০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন, ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি, বুধবার, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
জাবেদুর রহমান জাবেদ, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে দেশের সর্বত্তোরের উপজেলা তেঁতুলিয়া। গত ক’দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। দিনভর ঘন কুয়াশা আর শৈত্য প্রবাহে হাড় কাপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন, আর রাত নামতেই প্রকৃতি হয়ে উঠছে আরও নিষ্ঠুর।
এমন কনকনে শীতের রাতে, যখন সাধারণ মানুষ লেপ-কাঁথার উষ্ণতায় নিমগ্ন, কুয়াশার চাদরে যখন চারপাশ অদৃশ্যপ্রায়, ঠিক তখনই মানবতার ডাকে রাস্তায় ছুটে চলেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরু। এই হাড়কাঁপানো কনকনে শীতের রাতেও তিনি তার টিমসহ জেগে ছিলেন শীতার্ত মানুষের মাঝে উষ্ণতার পরশ ছড়িয়ে দিতে।
আঁধার রাতে মানবতার মশাল হয়ে তেঁতুলিয়া, তিরনইহাট, সিপাইপাড়া হয়ে শেষ সীমানা বাংলাবান্ধা পর্যন্ত। আজিজনগর, শালবাহান, বুড়াবুড়ি, ভজনপুর হয়ে দেবনগর পর্যন্ত ছুটে চলেছে প্রশাসনের গাড়ি। উদ্দেশ্য একটাই তীব্র ঠান্ডায় রাস্তার ধারে কুঁকড়ে পড়ে থাকা অসহায় মানুষগুলোর গায়ে উষ্ণতার একটু উষ্ণতার পরশ জড়িয়ে দেওয়া। চাহিদা যখন বরাদ্দের তুলনায় অতি সীমিত তখন জনগণের অধিকার এবং প্রাপ্য সরকারি শীতবস্ত্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা আসলেই ” জনগণের জন্য প্রশাসন” এর প্রতিচ্ছবি।
পথের ভবঘুরে ও পাগল যাদের কোনো ঠিকানা নেই, যাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই, তাদের কাছে ইউএনও মহোদয় নিজেই হয়ে উঠলেন আপনজন।
রাতের অতন্দ্র প্রহরীরা কনকনে ঠান্ডায় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা নৈশ্যপ্রহরী, যারা সবার ঘুমানোর নিশ্চয়তা দিলেও নিজেরা শীতে কাঁপছিলেন।
শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষেরা দিনের বেলা হাড়ভাঙ্গা খাটুনি শেষে জীর্ণ ঘরে বা হোটেলের এক কোণে কোনোমতে রাত কাটানো শ্রমিক ও এতিম শিশুদের মুখে ফুটল তৃপ্তির হাসি।
ছিন্নমূল মানুষেরা সমাজের এই অবহেলিত মানুষগুলোর গায়ে যখন শীতবস্ত্র (কম্বল) জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তাদের চোখের জল আর হাসি যেন শীতের রুক্ষতাকে হার মানাচ্ছিল।
কুয়াশাচ্ছন্ন এই রাতে হাড় কাপানো শীতকে উপেক্ষা করে গতকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয় রাষ্ট্রের পরম মমতার উষ্ণতার পরশের শীতবস্ত্র (কম্বল)।
এ সময় ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব এস.এম আকাশ, সহকারী প্রোগ্রামার নবীউল কারিম সরকার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার জিয়াউর রহমান।