সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

বাবুগঞ্জে সালিশ বৈঠকে হামলা — দুই সহোদর গুরুতর আহত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই সহোদর গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত আব্দুল ওহাব খানের দুই মেয়ে—মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম (৫৫) ও হাসিনা বেগম (৪২)—ওয়ারিশ সূত্রে পিতার সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ বুঝে পেতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। তাদের ভাই সোহরাব খান প্রায় ১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা পরিবারের সব সম্পত্তি দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন দুই বোন।

সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শনিবার সকালে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকের একপর্যায়ে মৃত সোহরাব খানের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ওরফে নীরু বেগম স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মো. রমজান মোল্লার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বৈঠকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় নাসিমা বেগমের দুই সন্তান—মো. নাসির উদ্দিন ও মো. নেছার উদ্দিন—প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

হামলায় দুই ভাই গুরুতর আহত হন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। আহতদের পরিবার জানিয়েছে, তারা এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মৃত সোহরাব খানের স্ত্রী আমাদের আত্মীয়। আমরা তাঁর পক্ষের সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী ওয়ারিশদের অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, শুধু চুক্তিনামা দেওয়া বাকি ছিল। বৈঠকের একপর্যায়ে নাসির উদ্দিন ও নেছার উদ্দিন হট্টগোল সৃষ্টি করে আমার ওপর হামলা চালায়। তখন হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সালিশদার মো. আব্দুল হালিম বলেন, “সালিশ বৈঠকের সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে—এটি সত্য।

অন্যদিকে অভিযুক্ত নাসরিন আক্তার ওরফে নীরু বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাবুগঞ্জে সালিশ বৈঠকে হামলা — দুই সহোদর গুরুতর আহত

আপডেট সময় : ১২:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই সহোদর গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত আব্দুল ওহাব খানের দুই মেয়ে—মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম (৫৫) ও হাসিনা বেগম (৪২)—ওয়ারিশ সূত্রে পিতার সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ বুঝে পেতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। তাদের ভাই সোহরাব খান প্রায় ১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা পরিবারের সব সম্পত্তি দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন দুই বোন।

সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শনিবার সকালে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকের একপর্যায়ে মৃত সোহরাব খানের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ওরফে নীরু বেগম স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মো. রমজান মোল্লার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বৈঠকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় নাসিমা বেগমের দুই সন্তান—মো. নাসির উদ্দিন ও মো. নেছার উদ্দিন—প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

হামলায় দুই ভাই গুরুতর আহত হন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। আহতদের পরিবার জানিয়েছে, তারা এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মৃত সোহরাব খানের স্ত্রী আমাদের আত্মীয়। আমরা তাঁর পক্ষের সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী ওয়ারিশদের অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, শুধু চুক্তিনামা দেওয়া বাকি ছিল। বৈঠকের একপর্যায়ে নাসির উদ্দিন ও নেছার উদ্দিন হট্টগোল সৃষ্টি করে আমার ওপর হামলা চালায়। তখন হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সালিশদার মো. আব্দুল হালিম বলেন, “সালিশ বৈঠকের সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে—এটি সত্য।

অন্যদিকে অভিযুক্ত নাসরিন আক্তার ওরফে নীরু বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।