সংবাদ শিরোনাম ::
সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

রাজশাহী জেলখানায় চলছে চিরুনি অভিযান, মাদক, মোবাইল ও টাকা উদ্ধার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০২২ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ওদুদুজ্জামানঃ
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে চলছে চিরুনি অভিযান। ধারাবাহিক এই অভিযানে ইতোমধ্যে ধরা পড়েছে মোবাইল, সিম, নগদ টাকা, গাঁজা, হিরোইন, ইয়াবা ইত্যাদি । সরবরাহকারী কারারক্ষী মারুফকে করা হয়েছে বরখাস্ত । উদ্ধার হওয়া গাঁজা ও কয়েদিকে দেওয়া হয়েছে জেলকোড আইনে মামলা।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল বাবু চালির কয়েদি আলমগীরের নিকট থেকে হাফ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন কারারক্ষীরা। জেল কোড আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয় আলমগীরের বিরুদ্ধে। গাঁজা সরবরাহের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় কারারক্ষী মারুফকে। তবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অন্য সহযোগী কারারক্ষী মুকুলের বিরুদ্ধে।
এছাড়াও বিগত দিনে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শামীম এর কাছ থেকে তিনটি মোবাইল দশটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী কোয়েলের কাছ থেকে একটি মোবাইল সিম কার্ড সহ নগদ টাকা উদ্ধার করে কারা প্রশাসন। তাদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয় যথাযথ ব্যবস্থা।
কারা প্রশাসন সুত্র বলছে, আগের চেয়ে ভাল অবস্থানে আছে কারাগার। কারা ক্যান্টিনে কোন জিনিস পত্রের দাম বেশি নেওয়া হয় না। যেখানে আগে নানা অনিয়ম ছিলো।
একটি সুত্র নিশ্চিত করেন, কারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কতিপয় অসাধু সদস্য এখনও কারাগারে দুর্নীতি অনিয়ম চলমান রেখেছেন। কারা ক্যান্টিনে খাবারের মান নিম্নমানের এবং দাম নেওয়া হয় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে। অনিয়মে যুক্ত আছেন মুক্তি শাখার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি নাজমুল। আসামিদের ২০ বছর সাজা খাটা হলে তাদের মুক্তির আবেদন পাঠানো হয়। এই আবেদন পাঠানোর জন্য কয়েদিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন তিনি। দাবি পূরণ হলেই মেলে আবেদনের সুযোগ। অন্যথায় দাবি পূরণ না হলে নানা রকম তালবাহানা করেন তিনি । একাধিক মামলার হাজতবাস ধরে দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। সে টাকার বিনিময়ে সেটাও করে দেয় আর পিটি করার সময় ও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে থাকে সে। দীর্ঘদিন আগে তার কাছ থেকে একটি অবৈধ মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছিল। যেটা তার কেস টিকিটে উল্লেখ করা আছে। তবে এ সকল বিষয়ে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধিসহ চলছে অভিযান।
এদিকে নাজমুলের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ উঠেছে সে নাপিত চালির যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মেছের
এর কাছ থেকে ২০০০ টাকা নিয়েছে অপরদিকে মোড়া চালির নজরুলের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছেন তিনি। এছাড়াও জয়পুরহাটের মামুন মাস্টার এর কাছ থেকে টাকা নেয় সে। ডি আর লেখার জন্য নাপিত চালির কয়েদি বন্দীর কাছ থেকে টাকা নেন তিনি।
তবে প্রতিটি অনিয়ম বন্ধে বদ্ধপরিকর জেল প্রশাসন। সম্প্রতি তাদের তৎপরতায় এখন অনিয়ম দুর্নীতি অনেক অংশেই কমে এসেছে। এ ধারাবাহিকতায় উদ্ধার হয়েছে মোবাইল, টাকা, গাঁজা। মেডিকেল রাইটার রুবেল এখন গাঁজার অন্যতম সিন্ডিকেট বলে নিশ্চিত করেন কারাগারে একটি বিশ্বাস্থ সুত্র।
এ বিষয়ে কথা বললে জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, আমরা প্রতিনিয়ত অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে কাজ করছি। আমরা কাজ করছি বলে গাঁজা, মোবাইল, টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। জেল প্রশাসন তৎপর আছে। অচিরেই সব বন্ধ করতে সক্ষম হবো। ইতোমধ্যে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় এক কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আগের তুলনায় জেলখানা এখন কঠোর নিরাপত্তার বলায়ের মধ্যে রয়েছে ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজশাহী জেলখানায় চলছে চিরুনি অভিযান, মাদক, মোবাইল ও টাকা উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০২২

ওদুদুজ্জামানঃ
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে চলছে চিরুনি অভিযান। ধারাবাহিক এই অভিযানে ইতোমধ্যে ধরা পড়েছে মোবাইল, সিম, নগদ টাকা, গাঁজা, হিরোইন, ইয়াবা ইত্যাদি । সরবরাহকারী কারারক্ষী মারুফকে করা হয়েছে বরখাস্ত । উদ্ধার হওয়া গাঁজা ও কয়েদিকে দেওয়া হয়েছে জেলকোড আইনে মামলা।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল বাবু চালির কয়েদি আলমগীরের নিকট থেকে হাফ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন কারারক্ষীরা। জেল কোড আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয় আলমগীরের বিরুদ্ধে। গাঁজা সরবরাহের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় কারারক্ষী মারুফকে। তবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অন্য সহযোগী কারারক্ষী মুকুলের বিরুদ্ধে।
এছাড়াও বিগত দিনে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শামীম এর কাছ থেকে তিনটি মোবাইল দশটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী কোয়েলের কাছ থেকে একটি মোবাইল সিম কার্ড সহ নগদ টাকা উদ্ধার করে কারা প্রশাসন। তাদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয় যথাযথ ব্যবস্থা।
কারা প্রশাসন সুত্র বলছে, আগের চেয়ে ভাল অবস্থানে আছে কারাগার। কারা ক্যান্টিনে কোন জিনিস পত্রের দাম বেশি নেওয়া হয় না। যেখানে আগে নানা অনিয়ম ছিলো।
একটি সুত্র নিশ্চিত করেন, কারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কতিপয় অসাধু সদস্য এখনও কারাগারে দুর্নীতি অনিয়ম চলমান রেখেছেন। কারা ক্যান্টিনে খাবারের মান নিম্নমানের এবং দাম নেওয়া হয় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে। অনিয়মে যুক্ত আছেন মুক্তি শাখার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি নাজমুল। আসামিদের ২০ বছর সাজা খাটা হলে তাদের মুক্তির আবেদন পাঠানো হয়। এই আবেদন পাঠানোর জন্য কয়েদিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন তিনি। দাবি পূরণ হলেই মেলে আবেদনের সুযোগ। অন্যথায় দাবি পূরণ না হলে নানা রকম তালবাহানা করেন তিনি । একাধিক মামলার হাজতবাস ধরে দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। সে টাকার বিনিময়ে সেটাও করে দেয় আর পিটি করার সময় ও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে থাকে সে। দীর্ঘদিন আগে তার কাছ থেকে একটি অবৈধ মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছিল। যেটা তার কেস টিকিটে উল্লেখ করা আছে। তবে এ সকল বিষয়ে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধিসহ চলছে অভিযান।
এদিকে নাজমুলের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ উঠেছে সে নাপিত চালির যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মেছের
এর কাছ থেকে ২০০০ টাকা নিয়েছে অপরদিকে মোড়া চালির নজরুলের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছেন তিনি। এছাড়াও জয়পুরহাটের মামুন মাস্টার এর কাছ থেকে টাকা নেয় সে। ডি আর লেখার জন্য নাপিত চালির কয়েদি বন্দীর কাছ থেকে টাকা নেন তিনি।
তবে প্রতিটি অনিয়ম বন্ধে বদ্ধপরিকর জেল প্রশাসন। সম্প্রতি তাদের তৎপরতায় এখন অনিয়ম দুর্নীতি অনেক অংশেই কমে এসেছে। এ ধারাবাহিকতায় উদ্ধার হয়েছে মোবাইল, টাকা, গাঁজা। মেডিকেল রাইটার রুবেল এখন গাঁজার অন্যতম সিন্ডিকেট বলে নিশ্চিত করেন কারাগারে একটি বিশ্বাস্থ সুত্র।
এ বিষয়ে কথা বললে জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, আমরা প্রতিনিয়ত অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে কাজ করছি। আমরা কাজ করছি বলে গাঁজা, মোবাইল, টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। জেল প্রশাসন তৎপর আছে। অচিরেই সব বন্ধ করতে সক্ষম হবো। ইতোমধ্যে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় এক কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আগের তুলনায় জেলখানা এখন কঠোর নিরাপত্তার বলায়ের মধ্যে রয়েছে ।