সংবাদ শিরোনাম ::
দর্শনায় ক্যাডেট একাডেমিতে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত বিএসএফের গুলিতে জীবননগরে বাংলাদেশি আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী আটক ঘোড়াঘাটে মাদকবিরোধী উন্মুক্ত সভা, ৩০ সদস্যের কমিটি গঠন চাঁদপুরে ২৪ ঘণ্টায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭৪, আটক ১৯ কিশোর ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী মাসুক স্মৃতি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীরের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন চুয়াডাঙ্গার জেলা জামায়াতের জেলা আমির এমপি রুহুল আমিনের শপথ ঘোড়াঘাটে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট জানাযার খাদ্যের দাম বৃদ্ধি বিপাকে গরুর মালিক ও খামারিরা চুয়াডাঙ্গার বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান!লিখন,পরে মুছন

নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্র না আসতে আওয়ামী লীগ নেতার ‘হুমকি। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১ ২০৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: বগুড়ার গাবতলী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে ভোট না দিলে কেন্দ্রে আসার দরকার নেই বলে ‘হুমকি’ দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান। এ জন্য তিনি নেতা–কর্মীদের ভাগ হয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের ‘নির্দেশ’ বলেছেন, ধানের শীষ নিয়ে যে কথা বলবে তার ওপর গজব হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাজেদুর রহমান জেলার শাজাহানপুর উপজেলার খড়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও। তিনি ভিপি সাহিন নামেও পরিচিত।

শনিবার সন্ধ্যায় গাবতলী পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে দাঁড়ইল বাজারে অনুষ্ঠিত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মোমিনুল হকের নির্বাচনী কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন নির্দেশ দেন। ঘরোয়া ওই সভায় উপস্থিত কর্মীরা সাজেদুর রহমানের বক্তব্যের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনার পর গাবতলী পৌরসভায় বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ভিডিওর সিডিসহ আজ মঙ্গলবার রিটানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওনক জাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী মোমিনুল হকের নির্বাচনী সভায় তার পক্ষে একজন নেতার ভোটারদের হুমকি দিয়ে বক্তব্যের সিডিসহ লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে নৌকার প্রার্থীসহ বক্তব্যদাতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে।’

২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকটা ইউনিটের নেতা-কর্মীদের আনে সেন্টার ভাগ করে দিবেন। সেখানে একজনকে কমান্ডার ব্যানা (বানিয়ে) দিবেন। সেই কমান্ডারের নেতৃত্ব চলবে, সেখানে শিলুক (নৌকার প্রার্থীর ডাক নাম শিলু) ভোট দিলে সেই লোক আসবে, শিলুক ভোট না দিলে তার আসার দরকার নাই।’ এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘ঠিক ঠিক’ বলে সমস্বরে চিৎকার করেন। এরপর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ঘরের লোক ঘরতই থাক।’

এরপর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘কথাটা যেহেতু ঘরের ভেতর, সবাই আমার কর্মী, কর্মীদের এই কথাটা ম্যাসেজ দিলাম। এটা করবেন আপনারা?’ এ সময় নেতা-কর্মীরা সমম্বরে ‘হ্যাঁ’ ও ‘অবশ্যই’ বলে উত্তর দিলে সাজেদুর প্রশ্ন করেন, ‘এখন কী মার খাওয়ার সময় আছে?’ নেতা-কর্মীরা ‘না’ বলে জবাব দিলে তিনি বলেন, ‘মার দেওয়ার সময় আছে। আমরা মারব ধানের শীষের মার্কা লিয়্যা যে কথা বলবে, তার ওপর গজব হবে। কথাটা বুঝাতে পারছি?’

নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে এই নেতা আরও সাংবাদিকদেরবলেন, ‘যেভাবে গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করেছেন, সেভাবেই পৌরসভার মেয়রও করা হবে। তারা মেয়রে দাঁড়িয়েছেন, মেয়র নেবেন। কথা একটাই। তারেক জিয়া এখানে দাঁড়াল, না খালেদা জিয়া দাঁড়াল, সেটা দেখার বিষয় না। নেতা–কর্মীরা যদি তার নির্দেশমতো কাজ করতে পারেন তাহলে মেয়র হবে। না হলে এই গাবতলীতে কোনো প্রতিনিধি (আ. লীগ থেকে) হওয়ার সুযোগ নেই।’

এসব বক্তব্যের বিষয়ে সাজেদুর সাংবাদিকদের রহমান বলেন, ‘ধানের মধ্যে দুয়েকটা চিটা থাকে। আর গাবতলী উপজেলায় আওয়ামী লীগের অবস্থাটা অনেক চিটার মধ্যে দুয়েকটি ধান থাকার মতো। সেখানে পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার কর্মীদের চাঙা রাখতে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এটা নিজেদের নেতা–কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে রাজনৈতিক কৌশলগত বক্তব্য। নিজেদের মধ্যে ঘরোয়া সভার এই বক্তব্যের ভিডিও তাদেরই কোনো কর্মী–সমর্থক ছড়িয়েছেন।’

ধানের শীষের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির ওই বক্তব্যের পর ধানের শীষের কর্মীদের নৌকার কর্মীরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন, প্রচারণায় বাধাও দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররাও শঙ্কিত।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্র না আসতে আওয়ামী লীগ নেতার ‘হুমকি। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৩:১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: বগুড়ার গাবতলী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে ভোট না দিলে কেন্দ্রে আসার দরকার নেই বলে ‘হুমকি’ দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান। এ জন্য তিনি নেতা–কর্মীদের ভাগ হয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের ‘নির্দেশ’ বলেছেন, ধানের শীষ নিয়ে যে কথা বলবে তার ওপর গজব হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাজেদুর রহমান জেলার শাজাহানপুর উপজেলার খড়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও। তিনি ভিপি সাহিন নামেও পরিচিত।

শনিবার সন্ধ্যায় গাবতলী পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে দাঁড়ইল বাজারে অনুষ্ঠিত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মোমিনুল হকের নির্বাচনী কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন নির্দেশ দেন। ঘরোয়া ওই সভায় উপস্থিত কর্মীরা সাজেদুর রহমানের বক্তব্যের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনার পর গাবতলী পৌরসভায় বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ভিডিওর সিডিসহ আজ মঙ্গলবার রিটানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওনক জাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী মোমিনুল হকের নির্বাচনী সভায় তার পক্ষে একজন নেতার ভোটারদের হুমকি দিয়ে বক্তব্যের সিডিসহ লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে নৌকার প্রার্থীসহ বক্তব্যদাতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে।’

২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকটা ইউনিটের নেতা-কর্মীদের আনে সেন্টার ভাগ করে দিবেন। সেখানে একজনকে কমান্ডার ব্যানা (বানিয়ে) দিবেন। সেই কমান্ডারের নেতৃত্ব চলবে, সেখানে শিলুক (নৌকার প্রার্থীর ডাক নাম শিলু) ভোট দিলে সেই লোক আসবে, শিলুক ভোট না দিলে তার আসার দরকার নাই।’ এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘ঠিক ঠিক’ বলে সমস্বরে চিৎকার করেন। এরপর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ঘরের লোক ঘরতই থাক।’

এরপর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘কথাটা যেহেতু ঘরের ভেতর, সবাই আমার কর্মী, কর্মীদের এই কথাটা ম্যাসেজ দিলাম। এটা করবেন আপনারা?’ এ সময় নেতা-কর্মীরা সমম্বরে ‘হ্যাঁ’ ও ‘অবশ্যই’ বলে উত্তর দিলে সাজেদুর প্রশ্ন করেন, ‘এখন কী মার খাওয়ার সময় আছে?’ নেতা-কর্মীরা ‘না’ বলে জবাব দিলে তিনি বলেন, ‘মার দেওয়ার সময় আছে। আমরা মারব ধানের শীষের মার্কা লিয়্যা যে কথা বলবে, তার ওপর গজব হবে। কথাটা বুঝাতে পারছি?’

নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে এই নেতা আরও সাংবাদিকদেরবলেন, ‘যেভাবে গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করেছেন, সেভাবেই পৌরসভার মেয়রও করা হবে। তারা মেয়রে দাঁড়িয়েছেন, মেয়র নেবেন। কথা একটাই। তারেক জিয়া এখানে দাঁড়াল, না খালেদা জিয়া দাঁড়াল, সেটা দেখার বিষয় না। নেতা–কর্মীরা যদি তার নির্দেশমতো কাজ করতে পারেন তাহলে মেয়র হবে। না হলে এই গাবতলীতে কোনো প্রতিনিধি (আ. লীগ থেকে) হওয়ার সুযোগ নেই।’

এসব বক্তব্যের বিষয়ে সাজেদুর সাংবাদিকদের রহমান বলেন, ‘ধানের মধ্যে দুয়েকটা চিটা থাকে। আর গাবতলী উপজেলায় আওয়ামী লীগের অবস্থাটা অনেক চিটার মধ্যে দুয়েকটি ধান থাকার মতো। সেখানে পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার কর্মীদের চাঙা রাখতে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এটা নিজেদের নেতা–কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে রাজনৈতিক কৌশলগত বক্তব্য। নিজেদের মধ্যে ঘরোয়া সভার এই বক্তব্যের ভিডিও তাদেরই কোনো কর্মী–সমর্থক ছড়িয়েছেন।’

ধানের শীষের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির ওই বক্তব্যের পর ধানের শীষের কর্মীদের নৌকার কর্মীরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন, প্রচারণায় বাধাও দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররাও শঙ্কিত।’