২৫ মে ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, সোমবার, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আন্তর্জাতিক নিউজ:
প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে বোঝা নয়, বরং মূল্যবান মানবসম্পদ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত World Economic Forum-এর “হেলদি লংজেভিটি ওয়ার্কস্ট্রিম” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য শুধু দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করার বিষয় নয়; বরং সুস্থ, উৎপাদনশীল, মর্যাদাপূর্ণ ও উদ্দেশ্যময় জীবন নিশ্চিত করার বিষয়।
জেনেভায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতিতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা ২০০ কোটির বেশি হবে। বাংলাদেশেও আগামী ২৫ বছরের মধ্যে প্রতি ছয়জন নাগরিকের একজনের বয়স হবে ৬০ বছরের বেশি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তরুণ জনগোষ্ঠী ও জনমিতিক সম্ভাবনার জন্য পরিচিত হলেও এখন দেশটিকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, নগরায়ণ ও অভিবাসনের কারণে অনেক প্রবীণ মানুষ সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছেন।
ড. হায়দার বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়। দেশে জেরিয়াট্রিক চিকিৎসাসেবা সীমিত, বয়সজনিত রোগ নির্ণয়ে কাঠামোবদ্ধ স্ক্রিনিং ব্যবস্থা নেই, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ঘাটতি রয়েছে এবং প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সংখ্যাও খুব কম। উচ্চ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যব্যয়ের কারণে বহু প্রবীণ পরিবার দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এসব চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশাল সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, প্রবীণদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক সংহতি ও কমিউনিটি স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যবিষয়ক কর্মসূচি শুধু স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, আজীবন শিক্ষা, পুনঃদক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রবীণদের কর্মক্ষম রাখার উদ্যোগ যুক্ত করতে হবে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক দেশ এখন “প্রোডাক্টিভ এজিং” মডেলে বিনিয়োগ করছে, যেখানে প্রবীণরা মেন্টরশিপ, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, ডিজিটাল কর্মক্ষেত্র ও কমিউনিটি সেবায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “‘এজিং অ্যাজ ডিপেনডেন্সি’ বা বার্ধক্য মানেই নির্ভরশীলতা—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ‘এজিং অ্যাজ কন্ট্রিবিউশন’ বা বার্ধক্য মানেই অবদান—এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।”
ড. হায়দার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রবীণবান্ধব, প্রতিরোধমূলক ও কমিউনিটিভিত্তিক করার পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য পুষ্টি, ডিজিটাল দক্ষতা, আর্থিক শিক্ষা ও অভিযোজনভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য কেবল স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়; এটি অর্থনীতি, শ্রমবাজার, সামাজিক সংহতি ও মানবিক মর্যাদার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। ভবিষ্যতে সেই দেশগুলোই সফল হবে, যারা সব প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবে।