সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা।

প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় মা কে পরিকল্পিতভাবে হত্যার বর্ণনা দিলেন মেয়ে। আজকের ক্রাইম নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক:: মানিকগঞ্জে দিনেদুপুরে গৃহবধূ মাহমুদা বেগমকে (৪৫) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় মা মাহমুদা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে প্রেমিক ও তার সহযোগিদের দিয়ে হত্যা করান মেয়ে জুলেখা আক্তার জ্যোতি। হত্যাকাণ্ডের সহযোগী ছিল প্রেমিক ও তার তিন বন্ধু।
সোমবার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে জুলেখা আক্তার জ্যোতি, প্রেমিক নাঈম ও তার বন্ধু রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে আসামিরা মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র বিচারক শাকিল আহম্মেদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের উপ-পরির্দশক (এসআই) শামীম আল মামুন জানান, গত নভেম্বরে স্বামীর সঙ্গে জ্যোতির বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরই মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরাকুল গ্রামের নাঈমের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিজেরা বিয়ের জন্য প্রস্তুতিও নেন। কিন্তু বাধ সাজেন জ্যোতির মা মাহমুদা বেগম। তিনি মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। পাশাপাশি মেয়েকে শাসনও করতেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রেমিক নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে জ্যোতি নিজের মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার আগের দিন ২১ জানুয়ারি রাতে প্রেমিক নাঈম, রাকিবসহ আরও দুই বন্ধু জ্যোতির শোয়ার ঘরে অবস্থান নেন। বন্ধুদের ভাড়া করা হয় দেড় লাখ টাকায়। এর মধ্যে জ্যোতি তার স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১৬ হাজার টাকা দেয় হত্যাকারীদের। রাতেই হত্যাকাণ্ড ঘটনার পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

এসআই শামীম আল মামুন আরও জানান, ২২ জানুয়ারি (বুধবার) সকালে জ্যোতির বাবা জহিরুল ইসলাম আলিয়ার প্রাতর্ভ্রমণে বাড়ির বাইরে যান। আর মা মাহমুদা বেগম সেলাই মেশিনে কাজ করার জন্য বসেন। এই সুযোগে মাহমুদা বেগমের রুমে ঢোকেন নাঈমসহ আরও দুইজন। এরা রুমে ঢুকেই মাহমুদা বেগমকে গলা টিপে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে ওই সময় বক্তব্য দেন জ্যোতি আক্তার। পুলিশ ও সংবাদকর্মীদের তিনি জানান,পাশের রুমে তার হাত-পা বেঁধে ৪/৫ জন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে তার মাকে হত্যা করেছে।

কিন্তু কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় ঘটনার দিনই জ্যোতিকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় প্রেমিক নাঈম ও রাকিবকে। অন্য দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কোর্টে হাজির করার পর জ্যোতিকে চারদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। আদালতে জ্যোতি আক্তার রোববার (২৬ জানুয়ারি) ও অপর দুই আসামি রাকিব ও নাঈম সোমবার (২৭ জানুয়ারি) আদালতে ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২২ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের দক্ষিণ সেওতা গ্রামে ব্যবসায়ী আলিয়ার রহমানের স্ত্রী মাহমুদা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যাকণ্ডের পর তার মেয়ে জ্যোতি পুলিশ ও সাংবাদিকদের বলেছিলেন- ৪/৫ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তার হাত-পা বেঁধে রেখে তার মাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় মা কে পরিকল্পিতভাবে হত্যার বর্ণনা দিলেন মেয়ে। আজকের ক্রাইম নিউজ

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০

অনলাইন ডেস্ক:: মানিকগঞ্জে দিনেদুপুরে গৃহবধূ মাহমুদা বেগমকে (৪৫) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় মা মাহমুদা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে প্রেমিক ও তার সহযোগিদের দিয়ে হত্যা করান মেয়ে জুলেখা আক্তার জ্যোতি। হত্যাকাণ্ডের সহযোগী ছিল প্রেমিক ও তার তিন বন্ধু।
সোমবার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে জুলেখা আক্তার জ্যোতি, প্রেমিক নাঈম ও তার বন্ধু রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে আসামিরা মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র বিচারক শাকিল আহম্মেদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের উপ-পরির্দশক (এসআই) শামীম আল মামুন জানান, গত নভেম্বরে স্বামীর সঙ্গে জ্যোতির বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরই মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরাকুল গ্রামের নাঈমের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিজেরা বিয়ের জন্য প্রস্তুতিও নেন। কিন্তু বাধ সাজেন জ্যোতির মা মাহমুদা বেগম। তিনি মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। পাশাপাশি মেয়েকে শাসনও করতেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রেমিক নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে জ্যোতি নিজের মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার আগের দিন ২১ জানুয়ারি রাতে প্রেমিক নাঈম, রাকিবসহ আরও দুই বন্ধু জ্যোতির শোয়ার ঘরে অবস্থান নেন। বন্ধুদের ভাড়া করা হয় দেড় লাখ টাকায়। এর মধ্যে জ্যোতি তার স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১৬ হাজার টাকা দেয় হত্যাকারীদের। রাতেই হত্যাকাণ্ড ঘটনার পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

এসআই শামীম আল মামুন আরও জানান, ২২ জানুয়ারি (বুধবার) সকালে জ্যোতির বাবা জহিরুল ইসলাম আলিয়ার প্রাতর্ভ্রমণে বাড়ির বাইরে যান। আর মা মাহমুদা বেগম সেলাই মেশিনে কাজ করার জন্য বসেন। এই সুযোগে মাহমুদা বেগমের রুমে ঢোকেন নাঈমসহ আরও দুইজন। এরা রুমে ঢুকেই মাহমুদা বেগমকে গলা টিপে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে ওই সময় বক্তব্য দেন জ্যোতি আক্তার। পুলিশ ও সংবাদকর্মীদের তিনি জানান,পাশের রুমে তার হাত-পা বেঁধে ৪/৫ জন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে তার মাকে হত্যা করেছে।

কিন্তু কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় ঘটনার দিনই জ্যোতিকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় প্রেমিক নাঈম ও রাকিবকে। অন্য দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কোর্টে হাজির করার পর জ্যোতিকে চারদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। আদালতে জ্যোতি আক্তার রোববার (২৬ জানুয়ারি) ও অপর দুই আসামি রাকিব ও নাঈম সোমবার (২৭ জানুয়ারি) আদালতে ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২২ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের দক্ষিণ সেওতা গ্রামে ব্যবসায়ী আলিয়ার রহমানের স্ত্রী মাহমুদা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যাকণ্ডের পর তার মেয়ে জ্যোতি পুলিশ ও সাংবাদিকদের বলেছিলেন- ৪/৫ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তার হাত-পা বেঁধে রেখে তার মাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।