১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, বুধবার, ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
সর্বশেষ সংবাদ :
বানারী পাড়ায় জমি সংক্রান্তের জেরে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ। নেশার টাকার জন্য বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে নতুন দায়িত্বে সদ্য সাবেক প্রেস ও ডেপুটি প্রেস সচিব জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা বিএনপির, আসামি ১ হাজার ৪৪ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপি সরকারের ২৫ মন্ত্রীর শপথ,নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পাচ্ছেন সুন্দরবনে দস্যু তৎপরতা বঙ্গোপসাগর থেকে ২০ জেলে অপহরণ বিজয়নগরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সংস্কৃতি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে. জীবননগরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বাবুগঞ্জে তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা সহজতর করতে এডভোকেসি সভা শাপলা কলি’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় চাকরি হারালেন মসজিদের খতিব
আপু’ বলায় ক্ষেপে গেলেন ইউএনও

আপু’ বলায় ক্ষেপে গেলেন ইউএনও

আজকের ক্রাইম ডেক্স

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ বলাকে কেন্দ্র করে এক অনুষ্ঠানের আয়োজকের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘রয়েল ফুটবল একাডেমি’র ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি একটি চড়ুইভাতি (পিকনিক) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি শেষ হতে রাত প্রায় ১২টা বেজে গেলে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করে কৈফিয়ত তলব করেন।

ফোনালাপের এক পর্যায়ে মেহেরবান মিঠু অনুষ্ঠান দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘এখনই শেষ হয়ে যাবে, আপু।’ অভিযোগ উঠেছে, এই ‘আপু’ সম্বোধন শুনেই চরম ক্ষুব্ধ হন ইউএনও।

ফোনালাপের একটি অংশে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনার আপু নই; ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন। অনুমতি নেওয়ার সময় তো এত রাত হওয়ার কথা ছিল না।’

ইউএনওর এমন কঠোর মনোভাবের মুখে মিঠু তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন।

রয়েল ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, “নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি হওয়ায় আমি বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে ‘আপু’ বলেছিলাম। কিন্তু এতে তিনি যে এতটা ক্ষুব্ধ হবেন, তা ভাবিনি। বিষয়টি আমাদের ক্লাবের প্রতিটি সদস্যকে ব্যথিত করেছে।”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান দাবি করেন, ‘আপু বলার কারণে আমি রাগ করিনি। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলছিল, যার অনুমতি ছিল না। তাই আমি কেবল অনুষ্ঠানটি বন্ধ করতে বলেছি। পুরো বিষয়টি এখন ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ডাকার কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই এবং ‘আপু’ একটি সম্মানসূচক ও প্রচলিত সম্বোধন। এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মকর্তাদের এমন আচরণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলার স্বার্থে কর্মকর্তাদের পদের মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।

বিষয়টি নিয়ে এখনো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, জনগণের সেবক হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও সহনশীল আচরণ করা প্রয়োজন

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019