সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।

ঘোড়াঘাটে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএন‘ও রফিকুল ইসলাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম।
দীর্ঘ দেড় যুগ পরিত্যক্ত বিএস কোয়ার্টারে নিরাপত্তাহীন ও মানবেতর জীবন যাপনের পর ইউএন‘ও‘র দেওয়া একটি পাকা সরকারি ঘর পেল ঘোড়াঘাটের সেই স্বামী পরিত্যক্তা গৃহহীন রাহেলা বেগম। সরকারি ঘর পেয়ে খুশি রাহেলা।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের স্বামী পরিত্যক্তা গৃহহীন রাহেলা বেগম একটি পাকা সরকারি ঘর পেয়ে বেশ সুখেই দিনাতিপাত করছেন।
জানা গেছে, বৃদ্ধা রাহেলার প্রথম স্বামী চান মিয়া এক ছেলে সন্তান রেখে মারা গেলে উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের শুকরান আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামের সাথে রাহেলার বিয়ে হয়।

এরপর দ্বিতীয় স্বামীর সংসারেও তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়। রাহেলা বিয়ের ৩/৪ বছর পর ১ম স্বামীর ছেলে আব্দুর রহিমের বিয়ে দেন। এক বছর পর রহিমও একটি পুত্র সন্তান লাভ করে। রহিমের ছেলের বয়স যখন ২ বছর তখন সেও মারা যায়।
এ সময় রাহেলার ২য় স্বামীর সন্তান বাবলু মিয়ার বয়স ৬ বছর। বিয়ের ৬ বছর সংসার করার পর স্ত্রী-সন্তানকে রেখে নিরুদ্ধেশ হয় রাহেলার ২য় স্বামী শহিদুল।

এ সময় ঘরে এক পুত্র ও এক নাতির ভরণ পোষণের দায়িত্ব পড়ে যায়। রাহেলা জীবন জীবিকার তাগিদে সাত পাড়া গ্রাম থেকে দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান ও ১ম পক্ষের মৃত সন্তানের ছেলে আমিরুল ইসলামকে নিয়ে উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজারে আসেন।

তার কোথাও থাকার স্থান না হওয়ায় রানীগঞ্জের দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামে অবস্থিত পরিত্যক্ত সিংড়া ইউনিয়ন বিএস কোয়ার্টারে আশ্রয় নেন। খসে পড়া ছাদের সিমেন্ট, বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে চুয়ে চুয়ে পড়া পানি এর মধ্যেই দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ মানবেতর ও নিরাপত্তাহীন জীবন যাপন করতে থাকে।

বিষয়টি ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের দৃষ্টি গোচর হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরবর্তীতে
উপজেলার ১নং বুলাকিপুর ইউনিয়নের হরিপাড়া বাজারের পশ্চিমে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গৃহহীন রাহেলা বেগমকে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ঘর ও ঘরের চাবি নিজে হস্তান্তর করেন।

রাহেলা বেগমের সাথে কথা হলে জানান, ‘আমি এখন অনেক সুখে আছি। জীবন যাপনের নিরাপত্তা পেয়েছি। বাকি জীবনটা আপনাদেরকে দোয়া করেই যাবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমি পূর্ব থেকেই অবগত ছিলাম। পরবর্তীতে আপনাদের মাধ্যমে আরও বিশদ জানতে পেরে সরেজমিনে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঘোড়াঘাটে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএন‘ও রফিকুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৯:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৪

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম।
দীর্ঘ দেড় যুগ পরিত্যক্ত বিএস কোয়ার্টারে নিরাপত্তাহীন ও মানবেতর জীবন যাপনের পর ইউএন‘ও‘র দেওয়া একটি পাকা সরকারি ঘর পেল ঘোড়াঘাটের সেই স্বামী পরিত্যক্তা গৃহহীন রাহেলা বেগম। সরকারি ঘর পেয়ে খুশি রাহেলা।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের স্বামী পরিত্যক্তা গৃহহীন রাহেলা বেগম একটি পাকা সরকারি ঘর পেয়ে বেশ সুখেই দিনাতিপাত করছেন।
জানা গেছে, বৃদ্ধা রাহেলার প্রথম স্বামী চান মিয়া এক ছেলে সন্তান রেখে মারা গেলে উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের শুকরান আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামের সাথে রাহেলার বিয়ে হয়।

এরপর দ্বিতীয় স্বামীর সংসারেও তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়। রাহেলা বিয়ের ৩/৪ বছর পর ১ম স্বামীর ছেলে আব্দুর রহিমের বিয়ে দেন। এক বছর পর রহিমও একটি পুত্র সন্তান লাভ করে। রহিমের ছেলের বয়স যখন ২ বছর তখন সেও মারা যায়।
এ সময় রাহেলার ২য় স্বামীর সন্তান বাবলু মিয়ার বয়স ৬ বছর। বিয়ের ৬ বছর সংসার করার পর স্ত্রী-সন্তানকে রেখে নিরুদ্ধেশ হয় রাহেলার ২য় স্বামী শহিদুল।

এ সময় ঘরে এক পুত্র ও এক নাতির ভরণ পোষণের দায়িত্ব পড়ে যায়। রাহেলা জীবন জীবিকার তাগিদে সাত পাড়া গ্রাম থেকে দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান ও ১ম পক্ষের মৃত সন্তানের ছেলে আমিরুল ইসলামকে নিয়ে উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজারে আসেন।

তার কোথাও থাকার স্থান না হওয়ায় রানীগঞ্জের দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামে অবস্থিত পরিত্যক্ত সিংড়া ইউনিয়ন বিএস কোয়ার্টারে আশ্রয় নেন। খসে পড়া ছাদের সিমেন্ট, বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে চুয়ে চুয়ে পড়া পানি এর মধ্যেই দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ মানবেতর ও নিরাপত্তাহীন জীবন যাপন করতে থাকে।

বিষয়টি ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের দৃষ্টি গোচর হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরবর্তীতে
উপজেলার ১নং বুলাকিপুর ইউনিয়নের হরিপাড়া বাজারের পশ্চিমে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গৃহহীন রাহেলা বেগমকে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ঘর ও ঘরের চাবি নিজে হস্তান্তর করেন।

রাহেলা বেগমের সাথে কথা হলে জানান, ‘আমি এখন অনেক সুখে আছি। জীবন যাপনের নিরাপত্তা পেয়েছি। বাকি জীবনটা আপনাদেরকে দোয়া করেই যাবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমি পূর্ব থেকেই অবগত ছিলাম। পরবর্তীতে আপনাদের মাধ্যমে আরও বিশদ জানতে পেরে সরেজমিনে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।