জীবননগরে চাচার বিরুদ্ধে শ্লাতাহানির অভিযোগ।
- আপডেট সময় : ০৭:০৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০২ বার পড়া হয়েছে
মাসুদ রানা জীবননগর থানা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক কিশোরী আপন চাচার হাতে শ্লাতাহানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পেয়ারাতলা মোল্লাপাড়ার শহিদুল হকের মেয়ে জীবননগর সরকারি মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছদ্দানামের (১৭) সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে জীবননগর থানায় মেয়ের মা বাদি হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,গত ২০১৭ সালে কিশোরী নিজ বাড়ি পেয়ারাতলাতে থাকতেন । সে সময় ওই কিশোরী ৮ম শ্রেনীতে লেখাপড়া করতেন ।পারিবারিক কাজে আপন চাচা জীবননগর বাজারের বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মার্সেল শো-রুমের মালিক সাবেক সেনা সদস্য অনারারী লেঃ(অবঃ)মুজিবুর রহমান (৬৭) তার নিজ বাড়িতে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিক ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেন ।
ওই কিশোরী যাতে কাউকে বিষয়টি না বলে সে কারনে তাকে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল বলে জানান। পরবতীতে কিশোরী মায়ের সাথে ঢাকাতে চলে যায় এবং সেখানে ঢাকা মনিরামপুর মডেল হাইস্কুলে ভর্তি হয়।ঢাকা থেকে এস এস সি পাশ করে ২০২১ সালে জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হয়।
ঘটনা ২০১৭ সালে শেষ হলেও কিশোরীর দিকে নজর ছিল বরাবর ওই সেনা সদস্যের।আবারও গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যার সময় পাশের বাড়িতে মেয়েটি বেড়াতে গেলে মুজিবুর রহমান কিশোরীকে মুখ চেপে বাড়ির মধ্যে নেওয়ার চেষ্টা করে।পরবর্তীতে কিশোরী চিৎকার করলে মুজিবুর রহমান তাকে ছেড়ে দিয়ে নিজের বাড়ির মধ্যে চলে যায়। মেয়েটি বিষয়টি তার বাবা মাকে জানালে তারা সঠিক বিচারের জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিকট অভিযোগ করেন ।
অভিযোগ করার পর থেকে কিশোরীসহ তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা ও হত্যার হুমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগ করেন কিশোরীর মা রানী খাতুন।তিনি বলেন,আমার মেয়ের এত বড় ক্ষতি করলো তারপরও সে আমার স্বামীকে ভয়ভীতি দেখায় আমরা যাতে কোন অভিযোগ না করি,সে জন্য উল্টো আমাদের মা,ছেলে ও মেয়ের নামে থানায় মিথ্যা জিডি করেছে । অথচ ন্যায় বিচারের জন্য আমরা বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি এবং অবশেষে বাধ্য হয়ে জীবনের নিরাপত্তার জন্য জীবননগর থানায় অভিযোগ করেছি। আমরা সঠিক বিচার চাই ।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাবেক সেনা সদস্য অনারারী লেঃ(অবঃ)মুজিবুর রহমান বলেন,আমি কোন ধর্ষণ করিনি। সে আমার ভায়ের মেয়ে মানে আমার মেয়ে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পন্ন মিথ্যা বানোয়াট। আমাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল এ ধরনের জঘন্য কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছে।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার রিপন হোসেন বলেন,পেয়ারাতলা মোল্লা পাড়ায় যে ঘটনা ঘটেছে এটা আমি লোকমুখে শুনেছি ।তাছাড়া দুই পরিবারের কেউ আমাকে জানায়নি।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচাজ (ওসি)সাইফুল ইসলাম বলেন, পেয়ারাতলা মোল্লাপাড়ায় শ্লাতাহানির অভিযোগ তুলে জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তপুর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























