সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

বিরামপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণ: দীর্ঘদিনেও মেলেনি সন্ধান, সন্তানকে ফিরে পেতে আকুতি পরিবারের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক নাবালিকা স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভিকটিমের সন্ধান না মেলায় হতাশা ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শৈলান গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রব্বানী তার ১৪ বছর বয়সী কন্যা মোছাঃ কনিকা আক্তার মৌকে অপহরণের অভিযোগ এনে আদালতের শরণাপন্ন হন। ভিকটিম স্থানীয় কাটলা হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, জীবিকার তাগিদে ভিকটিমের বাবা-মা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করায় মেয়েটি গ্রামের বাড়িতে নানীর সঙ্গে বসবাস করত। সেই সুযোগে স্থানীয় যুবক নয়ন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তকে সতর্ক করলেও সে তার আচরণ থেকে সরে আসেনি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ভিকটিমের নানী বাড়িতে না থাকার সুযোগে কয়েকজন অভিযুক্ত বাড়ির সামনে আসে। তারা ভিকটিমকে নাম ধরে ডাকলে সে বাইরে বের হয়। পরে প্রধান অভিযুক্ত নয়ন ইসলামসহ অন্যরা জোরপূর্বক তার মুখ চেপে ধরে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় ভিকটিমের এক আত্মীয় বিষয়টি দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করেন। তবে তার আগেই অভিযুক্তরা দ্রুত মাইক্রোবাসযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত মেয়েটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, অপহরণের পর থেকেই অভিযুক্তদের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
বাদীপক্ষের আশঙ্কা, অপহরণের পর ভিকটিমকে জোরপূর্বক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়ে থাকতে পারে।
মামলার বাদী জানান, ঘটনার দুই দিন পর বিরামপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সঙ্গে ভিকটিমের জন্মনিবন্ধনের কপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভিকটিমকে উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
ভুক্তভোগী পরিবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, “অনেক দিন হয়ে গেল, এখনো আমাদের মেয়েকে ফিরে পাইনি। আসামিরাও ধরা পড়েনি। আমরা শুধু আমাদের সন্তানকে ফিরে চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের আরও সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিরামপুর থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে কোনো কার্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
বর্তমানে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিরামপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণ: দীর্ঘদিনেও মেলেনি সন্ধান, সন্তানকে ফিরে পেতে আকুতি পরিবারের

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক নাবালিকা স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভিকটিমের সন্ধান না মেলায় হতাশা ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শৈলান গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রব্বানী তার ১৪ বছর বয়সী কন্যা মোছাঃ কনিকা আক্তার মৌকে অপহরণের অভিযোগ এনে আদালতের শরণাপন্ন হন। ভিকটিম স্থানীয় কাটলা হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, জীবিকার তাগিদে ভিকটিমের বাবা-মা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করায় মেয়েটি গ্রামের বাড়িতে নানীর সঙ্গে বসবাস করত। সেই সুযোগে স্থানীয় যুবক নয়ন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তকে সতর্ক করলেও সে তার আচরণ থেকে সরে আসেনি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ভিকটিমের নানী বাড়িতে না থাকার সুযোগে কয়েকজন অভিযুক্ত বাড়ির সামনে আসে। তারা ভিকটিমকে নাম ধরে ডাকলে সে বাইরে বের হয়। পরে প্রধান অভিযুক্ত নয়ন ইসলামসহ অন্যরা জোরপূর্বক তার মুখ চেপে ধরে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় ভিকটিমের এক আত্মীয় বিষয়টি দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করেন। তবে তার আগেই অভিযুক্তরা দ্রুত মাইক্রোবাসযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত মেয়েটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, অপহরণের পর থেকেই অভিযুক্তদের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
বাদীপক্ষের আশঙ্কা, অপহরণের পর ভিকটিমকে জোরপূর্বক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়ে থাকতে পারে।
মামলার বাদী জানান, ঘটনার দুই দিন পর বিরামপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সঙ্গে ভিকটিমের জন্মনিবন্ধনের কপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভিকটিমকে উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
ভুক্তভোগী পরিবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, “অনেক দিন হয়ে গেল, এখনো আমাদের মেয়েকে ফিরে পাইনি। আসামিরাও ধরা পড়েনি। আমরা শুধু আমাদের সন্তানকে ফিরে চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের আরও সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিরামপুর থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে কোনো কার্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
বর্তমানে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।