বাবুগঞ্জে উন্নত এলাকার জন্য কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩৬ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মাদ আলী
বাবুগঞ্জ ( বরিশাল) ঃ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাবুগঞ্জ বন্দর ও আশেপাশের এলাকায় তিল পরিমাণ স্থান খুঁজে পাওয়া এখন দুস্কর হয়ে পড়েছে। এক যুগ আগেও যেখানে প্রতি কাঠা বা শতাংশ জমির মূল্য ছিল ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু তা বৃদ্ধি পেয়ে এখন সাড়ে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলার সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরবর্তী মানুষ নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই বাসস্থান গড়ে তুলেছেন বাবুগঞ্জ বন্দর ও আশেপাশের এলাকায়।
যার ফলশ্রুতিতে জমির মূল্য যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমন অপরিকল্পিত বাসস্থানের ফলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
বাবুগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পাশে নতুন উন্নত এলাকার জন্য এখন কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী এ বন্দরে। তাছাড়া বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে গিয়ে অবৈধ দখলদারিত্ব বেড়ে চলেছে তীব্র হারে।
বন্দর সংলগ্ন খালগুলো দখল করে নিচ্ছে কিছু অসাধু লোক। যার ফলে খাল হারাচ্ছে নাব্যতা, পরিবেশ হচ্ছে দূষিত। খুব সহজ সমীকরণে বলা যায় জনসংখ্যা যত বেশী হবে তাদের দ্বারা সৃষ্ট ময়লা আবর্জনা তত বেশী হচ্ছে। ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র নিক্ষেপের ফলে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। খালে ময়লা আবর্জনা ছুঁড়ে ফেলার ফলে পানি দূষিত হচ্ছে এবং এ থেকে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়াও বাবুগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত কলোনিসহ বিভিন্ন জায়গায় বর্জ্র ব্যাবস্থাপনা না থাকায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে বর্জ্র। ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
এ দূষণের ফলে বাবুগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মোকাবেলায় নব্য গঠিত নগরগুলো সামগ্রিকভাবে প্রস্তুত না হওয়ার কারণে এসব ঝুঁকি ক্ষেত্রবিশেষে মারাত্মক রূপ ধারণ করে প্রাণনাশমূলকও হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত এসব ঝুঁকির মধ্যে বন্দরের অস্থায়ী বাসিন্দারা আর দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বাবুগঞ্জ বন্দর নিজেই হাহাকার করছে তার নিজের সৌন্দর্য হারিয়ে। দৃশ্যমান দূষণ থেকে মুক্তির অপেক্ষায় এই বন্দরের সচেতন মহল।
বাবুগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পশ্চিম পার্শ্বের কলোনিতে বসবাসরত প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইমন জানান, অত্র এলাকায় অবস্থিত ১৫/২০ টি বিল্ডিংয়ের মালিকগণ মিলে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে, কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় একটা ডাস্টবিন করতে পারেন। সেখানে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে, সকল বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করে রাখার জন্য একজন লোক রাখতে হবে। যিনি ময়লা সংগ্রহ করবেন, উনি প্রতিদিন সকাল ১০ টায় সব বাসা থেকে ময়লা নিয়ে ঐ বিনে রাখবেন। তারপর , প্রতি ৩/৪ দিন পরপর ওখান থেকে কোনো এক ব্যক্তির মাধ্যমে ডাম্পিং ট্রাকে করে নিকটবর্তী পৌরসভার বা অন্য কোনো স্বীকৃত ময়লার ভাগারে ফেলে আসবেন। সেক্ষেত্রে এখানে আমাদের দরকার একটি ডাস্টবিন, একজন কালেক্টর , একটি যানবাহন সহ ডিসপোজালম্যান।
এছাড়াও তিনি জানান, যেহেতু বাবুগঞ্জ একটি থানা শহর , তাই এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই। তাই বাবুগঞ্জের বাসিন্দারা উপজেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে আবেদন করে, উক্ত এরিয়ার আশেপাশে একটি ডাম্পিং সাইটের ব্যবস্থা করতে পারেন। বাবুগঞ্জেই কিছু ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করতে পারেন। সবাই ব্যক্তিগতভাবে যে যার নিকটবর্তী ডাস্টবিনে ময়লা ফেলবেন। যাতে সেখান থেকে নির্দিষ্ট সময় পরপর ঐ ডাম্পিং সাইটে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে ময়লা ডিসপোজ করা যায়।
রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ সরোয়ার মাহমুদ জানান, বাড়ির মালিকদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর সমাধান করা উচিত। কারণ বাবুগঞ্জ যেহেতু সিটি কর্পোরেশন এর মধ্যে পরে নাই। তাই বাড়িওয়ালাদের নিজেদের সমাধান করতে হবে।
এব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার ( কালকিনি- মাদারীপুর) মোঃ শাহাদাত হোসেন পলাশ জানান, তাদের কলোনির প্রবেশদ্বারে এভাবে বর্জ্র না রাখার জন্য মৌলিকভাবে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু কেউ মানছেন না। রাতের আধারে ফেলে যাচ্ছেন। ওটা এখন স্বঘোষিত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।


























