সংবাদ শিরোনাম ::
অগ্রিম সতর্কতা: শুরু হওয়ার আগেই ৭,০০০ রিংগিতের নতুন ‘ভিসা ফাঁদ’ পাকাচ্ছে সিন্ডিকেট বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সুইজগেট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনি – জয়নুল আবেদীন এমপি বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

রাজাপুরে স্কুলের ছাদের পলেস্তরাসহ ভিম ধসে ৫ ছাত্র আহত, আতঙ্কে ক্লাস বর্জন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :ঝালকাঠির রাজাপুরে ৩ নং পূর্ব সাতুরিয়াা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাসরুমের পলেস্তরাসহ ভীম ধসে পরে ৫ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার ক্লাস চলাকালিন পৌনে ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফয়সাল আজমের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ আজম, আবু বকর খানের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র লিটন খান, হেলালের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রনি হাওলাদার, মানিক আকনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ, আলমগীর হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তামিম আহত হয়েছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনার পর ওই স্কুলের প্রায় ১শ ৪৩ জন শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জণের ঘোষণা দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত শিক্ষার্থী জুনায়েদ, তারিম ও লিটন জানান, আগে থেকেই কম বেশি পলেস্তরা ভেঙে পরতো। রোববার ক্লাস চলাকালিন পৌনে ১১ টার দিকে হঠাৎ ভিমসহ অনেক স্থানের পলেস্তরা ধসে পরে বিকট শব্দ হয়। এতে ৫ শিক্ষার্থীর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘান পান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পরে এবং আতঙ্কিত হয়ে দিগবিদিক ছুটোছুটি শুরু করে। নতুন ভবন নির্মান না করা পর্যন্ত আর ওই ঝুকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করবেন না বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

অভিভাবক হানিফ, কবির ও সুলতান জানান, অনেক দিন ধরেই পলেস্তরা ভেঙে পরতো। কিন্তু কারও কোন মাথা ব্যাথা নেই। এভাবে হঠাৎ ভীম ভেঙে পরায় পর ওই স্কুলে আর কোন পড়াশোনার পরিবেশ নেই। আল্লাহ কোমলমতি শিশুদের বড় রকমের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছেন। আজকে বড় রকমের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো। বড় বড় ভীম শিশুদের মাথায় পরলে শিশুদের মৃত হতো। এর দায়ভার কে নিতো। নতুন করে স্কুলের ভবন নির্মান না করা পর্যন্ত ওই স্কুলে আর বাচ্চাদের পাঠাবো না। আজ থেকেই ওদের ক্লাস বর্জন করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছি। ৩ নং পূর্ব সাতুরিয়াা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, ২০০৪ সালে পিডিটু প্রকল্পের আওতায় স্কুলের এ ভবন নির্মান করা হয়েছিলো। ২/৩ বছর ধরেই বিভিন্ন স্থানের পলেস্তরা খসে পরা দেখে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছিলাম তারা মাঝে মাঝে এসে ঘুরে দেখে যেতেন কিন্তু ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা না করায় ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ভবনটি এখন খুবই ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বড় রকমের দুর্ঘটনার হাত থেকে বাচলেও অন্তত ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। কোনভাবেই এ স্কুলে ক্লাস করার পরিবেশ নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ভবন নির্মানের দাবি করেন তিনি।

রাজাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আক্তার হোসেন জানান, বিষয়টি শুনে ভিডিও কলে দেখেছি ওখানে যাওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষককে একটি আবেদন করতে বলা হয়েছে এবং ওই কক্ষটিতে তালা লাগিয়ে দিতে বলা হয়েছে, যাতে কোন শিক্ষার্থী ওখানে না যায়। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার পরিদর্শন করার পর ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাজাপুরে স্কুলের ছাদের পলেস্তরাসহ ভিম ধসে ৫ ছাত্র আহত, আতঙ্কে ক্লাস বর্জন

আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :ঝালকাঠির রাজাপুরে ৩ নং পূর্ব সাতুরিয়াা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাসরুমের পলেস্তরাসহ ভীম ধসে পরে ৫ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার ক্লাস চলাকালিন পৌনে ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফয়সাল আজমের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ আজম, আবু বকর খানের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র লিটন খান, হেলালের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রনি হাওলাদার, মানিক আকনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ, আলমগীর হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তামিম আহত হয়েছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনার পর ওই স্কুলের প্রায় ১শ ৪৩ জন শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জণের ঘোষণা দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত শিক্ষার্থী জুনায়েদ, তারিম ও লিটন জানান, আগে থেকেই কম বেশি পলেস্তরা ভেঙে পরতো। রোববার ক্লাস চলাকালিন পৌনে ১১ টার দিকে হঠাৎ ভিমসহ অনেক স্থানের পলেস্তরা ধসে পরে বিকট শব্দ হয়। এতে ৫ শিক্ষার্থীর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘান পান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পরে এবং আতঙ্কিত হয়ে দিগবিদিক ছুটোছুটি শুরু করে। নতুন ভবন নির্মান না করা পর্যন্ত আর ওই ঝুকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করবেন না বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

অভিভাবক হানিফ, কবির ও সুলতান জানান, অনেক দিন ধরেই পলেস্তরা ভেঙে পরতো। কিন্তু কারও কোন মাথা ব্যাথা নেই। এভাবে হঠাৎ ভীম ভেঙে পরায় পর ওই স্কুলে আর কোন পড়াশোনার পরিবেশ নেই। আল্লাহ কোমলমতি শিশুদের বড় রকমের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছেন। আজকে বড় রকমের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো। বড় বড় ভীম শিশুদের মাথায় পরলে শিশুদের মৃত হতো। এর দায়ভার কে নিতো। নতুন করে স্কুলের ভবন নির্মান না করা পর্যন্ত ওই স্কুলে আর বাচ্চাদের পাঠাবো না। আজ থেকেই ওদের ক্লাস বর্জন করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছি। ৩ নং পূর্ব সাতুরিয়াা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, ২০০৪ সালে পিডিটু প্রকল্পের আওতায় স্কুলের এ ভবন নির্মান করা হয়েছিলো। ২/৩ বছর ধরেই বিভিন্ন স্থানের পলেস্তরা খসে পরা দেখে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছিলাম তারা মাঝে মাঝে এসে ঘুরে দেখে যেতেন কিন্তু ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা না করায় ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ভবনটি এখন খুবই ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বড় রকমের দুর্ঘটনার হাত থেকে বাচলেও অন্তত ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। কোনভাবেই এ স্কুলে ক্লাস করার পরিবেশ নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ভবন নির্মানের দাবি করেন তিনি।

রাজাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আক্তার হোসেন জানান, বিষয়টি শুনে ভিডিও কলে দেখেছি ওখানে যাওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষককে একটি আবেদন করতে বলা হয়েছে এবং ওই কক্ষটিতে তালা লাগিয়ে দিতে বলা হয়েছে, যাতে কোন শিক্ষার্থী ওখানে না যায়। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার পরিদর্শন করার পর ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।