সংবাদ শিরোনাম ::
মোরেলগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯ শয্যার ভবনে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, চিকিৎসক সংকট থাকলেও থেমে নেই সেবা, মানোন্নয়নে তৎপর চিকিৎসকরা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটে র‌্যালি ও আলোচনা সভা ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ১৮ জেলায় বন্যার আশঙ্কা,আগামী তিন দিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা, সতর্কতা ১৮ জেলায় ​ঝালকাঠিতে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে যৌথ উচ্ছেদ অভিযান চুয়াডাঙ্গায় অফিসরুমে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারের অভিযোগে মামলা গ্রেফতার১ কেন্দ্রীয় শিক্ষক নেতার নিন্দা কালকিনিতে শিক্ষক হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন মাদারীপুরে মিথ্যা মামলার অভিযোগ: তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত হবে ‘জেলা পরিষদ প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ বৈরী আবহাওয়ার কারনে বঙ্গোপসাগরে পৃথকভাবে ৩ টি মাছধরার ট্রলার ডুবি ১৩ জেলে নিখোঁজ গভীর লঘুচাপের প্রভাবে সুন্দরবন-উপকূলে টানা বৃষ্টি জনজীবন বিপর্যস্ত, মোংলা বন্দরে ব্যাহত পণ্য খালাস

মোরেলগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯ শয্যার ভবনে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, চিকিৎসক সংকট থাকলেও থেমে নেই সেবা, মানোন্নয়নে তৎপর চিকিৎসকরা

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন উপকূলবর্তী জনপদ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে মাত্র ১৯ শয্যার ভবনে। চিকিৎসক ও জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও রোগীদের সেবার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি গত বছরের অক্টোবর মাসে এ কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এক্স-রে মেশিন চালুকরণ, প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম সচলকরণসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ রোগীদের কাছেও তিনি আস্থা অর্জন করেছেন।

তবে সম্প্রতি একটি মহল হাসপাতালের ওষুধ সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. কামাল হোসেন মুফতি। এ বিষয়ে সোমবার রাতে হাসপাতাল কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৮০-এর দশকে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে বর্তমানে ১৯ শয্যার ভবনেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পুরোনো ৩১ শয্যার ভবনের স্থলে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও মাঝপথে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালে ৫১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে সাতজন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডেপুটেশনে এবং একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মাত্র ছয়জন চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।

এছাড়া ৩২ জন স্টাফ নার্সের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন। নয়জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের স্থলে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর ধরে এসব পদ শূন্য রয়েছে। একইভাবে ১৮ জন এসএমও পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন, যাদের মধ্যে ছয়জন জেলা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছেন। ২০ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ছয়জন।

দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণ রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। এছাড়া অন্তর্বিভাগে নিয়মিত ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন।

হাসপাতাল থেকে রোগীদের সরকারিভাবে বিনামূল্যে ৫২ প্রকার ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল এবং ১০ প্রকার সিরাপ সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) রোগীদের জন্যও নিয়মিত ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ সিফাত খান জানান, ২০২৫ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত নিবন্ধিত এক হাজার ৬৩৭ জন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীকে প্রতি মাসে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন নতুন রোগী এসব সেবার আওতায় নিবন্ধিত হচ্ছেন।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, “হাসপাতালে ওষুধ সংকটের কোনো বাস্তবতা নেই। একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। ভুল তথ্য দিয়ে জনগণ ও চিকিৎসকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “রোগীদের সেবা দেওয়া প্রতিটি চিকিৎসকের দায়িত্ব। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোও নিয়মনীতি মেনে পরিচালিত হতে হবে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মোরেলগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯ শয্যার ভবনে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, চিকিৎসক সংকট থাকলেও থেমে নেই সেবা, মানোন্নয়নে তৎপর চিকিৎসকরা

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন উপকূলবর্তী জনপদ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে মাত্র ১৯ শয্যার ভবনে। চিকিৎসক ও জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও রোগীদের সেবার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি গত বছরের অক্টোবর মাসে এ কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এক্স-রে মেশিন চালুকরণ, প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম সচলকরণসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ রোগীদের কাছেও তিনি আস্থা অর্জন করেছেন।

তবে সম্প্রতি একটি মহল হাসপাতালের ওষুধ সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. কামাল হোসেন মুফতি। এ বিষয়ে সোমবার রাতে হাসপাতাল কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৮০-এর দশকে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে বর্তমানে ১৯ শয্যার ভবনেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পুরোনো ৩১ শয্যার ভবনের স্থলে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও মাঝপথে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালে ৫১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে সাতজন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডেপুটেশনে এবং একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মাত্র ছয়জন চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।

এছাড়া ৩২ জন স্টাফ নার্সের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন। নয়জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের স্থলে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর ধরে এসব পদ শূন্য রয়েছে। একইভাবে ১৮ জন এসএমও পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন, যাদের মধ্যে ছয়জন জেলা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছেন। ২০ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ছয়জন।

দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণ রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। এছাড়া অন্তর্বিভাগে নিয়মিত ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন।

হাসপাতাল থেকে রোগীদের সরকারিভাবে বিনামূল্যে ৫২ প্রকার ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল এবং ১০ প্রকার সিরাপ সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) রোগীদের জন্যও নিয়মিত ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ সিফাত খান জানান, ২০২৫ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত নিবন্ধিত এক হাজার ৬৩৭ জন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীকে প্রতি মাসে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন নতুন রোগী এসব সেবার আওতায় নিবন্ধিত হচ্ছেন।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, “হাসপাতালে ওষুধ সংকটের কোনো বাস্তবতা নেই। একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। ভুল তথ্য দিয়ে জনগণ ও চিকিৎসকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “রোগীদের সেবা দেওয়া প্রতিটি চিকিৎসকের দায়িত্ব। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোও নিয়মনীতি মেনে পরিচালিত হতে হবে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”