সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ

মানবপাচার মামলায় মডেল নদীসহ সাতজন রিমান্ডে।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১ ১০৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক :: মানবপাচার আইনে করা মামলায় আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্রের অন্যতম হোতা নদী আক্তার ইতি ওরফে জয়া আক্তার জান্নাত ওরফে নূরজাহানসহ (২৮) সাতজনের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

নদী ছাড়া রিমান্ডে যাওয়া অন্যরা হলেন- মো. আল-আমিন হোসেন (২৮), মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), আমিরুল ইসলাম (৩০), পলক মণ্ডল (২৬), মো. তরিকুল ইসলাম (২৬) ও বিনাশ শিকদার (৩৩)।

মঙ্গলবার (২২ জুন) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্রের অন্যতম হোতা নদী আক্তার ইতি ওরফে জয়া আক্তার জান্নাত ওরফে নূরজাহানসহ মানবপাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও বিভাগের হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পাচারকারীদের হাতে পড়েছেন এমন বেশ কয়েকজন এরই মধ্যে জানিয়েছেন নদীর মাধ্যমে ভারতে চাকরির অফার পেয়েছিলেন তারা। সেখানে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন তাদের বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এই চক্রে নদী বড় ভূমিকা রেখেছেন।

২০০৫ সালে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজীব হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ২০১৫ সালে তার স্বামী রাজীব বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। এরপর তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন পাচারকারী চক্রের অন্যতম মূলহোতা।

নদীর কাছ থেকে ভারতীয় দুটি আধার কার্ড, পাসপোর্ট, একটি পুরাতন ডায়েরি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দুই তরুণীর ৮টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে গোয়াগামী বিমানের দুটি টিকিটের প্রিন্টেড কপি জব্দ করা হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল ফারুক বলেন, ‘নারীপাচার চক্রের অন্যতম হোতা নদী আক্তার ইতি ওরফে জয়া আক্তার জান্নাত ওরফে নূরজাহান ভারত, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নারীপাচার চক্রের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। ভারত, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার।’

তিনি বলেন, ‘টিকটক বাবু চক্রের সদস্য হিসেবে নদী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। টার্গেট করা নারীদের ফাঁসাতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজে যোগাযোগ করেন। ভারতে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা অন্তত পাঁচ তরুণী ঢাকার হাতিরঝিল থানায় যে মামলা করেছেন, সেখানেও আসামির তালিকায় নদীর নাম রয়েছে। সর্বশেষ শনিবার ভারতফেরত তিন তরুণী মামলা করেন, যাতে নদীকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।’

এডিসি হাফিজ আল ফারুক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পুলিশের তদন্তেও নদীর নাম উঠে এসেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্রের আরও তথ্য জানা যাবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মানবপাচার মামলায় মডেল নদীসহ সাতজন রিমান্ডে।

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১

অনলাইন ডেস্ক :: মানবপাচার আইনে করা মামলায় আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্রের অন্যতম হোতা নদী আক্তার ইতি ওরফে জয়া আক্তার জান্নাত ওরফে নূরজাহানসহ (২৮) সাতজনের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

নদী ছাড়া রিমান্ডে যাওয়া অন্যরা হলেন- মো. আল-আমিন হোসেন (২৮), মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), আমিরুল ইসলাম (৩০), পলক মণ্ডল (২৬), মো. তরিকুল ইসলাম (২৬) ও বিনাশ শিকদার (৩৩)।

মঙ্গলবার (২২ জুন) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্রের অন্যতম হোতা নদী আক্তার ইতি ওরফে জয়া আক্তার জান্নাত ওরফে নূরজাহানসহ মানবপাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও বিভাগের হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পাচারকারীদের হাতে পড়েছেন এমন বেশ কয়েকজন এরই মধ্যে জানিয়েছেন নদীর মাধ্যমে ভারতে চাকরির অফার পেয়েছিলেন তারা। সেখানে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন তাদের বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এই চক্রে নদী বড় ভূমিকা রেখেছেন।

২০০৫ সালে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজীব হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ২০১৫ সালে তার স্বামী রাজীব বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। এরপর তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন পাচারকারী চক্রের অন্যতম মূলহোতা।

নদীর কাছ থেকে ভারতীয় দুটি আধার কার্ড, পাসপোর্ট, একটি পুরাতন ডায়েরি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দুই তরুণীর ৮টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে গোয়াগামী বিমানের দুটি টিকিটের প্রিন্টেড কপি জব্দ করা হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল ফারুক বলেন, ‘নারীপাচার চক্রের অন্যতম হোতা নদী আক্তার ইতি ওরফে জয়া আক্তার জান্নাত ওরফে নূরজাহান ভারত, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নারীপাচার চক্রের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। ভারত, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার।’

তিনি বলেন, ‘টিকটক বাবু চক্রের সদস্য হিসেবে নদী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। টার্গেট করা নারীদের ফাঁসাতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজে যোগাযোগ করেন। ভারতে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা অন্তত পাঁচ তরুণী ঢাকার হাতিরঝিল থানায় যে মামলা করেছেন, সেখানেও আসামির তালিকায় নদীর নাম রয়েছে। সর্বশেষ শনিবার ভারতফেরত তিন তরুণী মামলা করেন, যাতে নদীকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।’

এডিসি হাফিজ আল ফারুক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পুলিশের তদন্তেও নদীর নাম উঠে এসেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্রের আরও তথ্য জানা যাবে।’