সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।

বাবুগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আলোচনা: তৃণমূলের পছন্দ ইসরত হোসেন কচি তালুকদার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি ঃ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আগামীর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

দলীয় সূত্র ও তৃণমূল পর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নেতাকর্মীরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি এবং বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ইসরত হোসেন কচি তালুকদার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, ইসরত হোসেন কচি তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। ছাত্রজীবনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে বাবুগঞ্জের সরকারি আবুল কালাম কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে কাউন্সিলের মাধ্যমে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালেও পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ২০২২ সালে তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি প্রায় দুই ডজন মামলার শিকার হন। একাধিকবার গ্রেফতার, কারাভোগ এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে অবিচল থেকেছেন।

এছাড়াও তিনি বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। তিনি দীর্ঘদিন বাবুগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রহমতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং মোহনগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দলীয় নেতারা জানান, ১/১১-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থির সময়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে তৃণমূল নেতাকর্মীরা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে এবং দলীয় কার্যক্রমে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের প্রত্যাশা অনুযায়ী অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে ইসরত হোসেন কচি তালুকদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে মাঠপর্যায়ে আলোচনা ও সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাবুগঞ্জে দলীয় মনোনয়ন ও তৃণমূলের সমর্থনই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে ইসরত হোসেন কচি তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতি করে আসছেন এবং সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। দলের দুর্দিনে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং তৃণমূল নেতাকর্মীরা সমর্থন করেন, তাহলে আমি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। জনগণের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, বাবুগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। একই সঙ্গে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে সম্মান করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাবুগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আলোচনা: তৃণমূলের পছন্দ ইসরত হোসেন কচি তালুকদার

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি ঃ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আগামীর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

দলীয় সূত্র ও তৃণমূল পর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নেতাকর্মীরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি এবং বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ইসরত হোসেন কচি তালুকদার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, ইসরত হোসেন কচি তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। ছাত্রজীবনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে বাবুগঞ্জের সরকারি আবুল কালাম কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে কাউন্সিলের মাধ্যমে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালেও পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ২০২২ সালে তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি প্রায় দুই ডজন মামলার শিকার হন। একাধিকবার গ্রেফতার, কারাভোগ এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে অবিচল থেকেছেন।

এছাড়াও তিনি বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। তিনি দীর্ঘদিন বাবুগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রহমতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং মোহনগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দলীয় নেতারা জানান, ১/১১-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থির সময়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে তৃণমূল নেতাকর্মীরা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে এবং দলীয় কার্যক্রমে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের প্রত্যাশা অনুযায়ী অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে ইসরত হোসেন কচি তালুকদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে মাঠপর্যায়ে আলোচনা ও সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাবুগঞ্জে দলীয় মনোনয়ন ও তৃণমূলের সমর্থনই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে ইসরত হোসেন কচি তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতি করে আসছেন এবং সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। দলের দুর্দিনে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং তৃণমূল নেতাকর্মীরা সমর্থন করেন, তাহলে আমি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। জনগণের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, বাবুগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। একই সঙ্গে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে সম্মান করবেন বলেও উল্লেখ করেন।