সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধন কেন্দ্র হতে মেয়াদোত্তীর্ণ চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা বরিশালে পরিত্যক্ত স্থানে ৯ ককটেল, ঘিরে ফেলে পুলিশ—ডাকা হলো বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবস উদ্‌যাপন: র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ আদালত অবমাননার দায়ে এবার ব্যারিস্টার ফুয়াদকে তলব ঘোড়াঘাটে আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি ​নানা আয়োজনে ঝালকাঠিতে জাতীয় যুব দিবস পালিত কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, বাধ্যতামূলক অবসরে এএসপি ভান্ডারিয়া থানা শিশু পার্ক পরিচ্ছন্ন করল বিডি ক্লিন, বোতলের বিনিময়ে দিলো গাছ, সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। সুস্পষ্ট লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত, বন্দরে সতর্ক সংকেত

ঘোড়াঘাটে আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি

ঘোড়াঘাটে আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতের পুরোপুরি আগমন ঘটার আগেই দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা। মাঠের সবুজ শাকসবজিতে যেমন ছড়িয়েছে সম্ভাবনার হাতছানি, তেমনি উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে কৃষকের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি। আগাম উৎপাদনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, লাউ, বেগুন, পালংশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি বাজারে তুলছেন তাঁরা। মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় ভালো দাম পাওয়ায় অনেক কৃষকই এবার লাভের মুখ দেখার আশায় বুক বাঁধছেন।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন শাকসবজি আবাদ হয়েছে ফুলকপি ১০০ হেক্টর, বাঁধাকপি,২০০ মৌলা২০০ সিম, ২০০টমেটো,৩০০ লাল শাক,১০০, বেগুন, ৩০০ পালং শাক,১০০,ও গাজর ২০০ হেক্টর।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ জমি থেকে সবজি তুলে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ আবার ক্ষেতেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। ভোর থেকে শুরু হচ্ছে সবজি সংগ্রহ ও বিক্রির কার্যক্রম। বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় আগাম উৎপাদিত সবজি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগাম সবজি চাষে সাধারণ মৌসুমের তুলনায় কিছুটা বেশি পরিচর্যা ও বিনিয়োগ করতে হয়। জমি প্রস্তুত, উন্নত জাতের বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে খরচ রয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

একজন কৃষক বলেন, “আগাম সবজি চাষ করতে শুরুতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন জমিতে পরিচর্যা করতে হয়েছে। এখন বাজারে ভালো দাম পাচ্ছি। এতে খরচ উঠিয়ে কিছু লাভের আশা করছি। তবে বাজারদর এমন থাকলে কৃষকেরা আরও বেশি আগ্রহী হবেন।”

আরেক কৃষক জানান, “একই জমিতে পরিকল্পনা করে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে সাধারণ সময়ের তুলনায় ভালো দাম পাওয়া যায়। এবার দাম ভালো থাকায় আমরা খুশি। তবে বীজ, সার ও শ্রমিকের খরচও অনেক বেড়েছে।”

তবে কৃষকদের এই সাময়িক স্বস্তির আড়ালে রয়েছে কিছু বাস্তব সংকট। বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের ক্রমবর্ধমান ব্যয় কৃষকের লাভের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। অনেক সময় মাঠপর্যায়ে কৃষক যে দামে সবজি বিক্রি করেন, ভোক্তাকে বাজারে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হয়। উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যবর্তী বাজারব্যবস্থায় এই দামের ব্যবধানও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত বিক্রি করতে হয়। ফলে পাইকারি ক্রেতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তাঁরা। বাজারে একদিন ভালো দাম থাকলেও পরদিন তা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি তাঁদের।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ঘোড়াঘাটের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে টেকসই করতে উন্নত বীজ সরবরাহ, রোগবালাই দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, কৃষি পরামর্শ এবং বাজারদরের সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি কৃষক সমবায়ের মাধ্যমে সরাসরি পাইকারি বাজারে সবজি বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পারে।

সব মিলিয়ে ঘোড়াঘাটে আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষ কৃষকদের জন্য নতুন আশার দুয়ার খুলেছে। বাজারে ভালো দাম পেয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফুটলেও সেই হাসি কত দিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে উৎপাদন ব্যয়, বাজারের চাহিদা ও ন্যায্যমূল্যের ওপর। কৃষকের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে মাঠের সবুজ ফসল থেকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা মাঝপথেই থমকে যেতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন:ঘোড়াঘাট উপজেলায় আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। চলতি মৌসুমে কৃষকেরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, লাউ, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি আবাদ করছেন। আগাম উৎপাদিত সবজি বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই কৃষকেরা উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে অধিক লাভবান হোন।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমদেল হোসেন বলেন:**মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চারা রোপণের সময়, জমির পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা ও সার প্রয়োগের বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। আগাম সবজিতে রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা সঠিক নিয়মে চাষাবাদ করলে ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও কমাতে পারবেন। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগাম সবজি চাষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাওয়াত হোসেন বলেন:**আগাম শীতকালীন সবজি চাষ কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বেশ সম্ভাবনাময়। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় কৃষকেরা তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন। তবে ভালো ফলন পেতে হলে জমির উর্বরতা বজায় রাখা, পরিমিত সার ও সেচ ব্যবহার এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার থেকে কৃষকদের বিরত থাকতে হবে। কৃষকদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে তাঁরা ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে শীতকালীন সবজি চাষে উৎসাহিত হবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঘোড়াঘাটে আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি

ঘোড়াঘাটে আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

শীতের পুরোপুরি আগমন ঘটার আগেই দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা। মাঠের সবুজ শাকসবজিতে যেমন ছড়িয়েছে সম্ভাবনার হাতছানি, তেমনি উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে কৃষকের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি। আগাম উৎপাদনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, লাউ, বেগুন, পালংশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি বাজারে তুলছেন তাঁরা। মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় ভালো দাম পাওয়ায় অনেক কৃষকই এবার লাভের মুখ দেখার আশায় বুক বাঁধছেন।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন শাকসবজি আবাদ হয়েছে ফুলকপি ১০০ হেক্টর, বাঁধাকপি,২০০ মৌলা২০০ সিম, ২০০টমেটো,৩০০ লাল শাক,১০০, বেগুন, ৩০০ পালং শাক,১০০,ও গাজর ২০০ হেক্টর।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ জমি থেকে সবজি তুলে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ আবার ক্ষেতেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। ভোর থেকে শুরু হচ্ছে সবজি সংগ্রহ ও বিক্রির কার্যক্রম। বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় আগাম উৎপাদিত সবজি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগাম সবজি চাষে সাধারণ মৌসুমের তুলনায় কিছুটা বেশি পরিচর্যা ও বিনিয়োগ করতে হয়। জমি প্রস্তুত, উন্নত জাতের বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে খরচ রয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

একজন কৃষক বলেন, “আগাম সবজি চাষ করতে শুরুতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন জমিতে পরিচর্যা করতে হয়েছে। এখন বাজারে ভালো দাম পাচ্ছি। এতে খরচ উঠিয়ে কিছু লাভের আশা করছি। তবে বাজারদর এমন থাকলে কৃষকেরা আরও বেশি আগ্রহী হবেন।”

আরেক কৃষক জানান, “একই জমিতে পরিকল্পনা করে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে সাধারণ সময়ের তুলনায় ভালো দাম পাওয়া যায়। এবার দাম ভালো থাকায় আমরা খুশি। তবে বীজ, সার ও শ্রমিকের খরচও অনেক বেড়েছে।”

তবে কৃষকদের এই সাময়িক স্বস্তির আড়ালে রয়েছে কিছু বাস্তব সংকট। বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের ক্রমবর্ধমান ব্যয় কৃষকের লাভের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। অনেক সময় মাঠপর্যায়ে কৃষক যে দামে সবজি বিক্রি করেন, ভোক্তাকে বাজারে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হয়। উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যবর্তী বাজারব্যবস্থায় এই দামের ব্যবধানও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত বিক্রি করতে হয়। ফলে পাইকারি ক্রেতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তাঁরা। বাজারে একদিন ভালো দাম থাকলেও পরদিন তা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি তাঁদের।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ঘোড়াঘাটের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে টেকসই করতে উন্নত বীজ সরবরাহ, রোগবালাই দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, কৃষি পরামর্শ এবং বাজারদরের সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি কৃষক সমবায়ের মাধ্যমে সরাসরি পাইকারি বাজারে সবজি বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পারে।

সব মিলিয়ে ঘোড়াঘাটে আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষ কৃষকদের জন্য নতুন আশার দুয়ার খুলেছে। বাজারে ভালো দাম পেয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফুটলেও সেই হাসি কত দিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে উৎপাদন ব্যয়, বাজারের চাহিদা ও ন্যায্যমূল্যের ওপর। কৃষকের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে মাঠের সবুজ ফসল থেকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা মাঝপথেই থমকে যেতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন:ঘোড়াঘাট উপজেলায় আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। চলতি মৌসুমে কৃষকেরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, লাউ, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি আবাদ করছেন। আগাম উৎপাদিত সবজি বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই কৃষকেরা উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে অধিক লাভবান হোন।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমদেল হোসেন বলেন:**মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চারা রোপণের সময়, জমির পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা ও সার প্রয়োগের বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। আগাম সবজিতে রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা সঠিক নিয়মে চাষাবাদ করলে ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও কমাতে পারবেন। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগাম সবজি চাষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাওয়াত হোসেন বলেন:**আগাম শীতকালীন সবজি চাষ কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বেশ সম্ভাবনাময়। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় কৃষকেরা তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন। তবে ভালো ফলন পেতে হলে জমির উর্বরতা বজায় রাখা, পরিমিত সার ও সেচ ব্যবহার এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার থেকে কৃষকদের বিরত থাকতে হবে। কৃষকদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে তাঁরা ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে শীতকালীন সবজি চাষে উৎসাহিত হবেন।