সংবাদ শিরোনাম ::
​ ​ঝালকাঠিতে নানা আয়োজনে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ​ কাঠালিয়ায় ৫০ কেজি ও ৩৯ পোটলা গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১: মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের বড় সাফল্য দর্শনার এলিজা রহমান অস্ট্রেলিয়ার ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত ভুমি অফিস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় দুই কর্মচারীকে শাস্তিস্বরুপ স্ট্যান্ডরিলিজ বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ইটের সলিং *বিটুমিনের পরিবর্তে ইট-বালু দিয়ে সড়ক সংস্কার *প্রশ্নের মুখে সওজ চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত বরিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশাল নগরীতে বিসিসির বিশেষ অভিযান তেঁতুলিয়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা কাঠালিয়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত: বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালের বানারীপাড়ায় মাদ্রাসা শিক্ষকের অবহেলায় ৬ তলা ভবনের ছাদ থেকে পরে এক কিশোরী শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ নাঈম মোঘল বানারীপাড়া প্রতিনিধি : বরিশালের বানারী পাড়া পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের একটি ৬ তলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মৌ (১৪) নামের এক কিশোরী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ওই ভবনের পঞ্চম তলার নুরে জান্নাত নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মৌ উজিরপুর থানার মোঃ শাহিন মিয়ার মেজ মেয়ে পড়ালেখার উদ্দেশ্যে সে তার নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন মিয়ার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো। গত শুক্রবার (২১ মার্চ ) বেলা ১টার দিকে মৌ ওই ভবনের ছাদ থেকে প্রথম পার্শ্ববর্তী রহিম মাস্টারের একতলা টিনের চালা ঘরের উপর ও সেখান থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধর করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৌ ওই সময় ভবনের রেলিং ঘেরা ছাদে কেন গিয়েছিল এবং সেখান থেকে কিভাবে পড়ে গেল এটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি তবে ধারণা করা হচ্ছে সে উপরে কাপড়-চোপড় আনতে গিয়েছিলো। এই মৃত্যু নিয়ে এলাকায় রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সাথীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই মেয়ে অনেক চঞ্চল এবং বদমেজাজি ছিল সে প্রায় সময় রেলিং উপরে হাটতো তাকে জিজ্ঞেস করা হলো ও কখন ছাদে গিয়েছে আপনি দেখেননি তিনি উত্তরে বলেন আমি কিছু জানি না প্রশ্ন করা হলো চাবি পেল কোথায় কারণ ওই ছাদের গেট তো তালাবদ্ধ থাকে সাথী উত্তরে বলল চাবি ওয়ালের সাথে ঝুলানো ছিল। প্রশ্ন করা হলো আমরা জানতে পেরেছি আপনার দু বছরের বাচ্চার ছেলের কাঁথা আনতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেছে এবং ওর সাথে আরো দুই শিক্ষার্থী ছিল তিনি বলেন মৌ একাই ছাদে গিয়েছিল ওর সাথে কেউ ছিল না তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তিনি বলেন আমি তাকে ছাদে পাঠাইনি অথচ এর আগে তিনি বললেন চাবি ওয়ালের সাথে ঝুলানো ছিল ওখান থেকে নিয়ে গেছেন প্রশ্ন হলো মৌ যে একা ছাদে গিয়েছে সেটা সে জানলো কিভাবে কারণ তিনি তো কিছু দেখেননি । এ ব্যাপারে ওই ভবনের অন্য ভাড়াটিয়া এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন ছয়তলার উপরে সাথীর পরিবারের শুকনো কাপড়চোপড় আনতে গিয়েই দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে পড়ে যায়। বিষয়টি এলাকার মানুষ এবং পুলিশ ও সাংবাদিকরা ছয়তলার উপরে ঘটনস্থানে পরিদর্শনে গেলে সেখানে একটি বাচ্চাদের কাঁথা পড়ে থাকতে দেখা যায় ধারণা করা হচ্ছে কাথাটি তুলতে গিয়ে ওখান থেকে মৌ পরে যায়। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ব্যক্তি বলেন ওই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানো হতো এবং দু একজন মহিলা শিক্ষকদের স্বামী মাঝে মধ্যে ওখানে এসে রাত যাপন করতেন যা ওই বাড়ির সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেক করলে স্পষ্ট ভাবে পাওয়া যাবে। এদিকে বিষয়টি সুশীল সমাজে জানাজানি হলে তাদের মনে একটাই প্রশ্ন জাগে মেয়েরাঐ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী কিন্তু তাদেরকে দিয়ে পারিবারিক কাজ কেন করানো হয়। অতটুকু বাচ্চাদের কেনই বা ছাদে উঠতে দেওয়া হল আর চাবি তো শিক্ষকদের কাছে থাকে এবং ওই বাড়ির ছাদের গেট তালাবদ্ধ থাকে তাহলে ওই কিশোরের মৃত্যুতে কি তাদের বিন্দুমাত্রা অবহেলা ছিল না। সুশীল সমাজ মেনেই নিল দুর্ঘটনায় মৌ এর মৃত্যু হয়েছে তবে কি মাদ্রাসা শিক্ষকরা অবহেলার দায় এড়াতে পারবেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে জানতে চাইলে তারা বলেন আমাদের এই বিষয়ে কোন অভিযোগ নেই আমরা যা হারিয়েছি তার কোনদিন ফেরত যোগ্য নয়। এ ব্যাপারে বাড়ির কে আর টেকার পূর্ণিমার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বাড়ির ছাদ কেচিগেট দ্বারা বেষ্টিত এবং এটি তালাবদ্ধ থাকে পাঁচতলা ভবনের মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা সাথী আমার কাছ থেকে চাবি নিয়ে গেছিল তারা উপরে জামাকাপড় শুকা দিত দুর্ঘটনা ঘটার পরে তারা আমার কাছে চাবিটি ফেরত দিয়ে যায়। এদিকে অপর একটি সূত্র থেকে জানা যায় মৌ এর মৃত্যুতে তার পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় জেলা প্রশাসকের অনুমতি ক্রমে শনিবার সকাল দশটায় জানাজা সম্পন্ন করে তার বাবার উজিরপুরের নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই ঘটনা থেকে সভ্য সমাজবাদীরা একটা শিক্ষা নিল দুর্ঘটনার পরে আমরা সচেতন হই আগে কেন নয় যদি একটা বিচার করা যেত তাহলে হয়তো বা কিছুটা সচেতন হই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বরিশালের বানারীপাড়ায় মাদ্রাসা শিক্ষকের অবহেলায় ৬ তলা ভবনের ছাদ থেকে পরে এক কিশোরী শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৩:২৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

মোঃ নাঈম মোঘল বানারীপাড়া প্রতিনিধি : বরিশালের বানারী পাড়া পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের একটি ৬ তলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মৌ (১৪) নামের এক কিশোরী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ওই ভবনের পঞ্চম তলার নুরে জান্নাত নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মৌ উজিরপুর থানার মোঃ শাহিন মিয়ার মেজ মেয়ে পড়ালেখার উদ্দেশ্যে সে তার নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন মিয়ার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো। গত শুক্রবার (২১ মার্চ ) বেলা ১টার দিকে মৌ ওই ভবনের ছাদ থেকে প্রথম পার্শ্ববর্তী রহিম মাস্টারের একতলা টিনের চালা ঘরের উপর ও সেখান থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধর করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৌ ওই সময় ভবনের রেলিং ঘেরা ছাদে কেন গিয়েছিল এবং সেখান থেকে কিভাবে পড়ে গেল এটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি তবে ধারণা করা হচ্ছে সে উপরে কাপড়-চোপড় আনতে গিয়েছিলো। এই মৃত্যু নিয়ে এলাকায় রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সাথীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই মেয়ে অনেক চঞ্চল এবং বদমেজাজি ছিল সে প্রায় সময় রেলিং উপরে হাটতো তাকে জিজ্ঞেস করা হলো ও কখন ছাদে গিয়েছে আপনি দেখেননি তিনি উত্তরে বলেন আমি কিছু জানি না প্রশ্ন করা হলো চাবি পেল কোথায় কারণ ওই ছাদের গেট তো তালাবদ্ধ থাকে সাথী উত্তরে বলল চাবি ওয়ালের সাথে ঝুলানো ছিল। প্রশ্ন করা হলো আমরা জানতে পেরেছি আপনার দু বছরের বাচ্চার ছেলের কাঁথা আনতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেছে এবং ওর সাথে আরো দুই শিক্ষার্থী ছিল তিনি বলেন মৌ একাই ছাদে গিয়েছিল ওর সাথে কেউ ছিল না তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তিনি বলেন আমি তাকে ছাদে পাঠাইনি অথচ এর আগে তিনি বললেন চাবি ওয়ালের সাথে ঝুলানো ছিল ওখান থেকে নিয়ে গেছেন প্রশ্ন হলো মৌ যে একা ছাদে গিয়েছে সেটা সে জানলো কিভাবে কারণ তিনি তো কিছু দেখেননি । এ ব্যাপারে ওই ভবনের অন্য ভাড়াটিয়া এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন ছয়তলার উপরে সাথীর পরিবারের শুকনো কাপড়চোপড় আনতে গিয়েই দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে পড়ে যায়। বিষয়টি এলাকার মানুষ এবং পুলিশ ও সাংবাদিকরা ছয়তলার উপরে ঘটনস্থানে পরিদর্শনে গেলে সেখানে একটি বাচ্চাদের কাঁথা পড়ে থাকতে দেখা যায় ধারণা করা হচ্ছে কাথাটি তুলতে গিয়ে ওখান থেকে মৌ পরে যায়। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ব্যক্তি বলেন ওই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানো হতো এবং দু একজন মহিলা শিক্ষকদের স্বামী মাঝে মধ্যে ওখানে এসে রাত যাপন করতেন যা ওই বাড়ির সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেক করলে স্পষ্ট ভাবে পাওয়া যাবে। এদিকে বিষয়টি সুশীল সমাজে জানাজানি হলে তাদের মনে একটাই প্রশ্ন জাগে মেয়েরাঐ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী কিন্তু তাদেরকে দিয়ে পারিবারিক কাজ কেন করানো হয়। অতটুকু বাচ্চাদের কেনই বা ছাদে উঠতে দেওয়া হল আর চাবি তো শিক্ষকদের কাছে থাকে এবং ওই বাড়ির ছাদের গেট তালাবদ্ধ থাকে তাহলে ওই কিশোরের মৃত্যুতে কি তাদের বিন্দুমাত্রা অবহেলা ছিল না। সুশীল সমাজ মেনেই নিল দুর্ঘটনায় মৌ এর মৃত্যু হয়েছে তবে কি মাদ্রাসা শিক্ষকরা অবহেলার দায় এড়াতে পারবেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে জানতে চাইলে তারা বলেন আমাদের এই বিষয়ে কোন অভিযোগ নেই আমরা যা হারিয়েছি তার কোনদিন ফেরত যোগ্য নয়। এ ব্যাপারে বাড়ির কে আর টেকার পূর্ণিমার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বাড়ির ছাদ কেচিগেট দ্বারা বেষ্টিত এবং এটি তালাবদ্ধ থাকে পাঁচতলা ভবনের মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা সাথী আমার কাছ থেকে চাবি নিয়ে গেছিল তারা উপরে জামাকাপড় শুকা দিত দুর্ঘটনা ঘটার পরে তারা আমার কাছে চাবিটি ফেরত দিয়ে যায়। এদিকে অপর একটি সূত্র থেকে জানা যায় মৌ এর মৃত্যুতে তার পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় জেলা প্রশাসকের অনুমতি ক্রমে শনিবার সকাল দশটায় জানাজা সম্পন্ন করে তার বাবার উজিরপুরের নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই ঘটনা থেকে সভ্য সমাজবাদীরা একটা শিক্ষা নিল দুর্ঘটনার পরে আমরা সচেতন হই আগে কেন নয় যদি একটা বিচার করা যেত তাহলে হয়তো বা কিছুটা সচেতন হই।