সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সুইজগেট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনি – জয়নুল আবেদীন এমপি বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক কাঁঠালিয়ায় ৮ পিস ইয়াবাসহ কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আটক ও স্থায়ী বহিষ্কার

বাবুগঞ্জে টপ সয়েল সিন্ডিকেট: কৃষিজমি নষ্ট করে ইটভাটায় মাটি বিক্রি ; ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ৮০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাইফুল ইসলাম,বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি ঃ
বাবুগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃষিজমির উর্বর টপ সয়েল কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গোপনে পরিচালিত এ কার্যক্রমের ফলে একদিকে যেমন কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মাটি বাণিজ্যের সঙ্গে একাধিক পক্ষ জড়িত। প্রথমত, কিছু ভূমির মালিক গোপন চুক্তির মাধ্যমে তাদের জমির মাটি নির্দিষ্ট দামে ট্রাকপ্রতি বিক্রি করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা মাছের ঘের তৈরির অজুহাতে জমির মাটি কাটার অনুমতি দেন। এতে জমির মালিকদের দ্বৈত লাভ হয়, একদিকে বিনা খরচে ঘের তৈরি হয়, অন্যদিকে অতিরিক্ত মাটি বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন।

দ্বিতীয়ত, মাটি কাটার কাজে জড়িত বেকু (খননযন্ত্র) ও ট্রাক মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের গোপন সমঝোতা থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের কাজ হলো মাটি বোঝাই ট্রাকগুলো যেন নির্বিঘ্নে সড়ক ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ইটভাটায় পৌঁছাতে পারে তা নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে তারা জমির মালিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায় করে থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এক ধরনের সংগঠিত চাঁদাবাজি।

এদিকে ইটভাটার মালিকরা সরাসরি দৃশ্যপটে না থাকলেও তাদের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ট্রাক ও বেকু মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ মাটি ইটভাটায় পৌঁছালে তবেই তারা মূল্য পরিশোধ করে থাকে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এই মাটি পরিবহনের জন্য সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ট্রাক ও ভারী যানবাহন গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে। এতে করে নতুন নির্মিত ও পুরনো সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর অপচয় ঘটছে এবং স্থানীয় জনগণ দুর্ভোগে পড়ছেন।

প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেক সময় হুমকি-ধমকি এমনকি হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে অনেক সময় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা ইতোমধ্যেই এ ধরনের অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সচেতন মহলের মতে, কৃষিজমি রক্ষা, গ্রামীণ সড়ক সংরক্ষণ এবং অবৈধ মাটি বাণিজ্য বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের উচিত তাদের কর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করা।

স্থানীয়রা মনে করেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়লে বাবুগঞ্জে কৃষিজমি রক্ষা ও অবৈধ মাটি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাবুগঞ্জে টপ সয়েল সিন্ডিকেট: কৃষিজমি নষ্ট করে ইটভাটায় মাটি বিক্রি ; ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক।

আপডেট সময় : ০৮:০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

সাইফুল ইসলাম,বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি ঃ
বাবুগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃষিজমির উর্বর টপ সয়েল কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গোপনে পরিচালিত এ কার্যক্রমের ফলে একদিকে যেমন কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মাটি বাণিজ্যের সঙ্গে একাধিক পক্ষ জড়িত। প্রথমত, কিছু ভূমির মালিক গোপন চুক্তির মাধ্যমে তাদের জমির মাটি নির্দিষ্ট দামে ট্রাকপ্রতি বিক্রি করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা মাছের ঘের তৈরির অজুহাতে জমির মাটি কাটার অনুমতি দেন। এতে জমির মালিকদের দ্বৈত লাভ হয়, একদিকে বিনা খরচে ঘের তৈরি হয়, অন্যদিকে অতিরিক্ত মাটি বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন।

দ্বিতীয়ত, মাটি কাটার কাজে জড়িত বেকু (খননযন্ত্র) ও ট্রাক মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের গোপন সমঝোতা থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের কাজ হলো মাটি বোঝাই ট্রাকগুলো যেন নির্বিঘ্নে সড়ক ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ইটভাটায় পৌঁছাতে পারে তা নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে তারা জমির মালিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায় করে থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এক ধরনের সংগঠিত চাঁদাবাজি।

এদিকে ইটভাটার মালিকরা সরাসরি দৃশ্যপটে না থাকলেও তাদের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ট্রাক ও বেকু মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ মাটি ইটভাটায় পৌঁছালে তবেই তারা মূল্য পরিশোধ করে থাকে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এই মাটি পরিবহনের জন্য সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ট্রাক ও ভারী যানবাহন গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে। এতে করে নতুন নির্মিত ও পুরনো সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর অপচয় ঘটছে এবং স্থানীয় জনগণ দুর্ভোগে পড়ছেন।

প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেক সময় হুমকি-ধমকি এমনকি হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে অনেক সময় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা ইতোমধ্যেই এ ধরনের অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সচেতন মহলের মতে, কৃষিজমি রক্ষা, গ্রামীণ সড়ক সংরক্ষণ এবং অবৈধ মাটি বাণিজ্য বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের উচিত তাদের কর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করা।

স্থানীয়রা মনে করেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়লে বাবুগঞ্জে কৃষিজমি রক্ষা ও অবৈধ মাটি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।