সংবাদ শিরোনাম ::
কাঠালিয়া আমুয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মনস্বিতা কলেজ সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি। বাবুগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, গাছের সঙ্গে ধাক্কা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা যাত্রীরা দর্শনায় কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেফতার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের জরুরি বৈঠক: অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন ও ঐক্যের সংকল্প ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা,

কান্না আহাজারি থামছেনা জসিম উদিনের মা ও স্ত্রীর বাবাকে খুঁজছে সাইফ-জান্নাত…

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুলাই ২০২৪ ৩২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥ ঢাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বরিশালের বানারীপাড়ার পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের হাফেজ মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন(৩৫)। গত ৯ দিন পেড়িয়ে গেলেও তার পরিবারে এখনও বইছে শোকের মাতম। স্ট্রোকের রোগী বৃদ্ধা মা মেহেরুন্নেছা বেগম, বিধবা স্ত্রী সুমি ও ৫ম শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়ে জান্নাতের চোখ দিয়ে অনবরত ঝড়ছে অশ্রু। তাদের বুকফাটা আর্তনাদ ও কান্না-বিলাপ কিছুতেই থামছেনা। আধো আধো বুলিতে দেড় বছর বয়সী শিশু পুত্র সাইফ সবার মাঝে বাবাকে খুঁজে ফিরছে। ১০ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাত নিহত বাবার ছবি বুকে জড়িয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে, ছুটি নিয়ে ঢাকা থেকে বাবা বাড়িতে আসলে তাদের দুই ভাই-বোনের জন্য বিভিন্ন খেলনা,খাবার ও পোশাক নিয়ে আসতেন। আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরতেন। সেই প্রিয় বাবা আর কোন দিন আসবেন না,আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরবেন না। কাকে বাবা বলে ডাকবো আমরা। এদিকে স্বামীকে হারিয়ে পাগল প্রায় সুমি বেগম । দু’চোখে তার অমানিশার ঘোর অন্ধকার। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন,স্বামীই ছিলেন তার একমাত্র অবলম্বন। নোয়াখালীতে বাবার বাড়ির অবস্থাও তার ভালো না। কিভাবে চলবে সন্তানের লেখাপড়াসহ তাদের সংসার । তিনি মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে কোটা আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংর্ঘষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন। ওই দিন রাতেই বানারীপাড়ার পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়। পরের দিন ২০ জুলাই শুক্রবার সকাল ৯টায় বাড়ির পাশে তার এক সময়ের বিদ্যাপিঠ পূর্ব সলিয়াবাকপুর দারুল উলুম হোসাইনিয়া কওমী কেরাতিয়া মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান হাওলাদের ছেলে। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় থাকতেন হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন। উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে এমএসএ ওয়ার্কসপে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন ৭ নম্বর সেক্টরে ফরহাদ অটো পার্টসের দোকানে যান মাইক্রোবাসের পার্টস কিনতে। সেখান থেকে নিজ ওয়ার্কসপে ফিরতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি । বৃদ্ধা অসুস্থ মাকে দেখভাল করতে স্ত্রী ও সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে রেখে ছিলেন জসিম উদ্দিন। সেই মাসহ স্বজনদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশের যাত্রী হলেন তিনি। ###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কান্না আহাজারি থামছেনা জসিম উদিনের মা ও স্ত্রীর বাবাকে খুঁজছে সাইফ-জান্নাত…

আপডেট সময় : ০৩:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুলাই ২০২৪

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥ ঢাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বরিশালের বানারীপাড়ার পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের হাফেজ মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন(৩৫)। গত ৯ দিন পেড়িয়ে গেলেও তার পরিবারে এখনও বইছে শোকের মাতম। স্ট্রোকের রোগী বৃদ্ধা মা মেহেরুন্নেছা বেগম, বিধবা স্ত্রী সুমি ও ৫ম শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়ে জান্নাতের চোখ দিয়ে অনবরত ঝড়ছে অশ্রু। তাদের বুকফাটা আর্তনাদ ও কান্না-বিলাপ কিছুতেই থামছেনা। আধো আধো বুলিতে দেড় বছর বয়সী শিশু পুত্র সাইফ সবার মাঝে বাবাকে খুঁজে ফিরছে। ১০ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাত নিহত বাবার ছবি বুকে জড়িয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে, ছুটি নিয়ে ঢাকা থেকে বাবা বাড়িতে আসলে তাদের দুই ভাই-বোনের জন্য বিভিন্ন খেলনা,খাবার ও পোশাক নিয়ে আসতেন। আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরতেন। সেই প্রিয় বাবা আর কোন দিন আসবেন না,আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরবেন না। কাকে বাবা বলে ডাকবো আমরা। এদিকে স্বামীকে হারিয়ে পাগল প্রায় সুমি বেগম । দু’চোখে তার অমানিশার ঘোর অন্ধকার। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন,স্বামীই ছিলেন তার একমাত্র অবলম্বন। নোয়াখালীতে বাবার বাড়ির অবস্থাও তার ভালো না। কিভাবে চলবে সন্তানের লেখাপড়াসহ তাদের সংসার । তিনি মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে কোটা আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংর্ঘষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন। ওই দিন রাতেই বানারীপাড়ার পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়। পরের দিন ২০ জুলাই শুক্রবার সকাল ৯টায় বাড়ির পাশে তার এক সময়ের বিদ্যাপিঠ পূর্ব সলিয়াবাকপুর দারুল উলুম হোসাইনিয়া কওমী কেরাতিয়া মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান হাওলাদের ছেলে। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় থাকতেন হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন। উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে এমএসএ ওয়ার্কসপে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন ৭ নম্বর সেক্টরে ফরহাদ অটো পার্টসের দোকানে যান মাইক্রোবাসের পার্টস কিনতে। সেখান থেকে নিজ ওয়ার্কসপে ফিরতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি । বৃদ্ধা অসুস্থ মাকে দেখভাল করতে স্ত্রী ও সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে রেখে ছিলেন জসিম উদ্দিন। সেই মাসহ স্বজনদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশের যাত্রী হলেন তিনি। ###