সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত ১ বিজয়নগরে শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই সবুজ হবে বাংলাদেশ— বাবুগঞ্জের কেদারপুরে ইয়াবাসহ যুবক আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক ঘোড়াঘাটে দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে ব্র্যাকের ২০০ ফলজ চারা প্রদান বিষখালী নদীতে অভিযান: ৭ লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার ও ধ্বংস বাবুগঞ্জে গাঁজা সহ প্রবাসী আটক ​ ​ঝালকাঠিতে নানা আয়োজনে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ​ কাঠালিয়ায় ৫০ কেজি ও ৩৯ পোটলা গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১: মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের বড় সাফল্য

সিলেটের গোলাপগঞ্জ লেবার সর্দার আজিজ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট: দুই যুগ পর সিলেটের গোলাপগঞ্জে লেবার সর্দার আব্দুল আজিজ ওরফে আজিজ হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রমে কারাদন্ড দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর নাম এমই মিয়া (৫৫)। তিনি জকিগঞ্জ থানার হাতিডহর গ্রামের জমির আলী ওরফে ভেড়াই মিয়ার ছেলে।
রায় ঘোষণার সময় দন্ড প্রাপ্ত আসামী এমই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (৩০ জানুয়ারী) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শাহাদৎ হোসেন প্রামানিক এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মো. আহম্মদ আলী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, আব্দুল আজিজ ওরফে আজিজ কন্ট্রাক্টর আরিফ চৌধুরীর অধীনে গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং থেকে ফাজিলপুর রাস্তা পাকাকরণ কাজে লেবার সর্দার হিসেবে কাজ করছিলেন। ১৯৯৯ সালের ১৪ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে আজিজ ও এমই ছাড়া অন্যান্য লেবাররা দুপুরে খাবার খেতে চলে যান। তখন এমই মিয়ার সাথে আজিজের রাস্তার কাজ করা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। দু’জনের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আসামী এমই মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাতে থাকা কোদাল দিয়ে আজিজকে মাথার বাম পাশে আঘাত করেন। এসময় আজিজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহত আজিজের পিতা জকিগঞ্জ থানার হাতিডহর গ্রামের আব্দুর রহিম ওরফে নুনু মিয়া বাদি হয়ে একমাত্র লেবার এমই মিয়াকে আসামী কওে গোলাপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং- ১২ (১৭-০৭-১৯৯৯), দায়রা মামলা নং-৩৮/২০০০)।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ৫ ডিসেম্বও গোলাপগঞ্জ থানার এসআই মো. আব্দুল খালেক একমাত্র এমই মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র নং- ১৪৮) দাখিল করেন এবং ২০০০ সালের ৫ জুলাই আদালত চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) করে এ মামলার বিচারকার্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানী ও ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার (৩০ জানুয়ারী) আদালত আসামী এমইকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রমে কারাদন্ড প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মোঃ ফখরুল ইসলাম ও আসামীপক্ষে অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুর রকিব মামলাটি পরিচালনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সিলেটের গোলাপগঞ্জ লেবার সর্দার আজিজ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০১:১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট: দুই যুগ পর সিলেটের গোলাপগঞ্জে লেবার সর্দার আব্দুল আজিজ ওরফে আজিজ হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রমে কারাদন্ড দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর নাম এমই মিয়া (৫৫)। তিনি জকিগঞ্জ থানার হাতিডহর গ্রামের জমির আলী ওরফে ভেড়াই মিয়ার ছেলে।
রায় ঘোষণার সময় দন্ড প্রাপ্ত আসামী এমই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (৩০ জানুয়ারী) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শাহাদৎ হোসেন প্রামানিক এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মো. আহম্মদ আলী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, আব্দুল আজিজ ওরফে আজিজ কন্ট্রাক্টর আরিফ চৌধুরীর অধীনে গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং থেকে ফাজিলপুর রাস্তা পাকাকরণ কাজে লেবার সর্দার হিসেবে কাজ করছিলেন। ১৯৯৯ সালের ১৪ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে আজিজ ও এমই ছাড়া অন্যান্য লেবাররা দুপুরে খাবার খেতে চলে যান। তখন এমই মিয়ার সাথে আজিজের রাস্তার কাজ করা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। দু’জনের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আসামী এমই মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাতে থাকা কোদাল দিয়ে আজিজকে মাথার বাম পাশে আঘাত করেন। এসময় আজিজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহত আজিজের পিতা জকিগঞ্জ থানার হাতিডহর গ্রামের আব্দুর রহিম ওরফে নুনু মিয়া বাদি হয়ে একমাত্র লেবার এমই মিয়াকে আসামী কওে গোলাপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং- ১২ (১৭-০৭-১৯৯৯), দায়রা মামলা নং-৩৮/২০০০)।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ৫ ডিসেম্বও গোলাপগঞ্জ থানার এসআই মো. আব্দুল খালেক একমাত্র এমই মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র নং- ১৪৮) দাখিল করেন এবং ২০০০ সালের ৫ জুলাই আদালত চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) করে এ মামলার বিচারকার্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানী ও ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার (৩০ জানুয়ারী) আদালত আসামী এমইকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রমে কারাদন্ড প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মোঃ ফখরুল ইসলাম ও আসামীপক্ষে অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুর রকিব মামলাটি পরিচালনা করেন।