সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বরিশাল-২ আসনের সাবেক এমপি শাহে আলম তিন দিনের রিমান্ডে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন
বিশেষ প্রতিনিধি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর গুলশান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান হত্যা মামলায় বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মোঃ শাহে আলম তালুকদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান এই আদেশ দেন।

এর আগে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহে আলমকে মারধরের পর রাজধানীর গুলশান থানায় সোপর্দ করেন সাধারণ মানুষ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাইমুর রহমান (২২) গুলশান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী। ১৯ জুলাই গুলশান থানাধীন শাহাজাদপুর মেইন রোডস্থ সুবাস্তু নজর ভ্যালি শপিং মলের সামনে আন্দোলনে নামনে তিনি। বিকেল ৪টার পর ৪০০/৫০০ জন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়ে। এতে অনেক আন্দোলনকারী ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে নাইমুর রহমানও ছিলেন। পরে তার বাবা ৬৪ জনের নামে মামলা দায়ের করেন । এ

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, সাবেক চিফ হুইপ নুরে আলম চৌধুরী লিটন, সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, সাবেক বিদুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ। এছাড়াও চাঁদার দাবিতে হামলা মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে সাবেক এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
বুধবার ( ১১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে উপজেলার চাখারের বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সৈয়দ আতিকুর রহমান বাপ্পী এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় শাহে আলমের সাথে তার তিন ভাই ও এক ভাগ্নেসহ ১৪ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শারমিন সুলতানা সুমি অভিযোগ তদন্ত করে সিআইডিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী সৈয়দ আতিকুর রহমান বানারীপাড়ার চাখার গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জিল্লুর রহমানের ছেলে। মামলার অপর আসামীরা হলেন ,বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু,সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য মামুন- উর রশিদ স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অপসারিত বানারীপাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, পৌর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পরিতোষ গাইন,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রিয়াজ তালুকদার, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমম রায় সুমন,সাবেক সদস্য মশিউর রহমান সুমন, উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহম্মেদ রুথেন। এদের মধ্যে রিয়াজ তালুকদার সাবেক এমপি শাহে আলমের আপন ভাই, স্বপন ও নুরুল হুদা চাচাতো ভাই এবং রুথেন আপন ভাগ্নে। এছাড়াও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মামলার বাদী সাবেক এমপি শাহে আলম তালুকদার গেজেটভুক্ত রাজাকারের সন্তান উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোষ্ট দেয়। শাহে আলম তালুকদার নৌকা প্রতিকে ঐ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালের রমজান মাসে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদীকে বানারীপাড়া বন্দর বাজারে বেধরক হাতুড়ি পেটা করা হয়। এতে বাদীর ডান পা অচল হয়। তৎকালীন সেই ঘটনায় মামলা করলে বাদীর উপর ক্ষিপ্ত হয় শাহে আলম। মামলা প্রত্যাহারের জন্য হত্যার হুমকি দিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে মামলা প্রত্যাহার করে বাদী।
এরপর বানারীপাড়া খেলাঘর পাঠাগার নির্মানের জন্য বাদীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চায় শাহে আলম ও মামলার বিবাদীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ২০২২ সালের ১০ আগষ্ট এমপি শাহে আলমের নির্দেশে বিবাদীরা বাদীর বাড়িতে গিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে। এ সময় তারা বাদীর স্ত্রীর গলার স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে এলাকায় থাকতে না দেয়াসহ হত্যা করে সন্ধ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। শাহে আলম এমপি থাকাসহ তার ভাইয়েরা এলাকায় বিভিন্ন পদে জনপ্রতিনিধি থাকায় এতদিন মামলা করতে পারেননি বলে বাদী উল্লেখ করেছেন। ###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বরিশাল-২ আসনের সাবেক এমপি শাহে আলম তিন দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

রাহাদ সুমন
বিশেষ প্রতিনিধি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর গুলশান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান হত্যা মামলায় বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মোঃ শাহে আলম তালুকদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান এই আদেশ দেন।

এর আগে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহে আলমকে মারধরের পর রাজধানীর গুলশান থানায় সোপর্দ করেন সাধারণ মানুষ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাইমুর রহমান (২২) গুলশান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী। ১৯ জুলাই গুলশান থানাধীন শাহাজাদপুর মেইন রোডস্থ সুবাস্তু নজর ভ্যালি শপিং মলের সামনে আন্দোলনে নামনে তিনি। বিকেল ৪টার পর ৪০০/৫০০ জন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়ে। এতে অনেক আন্দোলনকারী ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে নাইমুর রহমানও ছিলেন। পরে তার বাবা ৬৪ জনের নামে মামলা দায়ের করেন । এ

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, সাবেক চিফ হুইপ নুরে আলম চৌধুরী লিটন, সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, সাবেক বিদুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ। এছাড়াও চাঁদার দাবিতে হামলা মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে সাবেক এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
বুধবার ( ১১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে উপজেলার চাখারের বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সৈয়দ আতিকুর রহমান বাপ্পী এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় শাহে আলমের সাথে তার তিন ভাই ও এক ভাগ্নেসহ ১৪ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শারমিন সুলতানা সুমি অভিযোগ তদন্ত করে সিআইডিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী সৈয়দ আতিকুর রহমান বানারীপাড়ার চাখার গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জিল্লুর রহমানের ছেলে। মামলার অপর আসামীরা হলেন ,বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু,সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য মামুন- উর রশিদ স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অপসারিত বানারীপাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, পৌর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পরিতোষ গাইন,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রিয়াজ তালুকদার, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমম রায় সুমন,সাবেক সদস্য মশিউর রহমান সুমন, উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহম্মেদ রুথেন। এদের মধ্যে রিয়াজ তালুকদার সাবেক এমপি শাহে আলমের আপন ভাই, স্বপন ও নুরুল হুদা চাচাতো ভাই এবং রুথেন আপন ভাগ্নে। এছাড়াও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মামলার বাদী সাবেক এমপি শাহে আলম তালুকদার গেজেটভুক্ত রাজাকারের সন্তান উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোষ্ট দেয়। শাহে আলম তালুকদার নৌকা প্রতিকে ঐ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালের রমজান মাসে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদীকে বানারীপাড়া বন্দর বাজারে বেধরক হাতুড়ি পেটা করা হয়। এতে বাদীর ডান পা অচল হয়। তৎকালীন সেই ঘটনায় মামলা করলে বাদীর উপর ক্ষিপ্ত হয় শাহে আলম। মামলা প্রত্যাহারের জন্য হত্যার হুমকি দিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে মামলা প্রত্যাহার করে বাদী।
এরপর বানারীপাড়া খেলাঘর পাঠাগার নির্মানের জন্য বাদীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চায় শাহে আলম ও মামলার বিবাদীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ২০২২ সালের ১০ আগষ্ট এমপি শাহে আলমের নির্দেশে বিবাদীরা বাদীর বাড়িতে গিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে। এ সময় তারা বাদীর স্ত্রীর গলার স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে এলাকায় থাকতে না দেয়াসহ হত্যা করে সন্ধ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। শাহে আলম এমপি থাকাসহ তার ভাইয়েরা এলাকায় বিভিন্ন পদে জনপ্রতিনিধি থাকায় এতদিন মামলা করতে পারেননি বলে বাদী উল্লেখ করেছেন। ###