সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত ১ বিজয়নগরে শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই সবুজ হবে বাংলাদেশ— বাবুগঞ্জের কেদারপুরে ইয়াবাসহ যুবক আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক ঘোড়াঘাটে দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে ব্র্যাকের ২০০ ফলজ চারা প্রদান বিষখালী নদীতে অভিযান: ৭ লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার ও ধ্বংস বাবুগঞ্জে গাঁজা সহ প্রবাসী আটক ​ ​ঝালকাঠিতে নানা আয়োজনে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ​ কাঠালিয়ায় ৫০ কেজি ও ৩৯ পোটলা গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১: মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের বড় সাফল্য

ঝিনাইদাহ-৪এমপি আনার কে কেটে টুকরো টুকরো করে লাশ গুমের মূল পরিকল্পনাকারী কসাই জিহাদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪ ২৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুব অল্প সময়ের মধ্যে দুই জোড়া খুন মামলার আসামি হন ভারতে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মামলায় গ্রেফতার জিহাদ হাওলাদার ওরফে কসাই জিহাদ (২৪)। রাজধানী এবং যশোরে পৃথক এই দুটি জোড়া খুন মামলায় পুলিশ আর দিঘলিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান গাজী জাকির চাপে এালাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

দেশে একাধিকবার গ্রেফতার হলেও প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন। গ্রেফতার এড়াতে অবৈধভাবে পাড়ি জমান ভারতে। সেখানেই ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে সর্বশেষ গ্রেফতার হয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামের জয়নাল হাওলাদারের চার ছেলের মধ্যে তৃতীয় জিহাদ হাওলাদার। লেখাপড়া না করায় বাবার সঙ্গে রঙের কাজ করতেন। ২০২২ সালে বারাকপুরে সন্ত্রাসী আনসারের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে তার। আনসারের প্রতিপক্ষ ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনের বাড়িতে হামলা চালান জিহাদ। ওই হামলায় গাজী জাকির এবং তার বড় ভাই আহত হন।

এরপর জাকির বাহিনীর ভয়ে পালিয়ে যান ঢাকায়। সেখানে ডাকাতিসহ একটি জোড়া হত্যা মামলায় আসামি হয়ে গ্রেফতার হন। কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে আসার পর আবার বাড়িতে ফিরে আসেন।

কিন্তু গাজী জাকির বাহিনী ও পুলিশের চাপে আবারও পালিয়ে যান তিনি। যশোরে গিয়ে একটি জোড়া হত্যা মামলায় আসামি হয়ে অবৈধভাবে চলে যান ভারতে। পরবর্তীতে ছোটভাই জাহিদকেও নিয়ে যান সেখানে।

দিঘলিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিহাদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে দিঘলিয়া থানায় ২০২৩ সালের ৮ জুন অস্ত্র আইন, ২০২০ সালেল ২৫ মে মারামারি ও ২০২৩ সালের ২২ এপ্রিল মারামারির মামলা রয়েছে।

জিহাদ হাওলাদারের স্ত্রী মুন্নী বেগম জানান, ২০১৯ সালে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে জিহাদের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। সেসময় জিহাদ রং মিস্ত্রির কাজ করতেন। খুব ভালো একজন মানুষ ছিলেন তিনি।

জিহাদের বড়ভাই স্থানীয় একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, অপর এক ভাই মসজিদের ইমাম। বাবা পেশায় রং মিস্ত্রি ছিলেন। বাবার সঙ্গে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। এলাকায় তার কোনো বদনাম ছিল না। ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর তাদের সংসারে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয় বলেও জানান স্ত্রী মুন্নী বেগম।

তিনি বলেন, এক বছর আগে ঢাকা ও যশোরের দুটি মামলায় জড়িয়ে পড়ায় তিনি গা ঢাকা দেন। সেই থেকে জিহাদ দেশের মধ্যে কিংবা অন্য কোন দেশে আছে সেটা তারা জানেন না। সর্বশেষ তার সঙ্গে মাস ২ আগে দেড় মিনিটের জন্য মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। ছেলের খোঁজ নিয়ে ফোন কেটে দেন।

শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে তার স্বামীর যোগাযোগের বিষয়ে জানতেন না জানিয়ে মুন্নী বলেন, জিহাদের কারণে নিজের মা-বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। জিহাদের বড় দুই ভাইও তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করে না। শ্বশুর জয়নাল হালদারের আয়ে তাদের সংসার চলে।

ধারণা করা হয় যে ঝিনাইদাহ ৪ আসনের এমপি আনার হত্যাকান্ডে তার সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে। যেহেতু এখনো পর্যন্ত এমপি আনারের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি তাই, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ধারনা করছে যে এমপি আনারকে এই জিহাদ ওরফে কসাই জিহাদ একাধিক ছোট ছোট টুকরা করার কাজে সরাসরি সক্রিয় ছিল।

জিহাদ হাওলাদার সম্পর্কে দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুল আকতার বলেন, জিহাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। থানায় অস্ত্র আইনে একটিসহ মোট তিনটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঝিনাইদাহ-৪এমপি আনার কে কেটে টুকরো টুকরো করে লাশ গুমের মূল পরিকল্পনাকারী কসাই জিহাদ

আপডেট সময় : ১১:০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪

খুব অল্প সময়ের মধ্যে দুই জোড়া খুন মামলার আসামি হন ভারতে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মামলায় গ্রেফতার জিহাদ হাওলাদার ওরফে কসাই জিহাদ (২৪)। রাজধানী এবং যশোরে পৃথক এই দুটি জোড়া খুন মামলায় পুলিশ আর দিঘলিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান গাজী জাকির চাপে এালাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

দেশে একাধিকবার গ্রেফতার হলেও প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন। গ্রেফতার এড়াতে অবৈধভাবে পাড়ি জমান ভারতে। সেখানেই ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে সর্বশেষ গ্রেফতার হয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামের জয়নাল হাওলাদারের চার ছেলের মধ্যে তৃতীয় জিহাদ হাওলাদার। লেখাপড়া না করায় বাবার সঙ্গে রঙের কাজ করতেন। ২০২২ সালে বারাকপুরে সন্ত্রাসী আনসারের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে তার। আনসারের প্রতিপক্ষ ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনের বাড়িতে হামলা চালান জিহাদ। ওই হামলায় গাজী জাকির এবং তার বড় ভাই আহত হন।

এরপর জাকির বাহিনীর ভয়ে পালিয়ে যান ঢাকায়। সেখানে ডাকাতিসহ একটি জোড়া হত্যা মামলায় আসামি হয়ে গ্রেফতার হন। কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে আসার পর আবার বাড়িতে ফিরে আসেন।

কিন্তু গাজী জাকির বাহিনী ও পুলিশের চাপে আবারও পালিয়ে যান তিনি। যশোরে গিয়ে একটি জোড়া হত্যা মামলায় আসামি হয়ে অবৈধভাবে চলে যান ভারতে। পরবর্তীতে ছোটভাই জাহিদকেও নিয়ে যান সেখানে।

দিঘলিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিহাদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে দিঘলিয়া থানায় ২০২৩ সালের ৮ জুন অস্ত্র আইন, ২০২০ সালেল ২৫ মে মারামারি ও ২০২৩ সালের ২২ এপ্রিল মারামারির মামলা রয়েছে।

জিহাদ হাওলাদারের স্ত্রী মুন্নী বেগম জানান, ২০১৯ সালে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে জিহাদের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। সেসময় জিহাদ রং মিস্ত্রির কাজ করতেন। খুব ভালো একজন মানুষ ছিলেন তিনি।

জিহাদের বড়ভাই স্থানীয় একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, অপর এক ভাই মসজিদের ইমাম। বাবা পেশায় রং মিস্ত্রি ছিলেন। বাবার সঙ্গে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। এলাকায় তার কোনো বদনাম ছিল না। ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর তাদের সংসারে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয় বলেও জানান স্ত্রী মুন্নী বেগম।

তিনি বলেন, এক বছর আগে ঢাকা ও যশোরের দুটি মামলায় জড়িয়ে পড়ায় তিনি গা ঢাকা দেন। সেই থেকে জিহাদ দেশের মধ্যে কিংবা অন্য কোন দেশে আছে সেটা তারা জানেন না। সর্বশেষ তার সঙ্গে মাস ২ আগে দেড় মিনিটের জন্য মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। ছেলের খোঁজ নিয়ে ফোন কেটে দেন।

শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে তার স্বামীর যোগাযোগের বিষয়ে জানতেন না জানিয়ে মুন্নী বলেন, জিহাদের কারণে নিজের মা-বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। জিহাদের বড় দুই ভাইও তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করে না। শ্বশুর জয়নাল হালদারের আয়ে তাদের সংসার চলে।

ধারণা করা হয় যে ঝিনাইদাহ ৪ আসনের এমপি আনার হত্যাকান্ডে তার সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে। যেহেতু এখনো পর্যন্ত এমপি আনারের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি তাই, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ধারনা করছে যে এমপি আনারকে এই জিহাদ ওরফে কসাই জিহাদ একাধিক ছোট ছোট টুকরা করার কাজে সরাসরি সক্রিয় ছিল।

জিহাদ হাওলাদার সম্পর্কে দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুল আকতার বলেন, জিহাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। থানায় অস্ত্র আইনে একটিসহ মোট তিনটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।