সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

তালাক দেওয়া স্ত্রীকে ধর্ষণ, ৩০ বছর কারাদণ্ড স্বামীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১ ১৭০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

শেরপুরে তালাকের পরও তা গোপন রেখে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে ধর্ষণের মামলায় শাহ আলী (৪৪) নামে সাবেক স্বামীকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে একমাত্র আসামির অনুপস্থিতিতে ওই রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আখতারুজ্জামান।

অভিযুক্ত শাহ আলী শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা এলাকার কৃষক আবু বকরের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকে যৌতুক দাবি করে শাহ আলী স্ত্রীকে ব্যাপক নির্যাতন করতেন। যৌতুক না পেয়ে ২০১২ সালের ১৩ মে শাহ আলী স্ত্রীকে তালাক দেয়। কিন্তু তালাকের ঘটনাটি সে গোপন রেখে স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা এবং নির্যাতন অব্যাহত রাখে। নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শাহ আলীর বিরুদ্ধে স্ত্রী একটি মামলা করেন। ওই বছর ৪ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হয়ে শাহ আলী কাগজ-পত্র জমা দিয়ে বলেন- তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন ২০১২ সালের ১৩ মে। সুতরাং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। পরে জামিন নিয়ে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন। গত ছয় বছর তার কোনো হদিস নেই।

পরে আদালতের মাধ্যমে তালাকের কথা জেনে শাহ আলীর বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী ধর্ষণের অভিযোগ এনে একই আদালতে ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারী পৃথক আরেকটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়- প্রতারণা করে দীর্ঘ আড়াই বছর শাহ আলী বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করেছে। ওই মামলায় শাহ আলী, তার বাবা-মাসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়।

শ্রীবরদী থানার এস আই আবুল কালাম তদন্ত শেষে একই বছরের ৮ জুন চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ গঠন হলে ট্রাইব্যুনাল ৩ জনকে অব্যাহতি দেয় এবং প্রধান আসামি হিসেবে শাহ আলীর বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার কাজ চলাকালে বাদী- ভিকটিম, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৯ জন সাক্ষী দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাড. গোলাম কিবিরয়া বুলু বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২৩ নভেম্বর সোমবার দুপুরে শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আখতারুজ্জামান আসামি শাহ আলীকে ৩০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

এ রায়কে একটি ঐতিহাসিক রায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে এ রায় সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া ওই আসামির বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের যে মামলাটি রয়েছে সেটি অল্প কিছুদিনের মধ্যে আদেশ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তালাক দেওয়া স্ত্রীকে ধর্ষণ, ৩০ বছর কারাদণ্ড স্বামীর

আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স

শেরপুরে তালাকের পরও তা গোপন রেখে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে ধর্ষণের মামলায় শাহ আলী (৪৪) নামে সাবেক স্বামীকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে একমাত্র আসামির অনুপস্থিতিতে ওই রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আখতারুজ্জামান।

অভিযুক্ত শাহ আলী শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা এলাকার কৃষক আবু বকরের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকে যৌতুক দাবি করে শাহ আলী স্ত্রীকে ব্যাপক নির্যাতন করতেন। যৌতুক না পেয়ে ২০১২ সালের ১৩ মে শাহ আলী স্ত্রীকে তালাক দেয়। কিন্তু তালাকের ঘটনাটি সে গোপন রেখে স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা এবং নির্যাতন অব্যাহত রাখে। নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শাহ আলীর বিরুদ্ধে স্ত্রী একটি মামলা করেন। ওই বছর ৪ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হয়ে শাহ আলী কাগজ-পত্র জমা দিয়ে বলেন- তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন ২০১২ সালের ১৩ মে। সুতরাং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। পরে জামিন নিয়ে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন। গত ছয় বছর তার কোনো হদিস নেই।

পরে আদালতের মাধ্যমে তালাকের কথা জেনে শাহ আলীর বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী ধর্ষণের অভিযোগ এনে একই আদালতে ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারী পৃথক আরেকটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়- প্রতারণা করে দীর্ঘ আড়াই বছর শাহ আলী বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করেছে। ওই মামলায় শাহ আলী, তার বাবা-মাসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়।

শ্রীবরদী থানার এস আই আবুল কালাম তদন্ত শেষে একই বছরের ৮ জুন চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ গঠন হলে ট্রাইব্যুনাল ৩ জনকে অব্যাহতি দেয় এবং প্রধান আসামি হিসেবে শাহ আলীর বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার কাজ চলাকালে বাদী- ভিকটিম, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৯ জন সাক্ষী দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাড. গোলাম কিবিরয়া বুলু বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২৩ নভেম্বর সোমবার দুপুরে শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আখতারুজ্জামান আসামি শাহ আলীকে ৩০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

এ রায়কে একটি ঐতিহাসিক রায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে এ রায় সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া ওই আসামির বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের যে মামলাটি রয়েছে সেটি অল্প কিছুদিনের মধ্যে আদেশ হবে।