বানারীপাড়ায় ১৬ বছরে অধ্যক্ষের কামিল পাস!
- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২০ ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি\
বানারীপাড়ায় চাখারের চাউলকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল হাইয়ানের বিরুদ্ধে জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি করা সহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি আলিম, ফাজিল ও কামিলের জাল সনদ দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চাকরি করে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পিআরএলে যান। এ ব্যপারে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টারের কাছে চাখারের চাউলাকাঠি এলাকার এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে মাওলানা আব্দুল হাইয়ান ১৯৭৬ সালের ১ জুন চাউলাকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যোগদান করেন।তার শিক্ষা সনদের জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ১৯৬০ সালের ১ জানুয়ারী।সে হিসেবে তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে কামিল(এমএ) পাস করেছেন। যা দেশের বিদ্যমান শিক্ষা কাঠামোতে সম্ভব নয়। অভিযোগ রয়েছে জাল জালিয়াতি করে তিনি এ অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। চাখার ফজলুল হক ইনষ্টিটিউট থেকে তিনি ১৯৭৩ সালে মেট্রিক পাস করেন। মেট্রিকের সনদে তার জন্ম তারিখ ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ফলে তার দু’টি জন্ম তারিখ। এদিকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তিনি কিভাবে আলিম, ফাজিল ও কামিল পাস করলেন এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মাওলানা আব্দুল হাইয়ান দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে মাদ্রাসায় কর্মরত থেকে মাদ্রাসাটিকে দুর্নীতির মহাআখড়ায় পরিণত করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন শান্তি কমিটির চাখার ইউনিয়নের সেক্রেটারী মৌলভী নাজিম উদ্দিনের বড় ছেলে মাওলানা আব্দুল হাইয়ান ছোটবেলা থেকেই খুব চতুর ও ধুর্ত প্রকৃতির।রাজনৈতিক দলের ফায়দা লুটতে তিনি যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলের লোক বনে যান। প্রথমে তিনি জাতীয় পার্টি ও পরে বিএনপি-জামায়াত হয়ে এখন হাইব্রিড আওয়ামী লীগ। কৌশলে ভাগিয়েও নিয়েছেন বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পদকের পদ। আর সেই দাপটে মাদ্রাসাটিতে খেয়াল খুশি মতো যা ইচ্ছে তাই করতেন তিনি। তার তৃতীয় ভ্রাতা রেজোয়ানের জন্ম সাল ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারী। তিনি অধ্যক্ষ হাইয়ানের ছোট হয়ে বড় ভাইয়ের ১ বছর পূর্বে মাদ্রাসা থেকে অবসর নেন। যা সম্পূর্ণ অলৌকিক ব্যপার । এছাড়া তিনি মাদ্রাসায় মৌলভী নাজিম উদ্দিন কিন্ডার গার্টেন ও ক্যাডেট মাদ্রাসা খুলে একই শিক্ষার্থী কিন্ডার গার্টেন ও মাদ্রাসায় দেখিয়ে অনৈতিক ফায়দা লুটছেন। এ মাদ্রাসায় একই পরিবারের ৬ জন ব্যক্তি চাকুরীতে নিয়োজিত। মাওলানা আব্দুল হাইয়ান একক কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব বজায় রাখতে মাদ্রাসা থেকে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করার মানসে পকেট কমিটি গঠন করে ইচ্ছেমত মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। এলাকার কেউ এ ব্যপারে প্রতিবাদ করলে তার ছেলে,ভাইয়ের ছেলে ও ভাইদের দ্বারা হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকেন। স্থানীয় মোস্তফা মোল্লা,রহিম বালী ও কালাম মোল্লার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তিন বছর বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করিয়ে পরে নিয়োগ না দিয়ে তাদেরকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন বলে ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এরপর কালাম মোল্লার কাছ থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেন। বিধিবহিভূর্তভাবে কালামকে সহকারী করনিক থেকে প্রধান করনিক পদে পদোন্নতী দিয়ে সহকারী করনিক পদ শুণ্য দেখিয়ে ওই পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। চাখার ইউনিয়নের বাঘরা গ্রামের মো. হোসেন গোমস্তা নামে একজনকে জোরপূর্বক চাকরি হতে অপসারন করে তার ভাই মহিয়ানকে মালি পদে নিয়োগ দেন। মহিয়ান ২ বার এ মাদ্রাসায় যোগদান করেন। তিনি ১২ বছর বয়সে প্রথম ১৯৮১ সালের ২০ জুন যোগদান করেন এবং ১৯৯১ সালের ১ ডিসেম্বর পুনঃরায় যোগদান করেন । এদিকে মাওলানা হাইয়ান তার অবর্তমানে তার অপর ভাই মাওলানা মিজানুর রহমানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের পায়তারা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে উপজেলার মলুহার ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান একবার নারী কেলেঙ্কারীর কারনে মাদ্রাসা থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন। এর আগে মাওলানা মিজানুর রহমান চাউলাকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে চাকরিরত অবস্থায় নিয়মিত ছাত্র হিসেবে চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ থেকে ডিগ্রী পাস করেন। যা সম্পূর্ন নিয়মনীতির পরিপন্থি। তিনি দাখিল,আলিম ও ফাজিল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করে অসুদপায় অবলম্বনের সুযোগ করে দেন এবং ছাত্র থাকাকালীণ অবস্থায় অবৈধভাবে কাহেমাবাদ মাদ্রাসা কেন্দ্রে ডিউটি করতে গিয়ে ধরা পড়ে জেল খাটেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে মাওলানা আ. হাইয়ানের আরেক ভাই উজিরপুর উপজেলার ডাবেরকুল আইডিয়াল কলেজের শিক্ষক আবু সুফিয়ান ইরান এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে জনতার ধাওয়া খেয়ে ভুলে ওই নারীর পাজামা পড়ে দৌঁড়ে পালান। এলাকায় এখন তিনি ‘পাজামা’ হুজুর নামে পরিচিত। মাওলানা হাইয়ানের মেয়ে জামাতা ঝালকাঠির তেরআনা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কামাল সম্প্রতি নিজ বাসার কাজের মেয়েকে ধর্ষণ করে অন্তঃস্বত্ত¡া করায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যপারে মামলা দায়ের করা হয়।জামাতাকে গ্রেফতার করতে মাওলানা আব্দুল হাইয়ানের চাখারের চাউলাকাঠি গ্রামের বাড়িতেও হানা দিয়েছিলো পুলিশ।এ প্রসঙ্গে মাওলনা আব্দুল হাইয়ানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবী করেন ওই সময় ১২ শ্রেণীতে ফাজিল পাসের বিধান ছিলো। ###


























