সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

বিরামপুর পৌরসভা নকশা অনুমোদনে ‘ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শফিকুল ইসলাম ,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভায় গৃহনির্মাণের নকশা অনুমোদনকে কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দাপ্তরিক হয়রানির অভিযোগে চাপে পড়েছে পৌর প্রশাসন। পৌরসভার নকশাকার এম রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ লাবণী খাতুন পৌর প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে বলেন, গৃহনির্মাণ ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় নকশা অনুমোদনের আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় ধরে তার ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয়। সরকারি নির্ধারিত ফি যথাযথভাবে পরিশোধের পরও “মিটিং বাবদ” অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নকশা অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বাক্ষরের কথা বলে প্রতি স্বাক্ষরে ১০ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়। একই সময়ে আবেদন করা অন্য একজনের নকশা দ্রুত অনুমোদন পেলেও তার আবেদন দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। এতে তার গৃহনির্মাণ কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ প্রক্রিয়াও জটিলতায় পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিরামপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, দালালচক্রের প্রভাব ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা চলে আসছে। সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পৌরসভার নক্সাকার এস এম রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে।”
অন্যদিকে পৌর প্রশাসক তানজিনা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সচেতন নাগরিকদের দাবি, পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নকশা অনুমোদনের নামে কোনো ধরনের ঘুষ, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিরামপুর পৌরসভা নকশা অনুমোদনে ‘ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:৪০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

শফিকুল ইসলাম ,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভায় গৃহনির্মাণের নকশা অনুমোদনকে কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দাপ্তরিক হয়রানির অভিযোগে চাপে পড়েছে পৌর প্রশাসন। পৌরসভার নকশাকার এম রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ লাবণী খাতুন পৌর প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে বলেন, গৃহনির্মাণ ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় নকশা অনুমোদনের আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় ধরে তার ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয়। সরকারি নির্ধারিত ফি যথাযথভাবে পরিশোধের পরও “মিটিং বাবদ” অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নকশা অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বাক্ষরের কথা বলে প্রতি স্বাক্ষরে ১০ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়। একই সময়ে আবেদন করা অন্য একজনের নকশা দ্রুত অনুমোদন পেলেও তার আবেদন দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। এতে তার গৃহনির্মাণ কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ প্রক্রিয়াও জটিলতায় পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিরামপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, দালালচক্রের প্রভাব ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা চলে আসছে। সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পৌরসভার নক্সাকার এস এম রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে।”
অন্যদিকে পৌর প্রশাসক তানজিনা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সচেতন নাগরিকদের দাবি, পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নকশা অনুমোদনের নামে কোনো ধরনের ঘুষ, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।