১৮ মে ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি, সোমবার, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বরিশাল জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাবুগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. ফরিদ আহমেদ। অবহেলিত বাবুগঞ্জ উপজেলাকে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলায় রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান বলে জানিয়েছেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা গ্রামের দরবেশ বাড়ির সন্তান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আলহাজ্ব মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে। শিক্ষাজীবনে তিনি মাধবপাশা ইউনিয়নের চন্দ্রদ্বীপ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় ইন্দোনেশিয়ার নেম স্কলার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও দেশের সুপরিচিত আমদানিকারক। বিদেশ থেকে কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট আমদানির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে সফলতা অর্জন করেছেন। ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানের জনক। ছাত্রজীবনে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত থাকলেও সক্রিয় ছাত্ররাজনীতিতে জড়াননি। তবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ২০০৪ সালে তিনি “ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি” নামে একটি সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এবং বর্তমানে সংগঠনটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের বইপত্র ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, দুস্থ পরিবারের সহায়তা এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এলাকায় ইতোমধ্যে প্রশংসা অর্জন করেছেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দেন ফরিদ আহমেদ। পরে তিনি বরিশাল জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হন। একইসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করছেন।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ বলেন,
“বরিশাল জেলা শহরের খুব কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও বাবুগঞ্জ উপজেলা এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আমি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সকল ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক মত ও পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত বাবুগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অদূর ভবিষ্যতে বাবুগঞ্জকে শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব এলাকায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি চায় বাবুগঞ্জকে সম্ভাবনাময় একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন হিসেবে গড়ে তুলতে।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিকল্পিত নগরায়ণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা বাবুগঞ্জকে নতুন প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও উন্নত উপজেলায় পরিণত করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, উচ্চশিক্ষা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনায় উঠে এসেছেন ফরিদ আহমেদ। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।