সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কে মৃত্যুফাঁদ! ৮টি স্থান দুর্ঘটনাপ্রবণ, বাড়ছে প্রাণহানি; গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে সড়ক বিভাগ,ইউএনও ওসির কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের দাবী ঘোড়াঘাটে শিশুর পায়ুপথে বাতাস রক্তারক্ত জখম দোকান মালিক গ্রেফতার ঝালকাঠিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিরামপুরে নানা কর্মসূচিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন দর্শনায় ক্যাডেট একাডেমিতে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত বিএসএফের গুলিতে জীবননগরে বাংলাদেশি আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী আটক ঘোড়াঘাটে মাদকবিরোধী উন্মুক্ত সভা, ৩০ সদস্যের কমিটি গঠন চাঁদপুরে ২৪ ঘণ্টায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭৪, আটক ১৯ কিশোর ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী মাসুক স্মৃতি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন

তপ্ত কুড়ালে শিশুর জিহ্বা ছুঁয়ে নিরপরাধ প্রমাণ।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ অগাস্ট ২০২১ ১৪১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
চায়ের কেটলি চুরির অভিযোগে ছোট্ট বালকের ওপর চালানো হল অমানবিক নির্যাতন। বারবার ক্ষমা চেয়েও চুরি করিনি বলেও মাফ পেল না সে, তার জিহ্বা ছোঁয়ানো হল উত্তপ্ত কুড়ালে। ভয়াবহ এই ঘটনায় নিষ্ঠুরতা শব্দটি যেন একটি নতুন অর্থ খুঁজে পেল।
ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানে। অমানবিক এই নির্যাতনের শিকার শিশুটির নাম তেহসিব। এক গরিব রাখালবালক সে। গবাদিপশুকে পথ চিনিয়ে বাড়ি আনা আর দেখভাল করাই তার কাজ।

ওই বালককে প্রথমে চায়ের কেটলি চুরির অভিযোগ করে পেটাতে থাকে অভিযুক্তরা। ছোট্ট তেহসিব বারবার তার নিরপরাধ হওয়ার কথা বললেও তার কোন কথাই শোনা হয়নি।

পরে একসময় তাকে নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে নাবালককে জিহ্বা দিয়ে উতপ্ত কুড়াল চেটে দেখাতে বলে তারা। এর পর জোরপূর্বক নাবালককে দিয়ে তা করালে গরম কুড়ালে তার জিহ্বা মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে।

পাকিস্তানের সংবাদ সংস্থা ডন জানিয়েছে, রাখাল বালকের ওপর এমন অমানবিক অত্যাচার চালানোর অভিযোগে অনুসন্ধানে ছিল পুলিশ। পরে ওই তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে ফাজলা খাচে পাকিস্তানের বর্ডার মিলিটারি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তেহসিবের বাবা জান মোহাম্মদ।

তিনি বলেন, তার নির্যাতিত ছেলেকে তেহসিল সদর দপ্তরের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ওই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে মামলা করেছেন তিনি।

পাকিস্তানের পুলিশ জানিয়েছে, তিন অভিযুক্তসহ ওই নাবালক সবাই পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত বালোচের বাসিন্দা। তিন অভিযুক্তদের নাম—সিরাজ, আব্দুল করিম ও মোহাম্মদ খান।

ডনের খবর অনুযায়ী, বালোচে এখনও উপজাতিদের মধ্যে কিছু কিছু কট্টরপন্থা চালু আছে। যেখানে অপরাধীকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ দিতে হয়। এমনকি পানিতে মাথা ডুবিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকতে না পারলে দোষী বলে চিহ্নিত করা হয় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে। রাখাল বালক তেহসিবকে এমনই এক ভয়ঙ্কর ‘অগ্নিপরীক্ষা’ দিতে হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তপ্ত কুড়ালে শিশুর জিহ্বা ছুঁয়ে নিরপরাধ প্রমাণ।

আপডেট সময় : ১০:১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ অগাস্ট ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
চায়ের কেটলি চুরির অভিযোগে ছোট্ট বালকের ওপর চালানো হল অমানবিক নির্যাতন। বারবার ক্ষমা চেয়েও চুরি করিনি বলেও মাফ পেল না সে, তার জিহ্বা ছোঁয়ানো হল উত্তপ্ত কুড়ালে। ভয়াবহ এই ঘটনায় নিষ্ঠুরতা শব্দটি যেন একটি নতুন অর্থ খুঁজে পেল।
ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানে। অমানবিক এই নির্যাতনের শিকার শিশুটির নাম তেহসিব। এক গরিব রাখালবালক সে। গবাদিপশুকে পথ চিনিয়ে বাড়ি আনা আর দেখভাল করাই তার কাজ।

ওই বালককে প্রথমে চায়ের কেটলি চুরির অভিযোগ করে পেটাতে থাকে অভিযুক্তরা। ছোট্ট তেহসিব বারবার তার নিরপরাধ হওয়ার কথা বললেও তার কোন কথাই শোনা হয়নি।

পরে একসময় তাকে নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে নাবালককে জিহ্বা দিয়ে উতপ্ত কুড়াল চেটে দেখাতে বলে তারা। এর পর জোরপূর্বক নাবালককে দিয়ে তা করালে গরম কুড়ালে তার জিহ্বা মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে।

পাকিস্তানের সংবাদ সংস্থা ডন জানিয়েছে, রাখাল বালকের ওপর এমন অমানবিক অত্যাচার চালানোর অভিযোগে অনুসন্ধানে ছিল পুলিশ। পরে ওই তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে ফাজলা খাচে পাকিস্তানের বর্ডার মিলিটারি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তেহসিবের বাবা জান মোহাম্মদ।

তিনি বলেন, তার নির্যাতিত ছেলেকে তেহসিল সদর দপ্তরের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ওই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে মামলা করেছেন তিনি।

পাকিস্তানের পুলিশ জানিয়েছে, তিন অভিযুক্তসহ ওই নাবালক সবাই পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত বালোচের বাসিন্দা। তিন অভিযুক্তদের নাম—সিরাজ, আব্দুল করিম ও মোহাম্মদ খান।

ডনের খবর অনুযায়ী, বালোচে এখনও উপজাতিদের মধ্যে কিছু কিছু কট্টরপন্থা চালু আছে। যেখানে অপরাধীকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ দিতে হয়। এমনকি পানিতে মাথা ডুবিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকতে না পারলে দোষী বলে চিহ্নিত করা হয় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে। রাখাল বালক তেহসিবকে এমনই এক ভয়ঙ্কর ‘অগ্নিপরীক্ষা’ দিতে হলো।