২৫ মে ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, সোমবার, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
সর্বশেষ সংবাদ :
বরিশালে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের অভিযান ১৬৬ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বরিশালে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রতারণার শিকার লিজা সিদ্দিক দম্পতি কাগজে ছুটিতে থাকলে বাস্তবে ছিলেন কারাগারে কেদারপুরে ঈদ উপহারের চাল পেল ১৪৯৪ টি পরিবার বাবুগঞ্জে ইউপি প্রশাসকের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা ‘অপপ্রচার’ দাবি প্রশাসকের। ঘোড়াঘাটে ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল ৩ যুবকের দেহেরগতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে মোঃ আবদুল আলিমের প্রার্থীতা ঘোষণা, জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার। গলাচিপায় রামিসা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন বরিশালে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের বক্তব্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব : জয়নুল আবেদিন।
বাবুগঞ্জে ইউপি প্রশাসকের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা ‘অপপ্রচার’ দাবি প্রশাসকের।

বাবুগঞ্জে ইউপি প্রশাসকের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা ‘অপপ্রচার’ দাবি প্রশাসকের।

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি ঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের বিরুদ্ধে আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন, জনগণের করের টাকার স্বচ্ছতা না রাখা, ইউপি সদস্যদের মাসিক সম্মানী বকেয়া রাখা এবং উন্নয়নমূলক কাজের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে বক্তব্য দিয়েছেন কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. লুৎফুর রহমান সেলিম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত লাইভ ভিডিও সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মে রাতে নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিযুক্ত প্রশাসক ও বাবুগঞ্জ উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। লাইভের একপর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় জনগণের প্রতি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

ফেসবুক লাইভের পর বিষয়টি এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে শনিবার (২৩ মে) কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, গত ১৩ নভেম্বর ২০২৪ সালে আমাকে কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ফারুক আহমেদের বরাদ্দ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এসব প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রবেশদ্বারের গেট নির্মাণ, ওয়াশরুম সংস্কার, কম্পিউটার ও প্রিন্টার ক্রয়, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ভবন রং করা, ফুলের বাগান স্থাপন, আইপিএস ক্রয় এবং প্রশাসক ও সদস্যদের কক্ষে টাইলস স্থাপনসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রশাসক শরিফুল ইসলাম বলেন, এসব প্রকল্পের কাজ স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে পিআইসি (Project Implementation Committee) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিজেও তদারকি করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে গেলে এসব কাজ দৃশ্যমানভাবে দেখা যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইউপি সদস্যদের সম্মানী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজস্ব খাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় কয়েক মাস ধরে স্থানীয় অংশের সম্মানী বকেয়া রয়েছে। তবে সরকারি অংশের সম্মানী নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে তা সময়মতো প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ইউপি সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মুসা আলী বলেন, রাজস্ব খাতে টাকা না থাকায় কয়েক মাসের সম্মানী আমরা পাইনি। তবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সদস্যদের ভালো-মন্দের বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক।

অন্যদিকে, প্রশাসক শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান সেলিম ব্যক্তিগতভাবে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে অন্যান্য সদস্যদের অনুরোধে তাকে সাধারণ ক্ষমা করা হয় বলে জানান প্রশাসক।

তিনি আরও বলেন, পরিষদের অভ্যন্তরীণ বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তবে অভিযোগকারী ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান সেলিম বলেন, আমি যেসব অভিযোগ করেছি, সবই সত্য। আরও নতুন তথ্য-প্রমাণ নিয়ে শিগগিরই সামনে আসব।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019