ঝালকাঠির দেউরী গ্রামে ভয়াবহ নদী ভাঙন: বিলীনের পথে পুরো এলাকা, এলাকাবাসীর আর্তনাদ
- আপডেট সময় : ০২:৪৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ১১৩ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী গ্রামে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে জনপদ বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে এলাকাকে রক্ষা করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৫টায় ভাঙনকবলিত এলাকার সাইক্লোন শেল্টার সংলগ্ন নদীর তীরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে শত শত গ্রামবাসী অংশ নিয়ে তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষার আকুতি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, দীর্ঘদিনের নদী ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয়রা জানান, নদী ভাঙনের মুখে এখন এলাকার একমাত্র সাইক্লোন শেল্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও ব্যক্তিগত স্থাপনাগুলো রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুরো গ্রামটিই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন:
অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন: পোনাবালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
মোঃ ইউনুস মোল্লা: সাধারণ সম্পাদক, পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপি।
আঃ কুদ্দুস হাওলাদার: আহ্বায়ক, সদর উপজেলা মৎস্যজীবী দল।
মোঃ রাকিব: সাবেক সভাপতি, ইউনিয়ন ছাত্রদল।
এ ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ ফকির, মোঃ মোরশেদ হাওলাদার, মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ আব্দুল মান্নান শরীফ, মোঃ আবুল হোসেন খান, মোঃ বাচ্চু ফরাজী, মোঃ জামাল ফরাজী, মোঃ সোহাগ, মোঃ বুরঝুক ও মোঃ খলিলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।
ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই এলাকার শিক্ষা, পরিবেশ, অবকাঠামো এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। দেউরী গ্রামের মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।




















