ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় শ্রমিকদল নেতার ঘরপোড়া মামলায় সাবেক এমপিসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আসামী এক বিএনপি নেতা বাবুগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য সাদেক খান গ্রেফতার ঝালকাঠিতে ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা তছলিম হোসেন মৃধা আটক সিঙ্গাপুর থেকে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎকারী ও সন্ত্রাসী হামলা করার কারণে কারাগারে গেলেন মিজান ভূইয়া চুয়াডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৭ চুয়াডাঙ্গায় ১ লাখ টাকা বিল বকেয়া থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ভান্ডারিয়ায় অসংখ্য চিংড়ি রেণু জব্দ, ৩ জনকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় বরিশালে পুলিশি অভিযানে বাসার ছাদ থেকে লাফ দিতে গিয়ে, আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু সিলেটের জেলাপ্রশাসক সারওয়ার আরম প্রত্যাহার, শাহজালাল (রহ.) মাজার কর্তৃপক্ষ খুশি

ঝালকাঠি-২ আসনের রাজনীতি থেকে সংসদের আলোচনায় জীবা

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি:
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রথম এমপি হয়ে সংসদে টানা ১০ মিনিট ইংলিশে বক্তব্য রেখে বাজিমাত করে দিলেন ঝালকাঠির কৃতি সন্তান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দলীয় সহসভাপতি জীবা আমিনা আল গাজী। এক বক্তব্যে ঝালকাঠি-২ আসনের রাজনীতি থেকে জাতীয় সংসদের আলোচনায় চলে এলেন তিনি।
সংসদ অভিভাবক স্পীকার থেকে শুরু করে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীসহ সকল এমপিগণ তার বক্তব্য গভীর ভাবে শুনেন। মাঝে মাঝে টেবিল চাপড়ে উৎসাহ ও সাহস যুগিয়েছেন তারা। একজন নারী সংসদ হয়ে যে ভাবে তার বক্তব্য নির্ভুল ইংলিশ ও উচ্চারণে উপস্থাপন করেন তা দেখে শুধু সংসদ সদস্য নয় দেশবাসি তাকে সাধুবাদ জানান। ইংলিশের সাথে বাংলার সংমিশ্রণ করে অল্প সময়ে তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
তার ইংলিশ বক্তব্য নিয়ে তিনি যেমন আলোচিত ও প্রশংসিত হন তেমনি বক্তব্যের নিয়েও তৈরি হয় উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। সংসদে বক্তব্যের জন্য নির্দিষ্ট সময় ৮ মিনিট নির্ধারিত ছিল তার জন্য। এরপর তাকে ২ মিনিট বাড়তি সময় দেন। এরপর সেই সময়ও শেষ হলে স্পীকার বলেন আগামী বছরের জন্য প্র্যাকটিস করতে থাকেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি একদিকে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আসেন অন্যদিকে প্রশংসিত হন।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য জীবা আমিনা জুন বাজেট আলোচনার সময় কথা বলার ধরনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ভাইরাল হয়। কারণ এর আগে বিশেষ করে কোন নারী সংসদ সদস্য এভাবে অত্যন্ত সাবলীল ও স্বাভাবিক ভাবে ইংলিশে এভাবে বক্তব্য দিতে পারেনি। তবে দেশের পার্লামেন্ট তার উপস্থাপিত এই বক্তব্যে দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন ভুয়া আইডি দিয়ে অপপ্রচার ও ট্রল করেছে। জানা গেছে এই মহলটি তার মনোনয়নের বিরোধিতা করে নির্বাচন কমিশন, হাইকোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্ট করেও মনোনয়ন ঠেকাতে পারেনি। সকল অভিযোগ যাচাই বাছাই করে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয়।
এরাই তাকে ২৪ আগস্টের পর বিভিন্ন মিথ্যা কল্পকাহিনী সাজিয়ে একই ভাবে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। যাতে তিনি এমপি মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো গুলশানে তার নিজ বাড়ীটি দখল করতে গিয়ে বরং হয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের কল্পকাহিনী সাজায় এবং ভুয়া আইডিতে অপপ্রচার চালায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হাত থাকায় জীবা আমিনা আল গাজীর মনোনয়ন ঠেকাতে পারেনি। এই মহলটি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে গিয়ে তাকে আরও পরিচিতি করেছেন বিশ্বের কাছে। অন্যদিকে সমালোচনা ও হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে অপপ্রচার করা স্বার্থান্বেষী মহল। এমনটাই মনে করেন জীবা আমিনা আল গাজী ও তার দলীয় সমর্থকরা।
জীবা আমিনা আল গাজী পড়াশুনা করেন লন্ডনে। সেখান থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার সাথে রাজনীতিতে মাঠে থেকে একাধিক মামলার আসামী ও গ্রেফতার হন ঢাকায়।
জীবা আমিনা কোন অনিয়ম বা দুর্নীতির সাথে জড়িত না থাকায় ২০১৮ সনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেলে ঝালকাঠি-২ আসনে আওয়ামিলীগের এমপি আমির হোসেন আমুর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ঐ সময় তার দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে জীবা আমিনাকে হামলা ও আহত করে তার গাড়ি ভাঙচুর করে মাঠ থেকে উঠাতে পারেননি। ঐ সময় জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী মতিয়া জুয়েলসহ মহিলা দলের এবং কর্মী সমর্থকরা হামলায় গুরুতর আহত হন। ঝালকাঠি ও নলছিটি দুটি আসনেই তার উপর হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সেই নির্বাচনে তাকে হারানো হলেও তিনি আমুর সাথে ভোটের দিন পর্যন্ত সাহসের সাথে লড়ে গেছেন। সেই থেকেই ব্যারিস্টার আখতার উদ্দীনের মেয়ে জীবা আমীনাকে এ আসনের মানুষ একজন সাহসী নারী রাজনীতিবিদ হিসেবে চিনেন। এরপর এই স্বার্থান্বেষী মহল আওয়ামীলীগ সরকারের সহায়তায় তাকে দেশে ত্যাগে বাধ্য করে। কিছুদিন তিনি দেশের বাইরে থাকলেও ২৪ আগস্ট স্বৈরাচার সরকার পতনের পর আবার বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতিতে যোগ দেন বলে জানান তিনি।
ইংলিশের সাথে বাংলায় বক্তব্যের বিষয়ে জীবা আমীনা আল গাজী বলেন, যে খানে প্রয়োজন বাংলা বলেছি তাতে ভুলের কিছুই নেই। আমিতো সঠিক বাংলা বলেছি। বাংলায় তো কোন ভুল বলিনি। মূল বিষয় হলো এটা যার যে ভাবে চিন্তাধারা সে সেভাবে নিবে। ডার্ট রোড, আনপেইড রোড বললে অনেকেই বুঝতো না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঝালকাঠি-২ আসনের রাজনীতি থেকে সংসদের আলোচনায় জীবা

আপডেট সময় : ০৭:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

প্রথম এমপি হয়ে সংসদে টানা ১০ মিনিট ইংলিশে বক্তব্য রেখে বাজিমাত করে দিলেন ঝালকাঠির কৃতি সন্তান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দলীয় সহসভাপতি জীবা আমিনা আল গাজী। এক বক্তব্যে ঝালকাঠি-২ আসনের রাজনীতি থেকে জাতীয় সংসদের আলোচনায় চলে এলেন তিনি।
সংসদ অভিভাবক স্পীকার থেকে শুরু করে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীসহ সকল এমপিগণ তার বক্তব্য গভীর ভাবে শুনেন। মাঝে মাঝে টেবিল চাপড়ে উৎসাহ ও সাহস যুগিয়েছেন তারা। একজন নারী সংসদ হয়ে যে ভাবে তার বক্তব্য নির্ভুল ইংলিশ ও উচ্চারণে উপস্থাপন করেন তা দেখে শুধু সংসদ সদস্য নয় দেশবাসি তাকে সাধুবাদ জানান। ইংলিশের সাথে বাংলার সংমিশ্রণ করে অল্প সময়ে তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
তার ইংলিশ বক্তব্য নিয়ে তিনি যেমন আলোচিত ও প্রশংসিত হন তেমনি বক্তব্যের নিয়েও তৈরি হয় উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। সংসদে বক্তব্যের জন্য নির্দিষ্ট সময় ৮ মিনিট নির্ধারিত ছিল তার জন্য। এরপর তাকে ২ মিনিট বাড়তি সময় দেন। এরপর সেই সময়ও শেষ হলে স্পীকার বলেন আগামী বছরের জন্য প্র্যাকটিস করতে থাকেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি একদিকে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আসেন অন্যদিকে প্রশংসিত হন।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য জীবা আমিনা জুন বাজেট আলোচনার সময় কথা বলার ধরনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ভাইরাল হয়। কারণ এর আগে বিশেষ করে কোন নারী সংসদ সদস্য এভাবে অত্যন্ত সাবলীল ও স্বাভাবিক ভাবে ইংলিশে এভাবে বক্তব্য দিতে পারেনি। তবে দেশের পার্লামেন্ট তার উপস্থাপিত এই বক্তব্যে দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন ভুয়া আইডি দিয়ে অপপ্রচার ও ট্রল করেছে। জানা গেছে এই মহলটি তার মনোনয়নের বিরোধিতা করে নির্বাচন কমিশন, হাইকোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্ট করেও মনোনয়ন ঠেকাতে পারেনি। সকল অভিযোগ যাচাই বাছাই করে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয়।
এরাই তাকে ২৪ আগস্টের পর বিভিন্ন মিথ্যা কল্পকাহিনী সাজিয়ে একই ভাবে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। যাতে তিনি এমপি মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো গুলশানে তার নিজ বাড়ীটি দখল করতে গিয়ে বরং হয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের কল্পকাহিনী সাজায় এবং ভুয়া আইডিতে অপপ্রচার চালায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হাত থাকায় জীবা আমিনা আল গাজীর মনোনয়ন ঠেকাতে পারেনি। এই মহলটি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে গিয়ে তাকে আরও পরিচিতি করেছেন বিশ্বের কাছে। অন্যদিকে সমালোচনা ও হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে অপপ্রচার করা স্বার্থান্বেষী মহল। এমনটাই মনে করেন জীবা আমিনা আল গাজী ও তার দলীয় সমর্থকরা।
জীবা আমিনা আল গাজী পড়াশুনা করেন লন্ডনে। সেখান থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার সাথে রাজনীতিতে মাঠে থেকে একাধিক মামলার আসামী ও গ্রেফতার হন ঢাকায়।
জীবা আমিনা কোন অনিয়ম বা দুর্নীতির সাথে জড়িত না থাকায় ২০১৮ সনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেলে ঝালকাঠি-২ আসনে আওয়ামিলীগের এমপি আমির হোসেন আমুর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ঐ সময় তার দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে জীবা আমিনাকে হামলা ও আহত করে তার গাড়ি ভাঙচুর করে মাঠ থেকে উঠাতে পারেননি। ঐ সময় জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী মতিয়া জুয়েলসহ মহিলা দলের এবং কর্মী সমর্থকরা হামলায় গুরুতর আহত হন। ঝালকাঠি ও নলছিটি দুটি আসনেই তার উপর হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সেই নির্বাচনে তাকে হারানো হলেও তিনি আমুর সাথে ভোটের দিন পর্যন্ত সাহসের সাথে লড়ে গেছেন। সেই থেকেই ব্যারিস্টার আখতার উদ্দীনের মেয়ে জীবা আমীনাকে এ আসনের মানুষ একজন সাহসী নারী রাজনীতিবিদ হিসেবে চিনেন। এরপর এই স্বার্থান্বেষী মহল আওয়ামীলীগ সরকারের সহায়তায় তাকে দেশে ত্যাগে বাধ্য করে। কিছুদিন তিনি দেশের বাইরে থাকলেও ২৪ আগস্ট স্বৈরাচার সরকার পতনের পর আবার বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতিতে যোগ দেন বলে জানান তিনি।
ইংলিশের সাথে বাংলায় বক্তব্যের বিষয়ে জীবা আমীনা আল গাজী বলেন, যে খানে প্রয়োজন বাংলা বলেছি তাতে ভুলের কিছুই নেই। আমিতো সঠিক বাংলা বলেছি। বাংলায় তো কোন ভুল বলিনি। মূল বিষয় হলো এটা যার যে ভাবে চিন্তাধারা সে সেভাবে নিবে। ডার্ট রোড, আনপেইড রোড বললে অনেকেই বুঝতো না।