সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত ১ বিজয়নগরে শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই সবুজ হবে বাংলাদেশ— বাবুগঞ্জের কেদারপুরে ইয়াবাসহ যুবক আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক ঘোড়াঘাটে দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে ব্র্যাকের ২০০ ফলজ চারা প্রদান বিষখালী নদীতে অভিযান: ৭ লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার ও ধ্বংস বাবুগঞ্জে গাঁজা সহ প্রবাসী আটক ​ ​ঝালকাঠিতে নানা আয়োজনে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ​ কাঠালিয়ায় ৫০ কেজি ও ৩৯ পোটলা গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১: মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের বড় সাফল্য

বিরামপুরে রাতের আঁধারে ৫০ মণ বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে প্রায় ৫০ মণ বোরো ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে বিরামপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাসুদ রানা বিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিরামপুর পৌর এলাকার পুরাতন বাজার মন্দিরের পিছন এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাহমুদুল হক ও তার সহযোগীদের সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।অভিযোগকারী দাবি করেন, চড়াইভিটা মৌজার জেএল নং-৮২, খতিয়ান নং-২০৯, দাগ নং-৫১০-এর ৬৬ শতক জমির বৈধ মালিক তিনি এবং জমিটির সকল হালনাগাদ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,জমিটি অভিযোগকারীর বসতবাড়ি থেকে দূরে হওয়ায় তিনি স্থানীয় কৃষক মোঃ বুলবুল আহম্মেদের কাছে বর্গা হিসেবে চাষাবাদের জন্য দেন। চলতি ইরি মৌসুমে ওই জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয় এবং সম্প্রতি ধান কর্তনের উপযোগী হয়ে ওঠে।অভিযোগ অনুযায়ী,গত ১ জুন দিবাগত গভীর রাতে বিবাদীপক্ষ হারভেস্টার মেশিন নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে ধান কাটতে শুরু করে। গভীর রাতে হারভেস্টার মেশিনের শব্দ শুনে বর্গা চাষি মোঃ বুলবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান,কয়েকজন ব্যক্তি হারভেস্টার দিয়ে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,জমিতে থাকা বাবু জিরা জাতের ধানের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৫০ মণ,যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার অনুমতি ছাড়াই এসব ধান কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বর্গা চাষি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে বিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঘটনার সত্যতা যাচাই করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, ঘটনার পর বিবাদীপক্ষ তাকে এবং তার পক্ষে থাকা বর্গা চাষি ও অন্যান্য লোকজনকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবাদ বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে চড়াইভিটা গ্রামের মোঃ বুলবুল এবং মঙ্গলপুর এলাকার মোঃ দিলদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় আরও অনেকে ঘটনাটি দেখেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।এ বিষয়ে অভিযোগকারী মোঃ মাসুদ রানা বলেন,“আমি বৈধভাবে জমিটির মালিক। জমির সব কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছে। অবশেষে রাতের অন্ধকারে আমার জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে বিরামপুর থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়,লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, ফসল নষ্ট ও দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা জরুরি বলে তারা মনে করেন। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিরামপুরে রাতের আঁধারে ৫০ মণ বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

আপডেট সময় : ০৬:৫১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে প্রায় ৫০ মণ বোরো ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে বিরামপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাসুদ রানা বিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিরামপুর পৌর এলাকার পুরাতন বাজার মন্দিরের পিছন এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাহমুদুল হক ও তার সহযোগীদের সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।অভিযোগকারী দাবি করেন, চড়াইভিটা মৌজার জেএল নং-৮২, খতিয়ান নং-২০৯, দাগ নং-৫১০-এর ৬৬ শতক জমির বৈধ মালিক তিনি এবং জমিটির সকল হালনাগাদ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,জমিটি অভিযোগকারীর বসতবাড়ি থেকে দূরে হওয়ায় তিনি স্থানীয় কৃষক মোঃ বুলবুল আহম্মেদের কাছে বর্গা হিসেবে চাষাবাদের জন্য দেন। চলতি ইরি মৌসুমে ওই জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয় এবং সম্প্রতি ধান কর্তনের উপযোগী হয়ে ওঠে।অভিযোগ অনুযায়ী,গত ১ জুন দিবাগত গভীর রাতে বিবাদীপক্ষ হারভেস্টার মেশিন নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে ধান কাটতে শুরু করে। গভীর রাতে হারভেস্টার মেশিনের শব্দ শুনে বর্গা চাষি মোঃ বুলবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান,কয়েকজন ব্যক্তি হারভেস্টার দিয়ে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,জমিতে থাকা বাবু জিরা জাতের ধানের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৫০ মণ,যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার অনুমতি ছাড়াই এসব ধান কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বর্গা চাষি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে বিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঘটনার সত্যতা যাচাই করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, ঘটনার পর বিবাদীপক্ষ তাকে এবং তার পক্ষে থাকা বর্গা চাষি ও অন্যান্য লোকজনকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবাদ বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে চড়াইভিটা গ্রামের মোঃ বুলবুল এবং মঙ্গলপুর এলাকার মোঃ দিলদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় আরও অনেকে ঘটনাটি দেখেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।এ বিষয়ে অভিযোগকারী মোঃ মাসুদ রানা বলেন,“আমি বৈধভাবে জমিটির মালিক। জমির সব কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছে। অবশেষে রাতের অন্ধকারে আমার জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে বিরামপুর থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়,লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, ফসল নষ্ট ও দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা জরুরি বলে তারা মনে করেন। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।