জীবননগরে প্রবাসী স্বামীর অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে তালাকের পর মিথ্যা মামলা।
- আপডেট সময় : ০৬:০৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে
মাসুদ রানা জীবননগর থানা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা শহরের লক্ষীপুরের এক প্রবাসীর স্ত্রী স্বামীর সব কিছু হাতিয়ে নিয়ে তালাক দেয়ার পর প্রবাসী স্বামীকে বেকায়দায় ফেলতে নতুন করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে আনোয়ার হোসেন(৩৫) বলেন,আমি জীবননগর পৌর এলাকার লক্ষীপুর মিলপাড়ার তাহের ফকিরের মেয়ে নার্গিস খাতুনকে(৩০) গত ১৪ বছর আগে বিয়ে করি। নার্গিস সম্পর্কে মামাতো বোন হতো। তাকে বিয়ের দু’বছরের মাথায় ভাগ্যের চাঁকা ঘুরাতে সৌদি যায়। সেখানে তিন বছর কাজ করার পর পরবর্তীতে দুবাই চলে যায়।
প্রবাসে থাকা কালে আমি প্রতি বছরে বাড়ীতে ছুটি নিয়ে আসতাম। শ্বশুর বাড়ীতে আমার স্ত্রী বসবাস করতো। বিদেশে বহু কষ্টে অর্জিত সব টাকা পয়সা আমার স্ত্রীর হিসাব নম্বরে ব্যাংকে পাঠাতাম। আমি বিদেশ থাকা কালে একটি ট্রাক আমার উক্ত স্ত্রীর নামে কিস্তিতে কিনে দিয়েছিলাম। আমি ট্রাকের কিস্তি শোধ করলেও আমার উক্ত স্ত্রী আমাকে কোন কিছু না জানিয়ে ট্রাকটি অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেয়।
স্ত্রীকে আমি কয়েক লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র কিনে দিই। দুবাই প্রবাসে থাকা কালে স্ত্রীর নিকট দেশে আসার কথা বলি। এদিকে আমি দেশে ফিরে আসার আগেই আমার উক্ত স্ত্রী গ্রামের বাড়ী মিনাজপুরের ঠিকানায় তালাকনামা পাঠিয়ে দেয়। আমি সম্প্রতি বাড়ীতে ফিরে এসে জানতে পারি আমার স্ত্রী আমাকে তালাক দিয়েছে এবং আমার পাঠানো সমস্ত টাকা পয়সা,ট্রাক বিক্রির টাকা,এমনকি আমার নিজ কৃষি জমি অন্যের কাছে বন্দক দিয়ে সে টাকাও আত্মসাত করেছে। স্ত্রীর এমন আচরণে সব হারিয়ে সর্বশ্বান্ত হওয়ার পর ঘটনার ব্যাপারে জীবননগর পৌসভায় একটি লিখিত অভিযোগ করি। কিন্তু আমার উক্ত স্ত্রী সেখানে হাজির না হয়ে উল্টো কোর্টে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুকের মামলা দিয়েছে।
সরেজমিনে লক্ষীপুর মিলপাড়ার একাধিক মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়,গৃহবধু নার্গিস খাতুন প্রবাসী স্বামীর সব কিছু লুটে নিয়ে স্বামী বিদেশ থেকে দেশে ফেরার আগেই তালাক দিয়েছে। নার্গিস খাতুনের এমন আচরণে তারা বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গৃহবধু নার্গিস খাতুনের মোবাইল ফোনে তার মন্তব্য জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর স্বামীকে তালাক দিয়েছে স্বীকার করলেও পরবর্তীতে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার সাথে সাথে মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়।
জীবননগর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল হোসেন বলেন,ঘটনার ব্যাপারে প্রবাসী আনোয়ার হোসেন পৌরসভার গ্রাম সালিশ আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু গৃহবধু নার্গিস খাতুন পৌরসভায় গরহাজির থাকেন এবং পরবর্তীতে তার তালাক প্রাপ্ত প্রবাসী স্বামী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে বলে শুনেছি।
তবে নার্গিস খাতুন যা করেছে তা অমানবিক ও স্ত্রী হিসাবে নির্মম একটি কাজ করেছে। যে,স্বামী তার সুখের জন্য বিদেশে হাড়ভাঙ্গা শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত টাকা পয়সাসহ সমস্ত কিছু তার কাছে পাঠিয়েছে। আবার সেই স্ত্রী-ই স্বামী বিদেশ থেকে দেশে ফেরার আগেই স্বামীর সব কিছু আত্মসাত করে স্বামীকে তালাক দেয়ার পর পরবর্তীতে আবার মিথ্যা মামলা দিয়ে তার স্বামী এবং এলাকাবাসীকে হতবাক করেছে


























