সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন জেলা জজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই ২০২৩ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

ভূমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন জেলা জজ। এ ছাড়া প্রয়োজনে সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজদের ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিচারক নিয়োগ দিতে পারবে সরকার।

এসব বিধান যুক্ত করে ১৯৫০ সালের স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট (রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন) সংশোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে, ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন যুগ্ম জেলা জজ। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার এই বিচারক নিয়োগ দেবে। এখন এই বিধানের সঙ্গে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এভাবে বিচারক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত যুগ্ম জেলা জজদের ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের ক্ষমতা দিতে পারবে সরকার। এ ছাড়া ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল থেকে স্থানান্তর করা মামলা নিষ্পত্তির জন্য এক বা একাধিক সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে সরকার নিয়োগ দিতে পারবে।

বিদ্যমান আইনে, ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক অথবা সাবেক বিচারক। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এই আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির বিষয়ে ভূমিমন্ত্রীকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির সদস্য পীর ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে অভিযোগ এসেছে, যা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, জেলায় জেলায় ভূমি অধিগ্রহণের যে সেকশন আছে সেখানে বড় দুর্নীতির ঘটনাগুলো ঘটে। সরকার অনেক উন্নয়ন করছে। এজন্য ভূমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে। সেখানে দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে।

পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘অতি সম্প্রতি ৫ জুলাই পত্রিকা যদি দেখেন, মানিকগঞ্জে সরকারি প্রকল্পে অধিগ্রহণের আগেই জমি কিনে নেন মন্ত্রী ও তার ছেলেমেয়ে। জমি অধিগ্রহণের সময় শতকোটি টাকা বাড়তি নিতে প্রকল্প পাসের আগেই জমি ক্রয় এবং কৌশলে দলিল মূল্য বৃদ্ধি। প্রকল্পটি হচ্ছে সরকারি ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান এসেন্সিয়াল ড্রাগসের মানিকগঞ্জে কারখানা স্থাপন। সেখানে দুঃখজনক আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে সংবাদপত্রে, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভূমি ক্রয় করেছেন ৬.৩৯ একর, ছেলে কেনেন ৩.১২ একর, মেয়ে কেনেন ১১.১৪ একর, আরেক ফুফাত ভাই কেনেন ৫.৫৪ একর।’

জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য বলেন, এর আগে কক্সবাজারেও ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয়কে দুর্নীতির হাট বলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। খবরে প্রকাশ হয়েছিল, সেখানে ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়েছে।

ভূমিমন্ত্রীকে এসব দুর্নীতির বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পীর ফজলুর রহমান বলেন, ভূমিমন্ত্রী অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয় চালাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। সেখানে এ সব দুর্নীতি ও লজ্জাজনক ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে ভূমিমন্ত্রী দৃষ্টি দেবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৪ সালে আইন সংশোধন করে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান করা হয়। ওই বিধানে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে জেলার যুগ্ম জেলা জজদের মধ্য থেকে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক অথবা সাবেক বিচারকদের মধ্য থেকে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগের বিধান করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার সংখ্যার তুলনায় ট্রাইব্যুনাল কম হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগে সমস্যার কারণে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়ায় জনগণের বিচারপ্রাপ্তি বিঘ্নিত হয়। মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে এবং যথাসময়ে জনগণের বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন জেলা জজ

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক

ভূমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন জেলা জজ। এ ছাড়া প্রয়োজনে সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজদের ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিচারক নিয়োগ দিতে পারবে সরকার।

এসব বিধান যুক্ত করে ১৯৫০ সালের স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট (রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন) সংশোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে, ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন যুগ্ম জেলা জজ। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার এই বিচারক নিয়োগ দেবে। এখন এই বিধানের সঙ্গে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এভাবে বিচারক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত যুগ্ম জেলা জজদের ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের ক্ষমতা দিতে পারবে সরকার। এ ছাড়া ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল থেকে স্থানান্তর করা মামলা নিষ্পত্তির জন্য এক বা একাধিক সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে সরকার নিয়োগ দিতে পারবে।

বিদ্যমান আইনে, ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক অথবা সাবেক বিচারক। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এই আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির বিষয়ে ভূমিমন্ত্রীকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির সদস্য পীর ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে অভিযোগ এসেছে, যা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, জেলায় জেলায় ভূমি অধিগ্রহণের যে সেকশন আছে সেখানে বড় দুর্নীতির ঘটনাগুলো ঘটে। সরকার অনেক উন্নয়ন করছে। এজন্য ভূমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে। সেখানে দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে।

পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘অতি সম্প্রতি ৫ জুলাই পত্রিকা যদি দেখেন, মানিকগঞ্জে সরকারি প্রকল্পে অধিগ্রহণের আগেই জমি কিনে নেন মন্ত্রী ও তার ছেলেমেয়ে। জমি অধিগ্রহণের সময় শতকোটি টাকা বাড়তি নিতে প্রকল্প পাসের আগেই জমি ক্রয় এবং কৌশলে দলিল মূল্য বৃদ্ধি। প্রকল্পটি হচ্ছে সরকারি ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান এসেন্সিয়াল ড্রাগসের মানিকগঞ্জে কারখানা স্থাপন। সেখানে দুঃখজনক আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে সংবাদপত্রে, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভূমি ক্রয় করেছেন ৬.৩৯ একর, ছেলে কেনেন ৩.১২ একর, মেয়ে কেনেন ১১.১৪ একর, আরেক ফুফাত ভাই কেনেন ৫.৫৪ একর।’

জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য বলেন, এর আগে কক্সবাজারেও ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয়কে দুর্নীতির হাট বলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। খবরে প্রকাশ হয়েছিল, সেখানে ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়েছে।

ভূমিমন্ত্রীকে এসব দুর্নীতির বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পীর ফজলুর রহমান বলেন, ভূমিমন্ত্রী অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয় চালাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। সেখানে এ সব দুর্নীতি ও লজ্জাজনক ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে ভূমিমন্ত্রী দৃষ্টি দেবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৪ সালে আইন সংশোধন করে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান করা হয়। ওই বিধানে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে জেলার যুগ্ম জেলা জজদের মধ্য থেকে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক অথবা সাবেক বিচারকদের মধ্য থেকে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগের বিধান করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার সংখ্যার তুলনায় ট্রাইব্যুনাল কম হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগে সমস্যার কারণে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়ায় জনগণের বিচারপ্রাপ্তি বিঘ্নিত হয়। মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে এবং যথাসময়ে জনগণের বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।