৪২ লাখ টাকার বঙ্গবন্ধু ও নজরুল ভাস্কর্য সোয়া কোটিতেও শেষ হয়নি! আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ১০:১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ মার্চ ২০২১ ১২৭ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা ডেস্ক
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ লাখ টাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ও কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্যের বেদি নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত অর্থ ও সময়ে ওই কাজ শেষ করতে পারেনি। উল্টো প্রায় তিন গুণ ব্যয় বাড়িয়ে সেই অঙ্ক এখন দাঁড়িয়েছে এক কোটি ১২ লাখ টাকায়। যার নির্মাণকাজ এখনো চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শুরু হওয়া দুটি ভাস্কর্যের বেদি নির্মাণকাজ ২০১৯-এর জুন-জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সুতিয়া করপোরেশন। বছরের বেশির ভাগ সময় কাজ বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ে সময়ে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করে প্রতিষ্ঠানটি। আর সেই একের পর আবদার অনুমোদনও দিয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অন্যদিকে চুক্তি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু ও নজরুল এর মূল ভাস্কর্য নির্মাণ বাবদ শিল্পী শ্যামল চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পনা ও প্রকৌশল দফতর এর দুই কর্মকর্তার সহযোগিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বারবার ব্যয় বৃদ্ধি করছে এবং বেদির নকশা পরিবর্তন করাকে কারণ হিসেবে তুলে ধরছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দফতরের সহকারী প্রকৌশলী জানান, সম্পূর্ণ কাজটি শেষ করতে আরও প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ব্যয় দেখানো হবে। যেখানে নকশা পরিবর্তন করা ও দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করা হবে। সেটি বাস্তবায়নে কাজ করবে দফতরটির একাধিক কর্মকর্তা।
ভাস্কর্য নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রকল্পের অবস্থা জানতে চাইলে এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার পরামর্শ দিয়ে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দফতরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান কোন তথ্য দিতে রাজি হননি। বলেন, ‘এ খাতে কত ব্যয় হয়েছে তা বলতে আমি বাধ্য না। এগুলো নিয়ে নিউজ করতে হবে না। ভেতরের জিনিস ভেতরে রাখো। মাহাবুব ইলাহী সাহেব আসলে দেখা করো, সব ঠিক হয়ে যাবে।’
নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না করা এবং দফায় দফায় ব্যয়বৃদ্ধির প্রস্তাবের কারণ জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুতিয়া করপোরেশনের মালিক জি এম নূরুল করিম স্বপন বলেন, ‘আমি ব্যস্ত, এখন এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। তবে আগামী এক মাসের ভেতর কাজ শেষ হয়ে যাবে।’
আর এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে ভাস্কর্যের কাজ শেষ করতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর। বলেন, ‘অনেক অভিযোগ থাকতে পারে। তবে আগে কী হয়েছে, তা আমরা এখন দেখতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য আগামী নজরুল জয়ন্তীর আগেই ভাস্কর্যের পুরো কাজ শেষ করা। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’
অন্যদিকে, ২০২০ সালের ১৭মার্চ প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করেই উদ্বোধন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যেখানে উদ্বোধনের পরপরই পলেস্তারা ও টাইলস খসে পড়তেও দেখা গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগে বুঝে নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গুনতে হয়েছে আলাদা অর্থ।























