বাবুগঞ্জে প্রাণী খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে খামারিরা দুশ্চিন্তায়
- আপডেট সময় : ০৩:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মে ২০২২ ২০৪ বার পড়া হয়েছে

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে পোল্ট্রি, মৎস্য ও গবাদি পশুর খাদ্যের মূল্য দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রাণী খাদ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নিত্য পন্যের বাজারে। খাদ্যের দাম বাড়ায় মাছ ও মাংসের বাজারও চড়া।
প্রথমবারের মতো গরুর মাংসের দাম ৭৫০-৮০০ টাকা কেজির রেকর্ড স্পর্শ করেছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশু খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে মাছ-মাংস ও দুধ-ডিমের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশু খাদ্যের দাম গত একমাসে ১০ থেকে ১২ শতাংশ বেড়েছে। আর একবছরে এই বৃদ্ধির হার ৩৫ শতাংশ। বিপরীতে মাংস ও মাছের দাম বেড়েছে ১২ থেকে ১৬ শতাংশ।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত ১০ দিনের ব্যবধানে ফিড, ভুসি ও বুটের খোসায় বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। পশু খাদ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উপজেলার প্রান্তিক খামারিসহ হাজারো কৃষক।
বর্তমানে ২৪ টাকার ভুট্টা ৩৫ টাকা, ৩৮ টাকার অ্যাংকর ডাল ৬৫-৭০ টাকা, ৩১ টাকার মসুর ডালের গুঁড়া ৫২-৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এক বস্তা (২৫ কেজি) ফিডের দাম আগে ৭৫০ টাকা থাকলেও এখন ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা পানিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ছোট–বড় মিলে প্রায় ২৬৪ টি গাভীর খামার রয়েছে। গাভী ও ষাড় মিলিয়ে মোট গরুর সংখ্যা ৪৩ হাজার ২শ ৭৩ টি। ছাগলের খামার রয়েছে ৪৬ টি। মোট ছাগল রয়েছে ১৫হাজার ৯শত ৩০টি। ব্রয়লার খামার ১৯৩টি, লেয়ার খামার ৩৩ টি, সোনালী খামার ৬৬ টি, হাঁস খামার ২৯টি ও কবুতরের খামার রয়েছে ৯টি। এছাড়া ডাটা বেইজের বাইরেও অনেক খামার রয়েছে। হঠাৎ প্রাণী খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব খামারিরা দুশ্চিন্তায় পরেছে।
দেহেরগতি গ্রামের খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, খড়, ভুসি, বুটের খোসা, ফিডের দাম মাসে মাসে বাড়ছে। এখন গরু পালনে লাভ হচ্ছে না। কেউ কেউ গরু পালার যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্যে গরু বিক্রি করে দিয়েছে।,
চাঁদপাশা ইউনিয়নের খামার মালিক কবির হোসেন বলেন ‘আমার খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু হৃষ্টপুষ্ট করা হয় । কিন্তু পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আর কুলাতে পারছি না। ফলে গরু- ছাগল নিয়ে বিপদে আছি।
প্রাণী খাদ্য বিক্রেতা হাওলাদার এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী মোঃ সোহেল বলেন, কিছুদিন আগে প্রাণী খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে ভূসি ও গমসহ কয়েকটি আইটেমের দাম কমতেছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবু সালেহ্ মোঃ ইফাদ ইশতিয়াক বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রাণী খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাণী খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিরা পশু পালন করতে হিমশিম খাচ্ছে। করোনাকালে খামারিদের সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আমরা খামারিদের ঘাস উৎপাদনের পরামর্শ দিচ্ছি।

























