শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০১:২৩ অপরাহ্ন

লিড নিউজ
চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর। ভ্যাকসিন দেওয়া শেষ হলেই খোলা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: সংসদে প্রধানমন্ত্রী।বরিশাল-পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৪৪ কিলোমিটার রেললাইন ২০৩০ সালে শেষ করার আশা।
ঈদের দিনেও বিনামূল্যে অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা।

ঈদের দিনেও বিনামূল্যে অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : রাত দু’টো কিংবা ভোর পাঁচটা। যখনই অক্সিজেন প্রয়োজন, পাশে আছে ‘ঝালকাঠি মিডিয়া ফোরাম অক্সিজেন জোন’ এবং নলছিটি উপজেলার ‘বেগম সামসুন্নাহার ফাউন্ডেশন’। সংগঠন দু’টির প্রতিষ্ঠাতা যথাক্রমে মো. মনির হোসেন এবং মো. শাহাদাত ফকির। দু’জনেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হলেও তাঁদের অর্জিত অর্থ দিয়েই শুরু করেছেন ফ্রি অক্সিজেন সেবা।

ঝালকাঠি শহরের কলেজ খেয়াঘাটে নিজের মুদির দোকান থেকেই মনির তাঁর সংগঠনের মাধ্যমে ফ্রি অক্সিজেন সেবা চালু করেন গত ৭ জুলাই। তাঁর ‘ঝালকাঠি মিডিয়া ফোরাম অক্সিজেন জোন’ এ ১১জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করলেও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান রায়হান যেনো অক্সিজেন সংকটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাই করেছেন।

২৪ ঘন্টার মধ্যে যখনই অক্সিজেনের জন্য ফোন আসুক, রায়হানের মোটরসাইকেল প্রস্তুত। পিপি, মাস্ক ও গ্লাভস পরে অক্সিজেন সিলিন্ডার, পাইপ ও অক্সিমিটার নিয়ে ছুটে যান রোগীর ঠিকানায়। রায়হানের সাথে একইভাবে কাজ করছে মনির হোসেন ও আব্দুর রহমান।

তাঁদের এই কার্যক্রম দেখে শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাদের খাঁন তাঁর বসার কক্ষটি ছেড়ে দিয়েছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার জন্য।

মো. মনির হোসেন বলেন আনুষঙ্গিক খরচ বাদেও তাঁর সংগঠন এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হজার টাকার অক্সিজেন সেবা করোনা রোগীদের দিয়েছে। প্রথমে ধার দেনা করে সে এবং রায়হান ৪৫ হাজার টকা খরচ করেন। পরে কয়েকজন কাছের মানুষের সহযোগিতায় বর্তমানে এই সেবা এগিয়ে যাচ্ছে।

তাঁর সংগঠনে ১.৩৬ মিলিমিটারের ১১টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মওজুদ আছে। রোগীদের অক্সিজেন সেবা দেয়ার পাশাপাশি শহরের অন্তত ৭ টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে অক্সিজেন সাপোর্ট, অক্সিমিটার, স্যাভলন ও মাস্ক প্রদান করেছে ‘ঝালকাঠি মিডিয়া ফোরাম অক্সিজেন জোন’।

মো. মনির আরো জানান, ঝালকাঠিতে যখন দেখেছি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কসাইয়ের মতো ব্যবসা হচ্ছে, তখনই ভেবেছি যেকোনো উপায়ে অক্সিজেন সেবা বিনামূল্যে দিতে হবে। এই সেবা চালু করার পর ঝালকাঠি শহরে অক্সিজেন নিয়ে কেউ বাণিজ্য করতে পারছে না।

সংগঠনের আরেক সদস্য আব্দুর রহমান জানান, রোগীদের দেয়ার জন্য অন্য সংগঠনকেও অক্সিজেন সিলিন্ডার আমরা দিচ্ছি। রিফিল করতে সহযোগিতা করছি। মনির ভাইকে দেখেছি, করোনার এক রোগীকে গাড়ি থেকে কোলে করে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে পৌঁছে দিয়েছে। অন্য সংগঠনকে সাপোর্ট দেয়া ছাড়াও আমাদের সংগঠন সরাসরি ২৩ জন রোগীর বাসায় অক্সিজেন পৌঁছে দিয়েছে।

এছাড়া আজ ঈদের দিন ঝালকাঠি শহর এবং রাজাপুরে মোট ৫ জন রোগীকে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে হয়েছে বলে জানায় মো. মনির। পাশাপাশি বেলা ১২টায় ১০০ জনের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করে তাঁদের সংগঠন। ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নে অক্সিজেনের চাহিদা না থাকায় ‘আইডিয়াল ইয়ুথ সোসাইটি, শেখেরহাট’ নামে একটি সংগঠনও তাঁদের সিলিন্ডারটি আপাতত মনিরের সংগঠনে দিয়ে গেছে। প্রয়োজন হলে আবার নেবেন তাঁরা।

মনিরের শেষ কথা হলো, যতক্ষণ সাধ্য ও সামর্থ্য আছে ততক্ষণ এই ফ্রি অক্সিজেন সেবায় কেউ এক কাপ চা’ও তাঁদের খাওয়াতে পারবে না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019
Bengali English