয়েছে৫ জন। সকালে জামায়াত কর্মীর হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকাল ১০ টায় জীবননগর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে দলীয় নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাঁকা গ্রামের জামায়াত কর্মী হাফিজুর(৫০)’র মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪৫)কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জীবননগর উপজেলা জামায়াতের যুব কমিটির সভাপতি আরিফ জোয়াদ্দার বলেন, হাসাদার ঘটনায় বাঁকা ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই ও স্থানীয় ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক হাফিজুর রহমান মারা গেছেন। মফিজুর রহমানের অবস্থাও সংকটাপন্ন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাতেই হাফিজুরের মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে জামায়াতের চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির রুহুল আমিন রওয়া দেয়।এছাড়া আন্যান্য আহতরা হলেন, জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম(৫০) ও মাহফুজ(২৫)।এছাড়াও হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান(৩৫) ও তার বাবা জসীম উদ্দীন(৬০)। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াতের সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য শনিবার রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বসার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আখতারুজ্জামান বলেন, ‘হামলায় আহত জামায়াতের তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের ঢাকায় নেওয়া হয়। দলীয় সিদ্ধান্তের পর মামলা করা হবে।’
জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান বলেন, জামায়াত এই ঘটনার জন্য দায়ী। নির্বাচনের পর থেকে জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে অহেতুক মারামারি শুরু করে। তারা আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সেই ঘটনার জেরে আজকের সংঘর্ষের ঘটনা। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে জামায়াতের লোকজন জড়ো হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে।
এ ব‍্যপারে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান জানান, জামায়াতের নিরাপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় নেতারা নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলার বিষয় জানতে চাইলে তারা আমাদের চারজন নেতা-কর্মীকে রক্তাক্ত জখম করে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জীবননগর থানা পুলিশের একটি টিম। জীবননগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, হাসাদহে জামায়াত ও বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে পরিবেশ এখন অনেকটা শান্ত আছে।