যুবকের মৃত্যুর প্রতিবাদে এসআই’র শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২১ ১১৭ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: বরিশালে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাহির বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করাসহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে সংক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। রোববার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের সাগরদী এলাকায় বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে নিহত রেজাউল করিম রেজা মৃতদেহ অবস্থান নেয় স্বজনেরা। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখে। এবং পাশেই ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে শের-ই-বাংলা সড়কে ওই এসআই মহিউদ্দিনের বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বেগতিক পরিস্থিতিতে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে পরিবেশ শান্ত হয়। তবে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ কর্মকর্তার বাসভবনের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এবং সকলকে সরিয়ে দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি সংলগ্ন সাগরদী হামিদ খান সড়কের একটি চায়ের দোকানে বসা ছিল রেজাউল করিম রেজা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন আহমেদ তাকে মাদকের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরে নিয়ে যায়। পরে তার কাছ থেকে ১৩৮ গ্রাম গাঁজা ও ৪পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করেন। এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে কোতয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
একটি মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। রেজাউল করিম রেজা শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের প্রিজন সেলে প্রেরণ করেন। শনিবার রাত ১২টার পরে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে রেজাউল করিম রিয়াজের মৃত্যু পুলিশের নির্যাতনের কারণে হয়েছে দাবি করে তার বাবা বরিশাল নগরীর সাগরদী বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মো. ইউনুস মুন্সি।
তার দাবি, ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মহিউদ্দিন ছেলেকে মাদকসেবী বলে ধরে নিয়ে যায়। এবং ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করে। পরে ১ জানুয়ারি রাতে জানতে পারেন ছেলে শেবাচিম হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি আছে।
মারধরে রেজার প্রস্রাবের রাস্তা থেকে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হয়েছে দাবি করে জানান, ওই দিনই চিকিৎসকের পরামর্শে ছেলে দুই ব্যাগ রক্তও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরেও তাকে প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সূত্রের খবর হচ্ছে- ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে স্বজনেরা এলাকায় গেলে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি দাবিতে সাগরদী এলাকায় বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে। এবং পুলিশ কর্মকর্তা বিচারের দাবি জানিয়ে নানান প্রতিবাদী শ্লোগন দেয়। একপর্যায়ে সেখান থেকে বেশকিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে পার্শ্ববর্তী রুপাতলী হাউজিং এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তা বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এবং অবরোধকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
অবশ্য এর আগেই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।’


























