সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত ১ বিজয়নগরে শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই সবুজ হবে বাংলাদেশ— বাবুগঞ্জের কেদারপুরে ইয়াবাসহ যুবক আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক ঘোড়াঘাটে দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে ব্র্যাকের ২০০ ফলজ চারা প্রদান বিষখালী নদীতে অভিযান: ৭ লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার ও ধ্বংস বাবুগঞ্জে গাঁজা সহ প্রবাসী আটক ​ ​ঝালকাঠিতে নানা আয়োজনে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ​ কাঠালিয়ায় ৫০ কেজি ও ৩৯ পোটলা গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১: মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের বড় সাফল্য

ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার

ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝালকাঠি শহরের টিএনটি রোড এলাকায় চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় প্রবেশ করে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি জুয়েল (নয়ন) ডাকুঙ্গাকে (২৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রাজধানীর ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তাকে ঝালকাঠিতে এনে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সূত্র জানায়, এ মামলার প্রধান আসামি রিতোষ একই ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া ছিলেন। তিনি স্ত্রী পল্লবী রায় ও এক সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন।
রথযাত্রা উপলক্ষে গত ১৭ জুলাই শুক্রবার সকালে ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা কীর্তিপাশায় অবস্থান করায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রিতোষ ও তার সহযোগী জুয়েল (নয়ন) ডাকুয়া সকাল আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে ভবনের মালিক তপন রায়ের বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন।

দরজা ভাঙার শব্দে গৃহবধূ মলিনা রায় জেগে ওঠেন এবং প্রধান আসামি রিতোষকে চিনে ফেলেন। ধরা পড়ার আশঙ্কায় দুই আসামি মিলে তার মুখ চেপে ধরেন, হাত-পা বাঁধেন এবং মুখে বাজারের ব্যাগ গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রধান আসামি রিতোষ নিজের ভাড়া করা বাসাটিও এলোমেলো করে রাখেন, যাতে সেটিও চুরির শিকার হয়েছে বলে ভুল ধারণা তৈরি হয়। এরপর দুই আসামি বাড়ির পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।
তদন্ত ও আসামিদের পরিচয়
আসামি রিতোষ (ঝালকাঠি সদরের শেখেরহাট ইউনিয়নের গরংগল গ্রামের হিরন রায়ের ছেলে)। তিনি একই ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া ছিলেন। পুলিশ সিসিটিভির তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আসামী জুয়েল (নয়ন) ডাকুয়া (ঝালকাঠি সদরের শেখেরহাট ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের নান্নু ডাকুয়ার ছেলে)। তাকে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, “গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।”

গত ১৭ জুলাই শুক্রবার রাতে ঝালকাঠি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টিএনটি রোড এলাকায় একটি তিনতলা ভবনে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় হাত-পা বাঁধা ও মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মলিনা রায় (৫০) নামের নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মলিনা রায় ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া ও রতন রায়ের স্ত্রী। রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। ঘটনার দিন শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মহোৎসব উপলক্ষে ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা ভিমরুলী ও কীর্তিপাশার রথযাত্রায় অংশ নিতে সকালে বাড়ির বাইরে যান এবং মলিনা রায় বাড়িতে একাই ছিলেন।
রাত পৌনে আটটার দিকে বাসিন্দারা ফিরে এসে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। এরপর মলিনা রায়ের মেয়ে পূজা রায় বাসার ভেতরে ঢুকে মাকে হাত-পা বাঁধা ও মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার

ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৩:১৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ঝালকাঠি শহরের টিএনটি রোড এলাকায় চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় প্রবেশ করে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি জুয়েল (নয়ন) ডাকুঙ্গাকে (২৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রাজধানীর ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তাকে ঝালকাঠিতে এনে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সূত্র জানায়, এ মামলার প্রধান আসামি রিতোষ একই ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া ছিলেন। তিনি স্ত্রী পল্লবী রায় ও এক সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন।
রথযাত্রা উপলক্ষে গত ১৭ জুলাই শুক্রবার সকালে ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা কীর্তিপাশায় অবস্থান করায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রিতোষ ও তার সহযোগী জুয়েল (নয়ন) ডাকুয়া সকাল আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে ভবনের মালিক তপন রায়ের বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন।

দরজা ভাঙার শব্দে গৃহবধূ মলিনা রায় জেগে ওঠেন এবং প্রধান আসামি রিতোষকে চিনে ফেলেন। ধরা পড়ার আশঙ্কায় দুই আসামি মিলে তার মুখ চেপে ধরেন, হাত-পা বাঁধেন এবং মুখে বাজারের ব্যাগ গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রধান আসামি রিতোষ নিজের ভাড়া করা বাসাটিও এলোমেলো করে রাখেন, যাতে সেটিও চুরির শিকার হয়েছে বলে ভুল ধারণা তৈরি হয়। এরপর দুই আসামি বাড়ির পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।
তদন্ত ও আসামিদের পরিচয়
আসামি রিতোষ (ঝালকাঠি সদরের শেখেরহাট ইউনিয়নের গরংগল গ্রামের হিরন রায়ের ছেলে)। তিনি একই ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া ছিলেন। পুলিশ সিসিটিভির তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আসামী জুয়েল (নয়ন) ডাকুয়া (ঝালকাঠি সদরের শেখেরহাট ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের নান্নু ডাকুয়ার ছেলে)। তাকে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, “গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।”

গত ১৭ জুলাই শুক্রবার রাতে ঝালকাঠি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টিএনটি রোড এলাকায় একটি তিনতলা ভবনে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় হাত-পা বাঁধা ও মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মলিনা রায় (৫০) নামের নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মলিনা রায় ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া ও রতন রায়ের স্ত্রী। রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। ঘটনার দিন শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মহোৎসব উপলক্ষে ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা ভিমরুলী ও কীর্তিপাশার রথযাত্রায় অংশ নিতে সকালে বাড়ির বাইরে যান এবং মলিনা রায় বাড়িতে একাই ছিলেন।
রাত পৌনে আটটার দিকে বাসিন্দারা ফিরে এসে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। এরপর মলিনা রায়ের মেয়ে পূজা রায় বাসার ভেতরে ঢুকে মাকে হাত-পা বাঁধা ও মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।