সংবাদ শিরোনাম ::
সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

অভিভাবক হীন একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার ২ ইউনিয়নবাসী।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুলাই ২০২১ ৭৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মাদ আলী
বাবুগঞ্জ ( বরিশাল) ঃ একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের ৪ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। ভাঙ্গা সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ও ঠিকমত সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি এখন দুর্বল কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে। অতি প্রয়োজনের সময় ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয় সেতুটি। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

এলজিইডি থেকে বার বার আশ্বাস দিলেও সেতুটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি কেউ।

বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খয়রাতির খাল নামক স্থানে মল্লিক বাড়ির সামনের এ সেতটিু দিয়ে দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৪টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন।

সেতুটির পশ্চিম পাশের অন্তত ২টি গ্রামের মানুষকে কৃষিপণ্য বিপণন, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে হয় পূর্ব দিকের কেদারপুর ও বাহেরচর গ্রামে।

পূর্ব দিকেরও ২টি গ্রামের মানুষকে নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় নদীর অপর দিকের গ্রামগুলোতে।
প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রাই বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে সেতু তৈরি করে কোন রকম যাতায়াতের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। শত বছরের এ সেতু দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও আজও সুনজর পড়েনি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের।

ফলে দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের ৪ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের সেতুবন্ধন অধরাই রয়ে গেছে।

দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা বাবু আকন, স্কুলছাত্রী সাহানারা ও মহিবুল ইসলাম সোহাগ জানান, গত মাসে ভারি বর্ষণে বাঁশের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। তখন আমাদের কষ্টের সীমা ছিলো না। আমাদের এই এলাকার শতাধিক ছাত্র ছাত্রী কেদারপুর ও বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের ওই সেতু পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়।

স্থানীয় কৃষক জব্বার ও ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বর্ষার সময় সেতুটি ডুবে গেলে অনেক দূরের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তাতে খরচও বেশি হয়। নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ে কৃষক, ব্যবসায়ী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরে আলম বেপারী জানান, দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খয়রাতির খাল নামক স্থানের সেতু নির্মাণ করা অত্যান্ত জরুরী। সেতুটি নির্মাণ হলে দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। শিগগিরই সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যথাস্থানে একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। শিগগরই লিখিতভাবে উক্ত স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি উপস্থাপন করবো।

এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এ সেতুটি নির্মাণের। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনেতিক উন্নয়ন ও লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে জানান স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অভিভাবক হীন একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার ২ ইউনিয়নবাসী।

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুলাই ২০২১

মোহাম্মাদ আলী
বাবুগঞ্জ ( বরিশাল) ঃ একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের ৪ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। ভাঙ্গা সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ও ঠিকমত সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি এখন দুর্বল কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে। অতি প্রয়োজনের সময় ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয় সেতুটি। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

এলজিইডি থেকে বার বার আশ্বাস দিলেও সেতুটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি কেউ।

বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খয়রাতির খাল নামক স্থানে মল্লিক বাড়ির সামনের এ সেতটিু দিয়ে দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৪টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন।

সেতুটির পশ্চিম পাশের অন্তত ২টি গ্রামের মানুষকে কৃষিপণ্য বিপণন, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে হয় পূর্ব দিকের কেদারপুর ও বাহেরচর গ্রামে।

পূর্ব দিকেরও ২টি গ্রামের মানুষকে নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় নদীর অপর দিকের গ্রামগুলোতে।
প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রাই বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে সেতু তৈরি করে কোন রকম যাতায়াতের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। শত বছরের এ সেতু দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও আজও সুনজর পড়েনি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের।

ফলে দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের ৪ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের সেতুবন্ধন অধরাই রয়ে গেছে।

দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা বাবু আকন, স্কুলছাত্রী সাহানারা ও মহিবুল ইসলাম সোহাগ জানান, গত মাসে ভারি বর্ষণে বাঁশের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। তখন আমাদের কষ্টের সীমা ছিলো না। আমাদের এই এলাকার শতাধিক ছাত্র ছাত্রী কেদারপুর ও বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের ওই সেতু পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়।

স্থানীয় কৃষক জব্বার ও ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বর্ষার সময় সেতুটি ডুবে গেলে অনেক দূরের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তাতে খরচও বেশি হয়। নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ে কৃষক, ব্যবসায়ী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরে আলম বেপারী জানান, দেহেরগতি ও কেদারপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খয়রাতির খাল নামক স্থানের সেতু নির্মাণ করা অত্যান্ত জরুরী। সেতুটি নির্মাণ হলে দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। শিগগিরই সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যথাস্থানে একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। শিগগরই লিখিতভাবে উক্ত স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি উপস্থাপন করবো।

এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এ সেতুটি নির্মাণের। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনেতিক উন্নয়ন ও লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে জানান স্থানীয়রা।