সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ইটের সলিং *বিটুমিনের পরিবর্তে ইট-বালু দিয়ে সড়ক সংস্কার *প্রশ্নের মুখে সওজ চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত বরিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশাল নগরীতে বিসিসির বিশেষ অভিযান তেঁতুলিয়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা কাঠালিয়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত: বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তেঁতুলিয়ায় বাবার স্মরণে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করলেন ছেলে বরিশালে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি জীবননগর উথলী ঘর থেকে পঁচা দুর্গন্ধময় ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার ঘোড়াঘাটে ৫৩ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিল ব্যক্তির হাতে: শর্ত ভেঙে তৃতীয় পক্ষকে ইজারা

আদালতের আদেশ অমান্য করে শিক্ষকের জমিতে ধান রোপণের অভিযোগ।

আদালতের আদেশ অমান্য করে শিক্ষকের জমিতে ধান রোপণের অভিযোগ।

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:০১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূতেরদিয়া গ্রামে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের জমিতে ধান রোপণ ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমির গাছ কাটার চেষ্টারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, কেদারপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ভূতেরদিয়া গ্রামের মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে একই এলাকার মৃত হযরত আলী আমিনের ছেলে মো. শাহ আলম আমিন (৫৫), মো. মুজিবর আমিন (৫০) এবং মৃত হাসেম আলীর ছেলে মুজাহার পেদারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

বিরোধপূর্ণ জমির পরিমাণ প্রায় ৮৫ শতাংশ বলে দাবি করেছেন ওয়াহিদুজ্জামান। তাঁর দাবি, জমিটির বিএস রেকর্ড তাঁর নামে রয়েছে এবং পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে তিনি ওই সম্পত্তির মালিক।

জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১৬৫/২০২৫। বাদীপক্ষের দাবি, মামলার পর আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ জুলাইও আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত ১৩ আগস্ট জমির একাংশে ধান রোপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওয়াহিদুজ্জামান। এর আগে জমিতে রোপণ করা ধানও জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বাদীপক্ষ আরও জানায়, বিরোধপূর্ণ জমির প্রায় ৩৬ শতাংশ এলাকায় একটি গাছের বাগান রয়েছে। ওই বাগানের গাছ কাটারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। এতে বাধা দিলে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।

মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ থাকার পরও প্রতিপক্ষ জমিতে প্রবেশ করে ধান রোপণ ও দখলের চেষ্টা করছে। এতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। জমিতে প্রবেশ ও গাছ কাটার চেষ্টায় বাধা দিলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শাহ আলম আমিন, মো. মুজিবর আমিন ও মুজাহার পেদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আদালতের আদেশ অমান্য করে শিক্ষকের জমিতে ধান রোপণের অভিযোগ।

আদালতের আদেশ অমান্য করে শিক্ষকের জমিতে ধান রোপণের অভিযোগ।

আপডেট সময় : ০৬:০১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূতেরদিয়া গ্রামে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের জমিতে ধান রোপণ ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমির গাছ কাটার চেষ্টারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, কেদারপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ভূতেরদিয়া গ্রামের মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে একই এলাকার মৃত হযরত আলী আমিনের ছেলে মো. শাহ আলম আমিন (৫৫), মো. মুজিবর আমিন (৫০) এবং মৃত হাসেম আলীর ছেলে মুজাহার পেদারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

বিরোধপূর্ণ জমির পরিমাণ প্রায় ৮৫ শতাংশ বলে দাবি করেছেন ওয়াহিদুজ্জামান। তাঁর দাবি, জমিটির বিএস রেকর্ড তাঁর নামে রয়েছে এবং পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে তিনি ওই সম্পত্তির মালিক।

জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১৬৫/২০২৫। বাদীপক্ষের দাবি, মামলার পর আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ জুলাইও আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত ১৩ আগস্ট জমির একাংশে ধান রোপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওয়াহিদুজ্জামান। এর আগে জমিতে রোপণ করা ধানও জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বাদীপক্ষ আরও জানায়, বিরোধপূর্ণ জমির প্রায় ৩৬ শতাংশ এলাকায় একটি গাছের বাগান রয়েছে। ওই বাগানের গাছ কাটারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। এতে বাধা দিলে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।

মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ থাকার পরও প্রতিপক্ষ জমিতে প্রবেশ করে ধান রোপণ ও দখলের চেষ্টা করছে। এতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। জমিতে প্রবেশ ও গাছ কাটার চেষ্টায় বাধা দিলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শাহ আলম আমিন, মো. মুজিবর আমিন ও মুজাহার পেদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।