সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়নগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ১ আহত ৫ ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভাড়া ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর দায়ে অভিযান দর্শনায় বিজিবির অভিযানে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, বাবুগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

বাকেরগঞ্জে অস্ত্র সহ আটক যুবকের পিতার ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ বশির আহাম্মেদ
চিফ রিপোর্টার

বরিশালের বাকেরগঞ্জের কুদ্দুস বাহিনীর প্রধান অস্ত্রধারী বিএনপি নেতা কুদ্দুস আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। তারপরেও ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর তাণ্ডবে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসীন্দারাদের। প্রাণশঙ্কায় কাটছে তাদের রাত-দিন। অপরদিকে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ মরিয়া হয়ে উঠলেও শঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা ।

সূত্রে জানাজায় , বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার পুত্র কুদ্দুস মিয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে কবাই ইউনিয়নে সন্ত্রাসের রামরাজত্ব চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্বে থেকে কুদ্দুসবাহিনীর প্রধান কুদ্দুস সরকার উৎখাত আন্দোলন সফল করতে গড়ে তুলেছেন কুদ্দুসবাহিনী। উপজেলার হানুয়া পেয়ারপুর এলাকায় বেপরোয়া চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যুতা, মাদক ইয়াবা, নারী নির্যাতন, প্রতারণা, বিদেশি অস্ত্র, জাল টাকার ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছিল নির্বিঘ্নে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কর্মকান্ড চালালেও গ্রেফতার এড়াতে পারেনি কুদ্দুস মিয়ার মাদক ব্যবসায়ি পুত্র শৈশব। গত ৭ সেপ্টেম্বর কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর বাজারে কুদ্দুস মিয়ার বাসভবনে সন্ধ্যা ৮ টায় বরিশাল র‌্যাব ৮ এর অভিযানে তার পুত্র মাদক ব্যবসায়ি শৈশব (২৬) কে গ্রেফতার করে র‌্যাব। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস মিয়া ও তার পুত্র ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান শৈশব দীর্ঘদিন ইয়াবা ও জাল টাকার ব্যবসা করে আসছে। ৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাব ৮ এর ডিএডি/পুলিশ পরিদর্শক সিপিএসসি সুমন বিশ্বাস বাকেরগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, ৮ সেস্টেম্বর র‌্যাব ৮ এর ডিএডি/পুলিশ পরিদর্শক সিপিএসসি সুমন বিশ্বাস এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পেয়ারপুর বাজারে কুদ্দুস মিয়ার বাস ভবনের দোতলায় মাদক ও জাল টাকা বিক্রির খবর পেয়ে র‌্যাব ৮ এর একটি টিম অভিযান চালায়। এসময় কুদ্দুস মিয়া পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি পুত্র মেহেদি হাসান শৈশবের। শৈশবকে ৭৫৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮১ হাজার জাল টাকার নোট ও একটি ম্যাগজিন ও বিদেশি একটি পিস্তলসহ গ্রেফতার করেন র‌্যাব। র‌্যাব বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন। মাদক উদ্ধার করা একটি মামলা নং-৬/২২। জাল টাকা উদ্ধার মামলা নং-৭ ও বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেফতারের মামলা নং- ৮। উক্ত তিনটি মামলায় কুদ্দুস মিয়া ও তার পুত্র শৈশবসহ ঢাকা সবুজবাগ থানার ভাইকদিয়া ৭৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেলোয়ার ও মো. মবিন-কে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই কুদ্দুস মিয়া ও তার বাহিনীর লোকজন পালাতক থাকায় জনমনে স্বস্তি দেখা দিলেও কুদ্দুসবাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান এলাকাবাসী।

হানুয়া গ্রামের ভুক্তভোগী নারী জোছনা বেগম জানান, সন্ত্রাসী কুদ্দুস মিয়ার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তার বাহিনী আমার জমি দখল করে নিয়েছে। বাঁধা দেয়ায় আমাকে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। শুধু কবাই হানুয়া গ্রামের মানুষ নয়, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের অনেকে তার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কবাই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরাও তার মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে। তিনি আরো জানান, মাদক কারবারী কুদ্দুস মিয়া অপরাধের রাস্তা প্রসস্ত করতে নিজের পুত্র মেহেদী হাসান শৈশবকে সেনাপতির দায়িত্বে রেখে হানুয়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন অপরাধের অভয়ারণ্য!

তবে এ বিষয়টি নিরসন পুলিশের দায়িত্ব দাবি করে স্থানীয়রা বলছেন, সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন অপরাধ করে যাচ্ছে। তারা জানান তাদের সন্ধান পাওয়ার সাথে সাথে গ্রেফতারের জন্য মাঠে নেমেছে পুলিশ। এলাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত দুর্ধর্ষ গ্যাংলিডার কুদ্দুস মিয়া। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। কুদ্দুস মিয়া নানান রকম অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে কবাই ইউনিয়নে রামরাজত্ব চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্বে থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন সফল করতে গড়ে তুলেছেন কুদ্দুসবাহিনী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, হানুয়া পেয়ারপুর এলাকায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক ইয়াবা, নারী নির্যাতন, প্রতারণা, বিদেশি অস্ত্র, জাল টাকার ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আসলেও শেষ রক্ষা হয়নি কুদ্দুস মিয়ার। গত ৭ সেপ্টেম্বর কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর বাজারে কুদ্দুস মিয়ার বাস ভবনে সন্ধ্যা ৮ টায় বরিশাল র‌্যাব ৮ এর অভিযানে কুদ্দুস মিয়া পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী ছেলে শৈশব
র‌্যাব এর হাতে ধরা পড়ে।

এছারাও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কুদ্দুস ও তার পুত্র শৈশবের বিরুদ্ধে সিডিএমএস ও পুলিশি তথ্য উপাত্ত যাচাইবাছাই কালে বেরিয়ে আসে অসংখ্য লোমহর্ষক ঘটনার কাহিনী। কুদ্দুস বাহিনীর প্রধান কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অসংখ্য জিআর,ননজিআর ও সিআর মামলা রয়েছে। কিছু বাকেরগঞ্জ থানার মামলা তুলে ধরা হলোঃ (১) নং-৫ তাং ৪/৩/২০০৮ (২) নং-৭ তাং ৫/১০/২০১২ (৩) নং-৫ তাং ৩/১২/২০১৩ (৪) নং-২৪ তাং ১৫/১২/২০১৩ (৫) নং-২৩ তাং ২৬/১/২০১৫ (৬) নং-৪ তাং ৪/১/২০২০ (৭) নং-১৬ তাং ২১/৩/২০২২
(৮) নন জিআর নং-১৪৪, তাং-৩০/১১/২০১৯
(৯) সি আর নং-৪৩৯/১৯
(১০) সি আর নং-৯৪৩/১৯, (আমতলী থানা)
মাদক ব্যবসায়ি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কুদ্দুসের পুত্র শৈশবের বিরুদ্ধে মামলা নং-(১) নং-০৫, তারিখ ০৩/১২/২০১৩
(২) নং-১৬, তাং-২১/৩/২০২২
(৩) নং-২২, তাং-২২/১২/২০১৮
(৪) সি আর নং-৯৪৩/১৯, (আমতলী থানা)
কুদ্দুসবাহিনীর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর একাধিক টিম মাঠে রয়েছে উল্লেখ করে অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা যাবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলাউদ্দিন মিলন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাকেরগঞ্জে অস্ত্র সহ আটক যুবকের পিতার ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

আপডেট সময় : ০২:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

মোঃ বশির আহাম্মেদ
চিফ রিপোর্টার

বরিশালের বাকেরগঞ্জের কুদ্দুস বাহিনীর প্রধান অস্ত্রধারী বিএনপি নেতা কুদ্দুস আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। তারপরেও ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর তাণ্ডবে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসীন্দারাদের। প্রাণশঙ্কায় কাটছে তাদের রাত-দিন। অপরদিকে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ মরিয়া হয়ে উঠলেও শঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা ।

সূত্রে জানাজায় , বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার পুত্র কুদ্দুস মিয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে কবাই ইউনিয়নে সন্ত্রাসের রামরাজত্ব চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্বে থেকে কুদ্দুসবাহিনীর প্রধান কুদ্দুস সরকার উৎখাত আন্দোলন সফল করতে গড়ে তুলেছেন কুদ্দুসবাহিনী। উপজেলার হানুয়া পেয়ারপুর এলাকায় বেপরোয়া চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যুতা, মাদক ইয়াবা, নারী নির্যাতন, প্রতারণা, বিদেশি অস্ত্র, জাল টাকার ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছিল নির্বিঘ্নে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কর্মকান্ড চালালেও গ্রেফতার এড়াতে পারেনি কুদ্দুস মিয়ার মাদক ব্যবসায়ি পুত্র শৈশব। গত ৭ সেপ্টেম্বর কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর বাজারে কুদ্দুস মিয়ার বাসভবনে সন্ধ্যা ৮ টায় বরিশাল র‌্যাব ৮ এর অভিযানে তার পুত্র মাদক ব্যবসায়ি শৈশব (২৬) কে গ্রেফতার করে র‌্যাব। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস মিয়া ও তার পুত্র ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান শৈশব দীর্ঘদিন ইয়াবা ও জাল টাকার ব্যবসা করে আসছে। ৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাব ৮ এর ডিএডি/পুলিশ পরিদর্শক সিপিএসসি সুমন বিশ্বাস বাকেরগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, ৮ সেস্টেম্বর র‌্যাব ৮ এর ডিএডি/পুলিশ পরিদর্শক সিপিএসসি সুমন বিশ্বাস এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পেয়ারপুর বাজারে কুদ্দুস মিয়ার বাস ভবনের দোতলায় মাদক ও জাল টাকা বিক্রির খবর পেয়ে র‌্যাব ৮ এর একটি টিম অভিযান চালায়। এসময় কুদ্দুস মিয়া পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি পুত্র মেহেদি হাসান শৈশবের। শৈশবকে ৭৫৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮১ হাজার জাল টাকার নোট ও একটি ম্যাগজিন ও বিদেশি একটি পিস্তলসহ গ্রেফতার করেন র‌্যাব। র‌্যাব বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন। মাদক উদ্ধার করা একটি মামলা নং-৬/২২। জাল টাকা উদ্ধার মামলা নং-৭ ও বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেফতারের মামলা নং- ৮। উক্ত তিনটি মামলায় কুদ্দুস মিয়া ও তার পুত্র শৈশবসহ ঢাকা সবুজবাগ থানার ভাইকদিয়া ৭৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেলোয়ার ও মো. মবিন-কে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই কুদ্দুস মিয়া ও তার বাহিনীর লোকজন পালাতক থাকায় জনমনে স্বস্তি দেখা দিলেও কুদ্দুসবাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান এলাকাবাসী।

হানুয়া গ্রামের ভুক্তভোগী নারী জোছনা বেগম জানান, সন্ত্রাসী কুদ্দুস মিয়ার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তার বাহিনী আমার জমি দখল করে নিয়েছে। বাঁধা দেয়ায় আমাকে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। শুধু কবাই হানুয়া গ্রামের মানুষ নয়, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের অনেকে তার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কবাই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরাও তার মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে। তিনি আরো জানান, মাদক কারবারী কুদ্দুস মিয়া অপরাধের রাস্তা প্রসস্ত করতে নিজের পুত্র মেহেদী হাসান শৈশবকে সেনাপতির দায়িত্বে রেখে হানুয়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন অপরাধের অভয়ারণ্য!

তবে এ বিষয়টি নিরসন পুলিশের দায়িত্ব দাবি করে স্থানীয়রা বলছেন, সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন অপরাধ করে যাচ্ছে। তারা জানান তাদের সন্ধান পাওয়ার সাথে সাথে গ্রেফতারের জন্য মাঠে নেমেছে পুলিশ। এলাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত দুর্ধর্ষ গ্যাংলিডার কুদ্দুস মিয়া। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। কুদ্দুস মিয়া নানান রকম অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে কবাই ইউনিয়নে রামরাজত্ব চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্বে থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন সফল করতে গড়ে তুলেছেন কুদ্দুসবাহিনী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, হানুয়া পেয়ারপুর এলাকায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক ইয়াবা, নারী নির্যাতন, প্রতারণা, বিদেশি অস্ত্র, জাল টাকার ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আসলেও শেষ রক্ষা হয়নি কুদ্দুস মিয়ার। গত ৭ সেপ্টেম্বর কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর বাজারে কুদ্দুস মিয়ার বাস ভবনে সন্ধ্যা ৮ টায় বরিশাল র‌্যাব ৮ এর অভিযানে কুদ্দুস মিয়া পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী ছেলে শৈশব
র‌্যাব এর হাতে ধরা পড়ে।

এছারাও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কুদ্দুস ও তার পুত্র শৈশবের বিরুদ্ধে সিডিএমএস ও পুলিশি তথ্য উপাত্ত যাচাইবাছাই কালে বেরিয়ে আসে অসংখ্য লোমহর্ষক ঘটনার কাহিনী। কুদ্দুস বাহিনীর প্রধান কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অসংখ্য জিআর,ননজিআর ও সিআর মামলা রয়েছে। কিছু বাকেরগঞ্জ থানার মামলা তুলে ধরা হলোঃ (১) নং-৫ তাং ৪/৩/২০০৮ (২) নং-৭ তাং ৫/১০/২০১২ (৩) নং-৫ তাং ৩/১২/২০১৩ (৪) নং-২৪ তাং ১৫/১২/২০১৩ (৫) নং-২৩ তাং ২৬/১/২০১৫ (৬) নং-৪ তাং ৪/১/২০২০ (৭) নং-১৬ তাং ২১/৩/২০২২
(৮) নন জিআর নং-১৪৪, তাং-৩০/১১/২০১৯
(৯) সি আর নং-৪৩৯/১৯
(১০) সি আর নং-৯৪৩/১৯, (আমতলী থানা)
মাদক ব্যবসায়ি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কুদ্দুসের পুত্র শৈশবের বিরুদ্ধে মামলা নং-(১) নং-০৫, তারিখ ০৩/১২/২০১৩
(২) নং-১৬, তাং-২১/৩/২০২২
(৩) নং-২২, তাং-২২/১২/২০১৮
(৪) সি আর নং-৯৪৩/১৯, (আমতলী থানা)
কুদ্দুসবাহিনীর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর একাধিক টিম মাঠে রয়েছে উল্লেখ করে অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা যাবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলাউদ্দিন মিলন।