সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ মোরেলগঞ্জে দুদকের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ চিতলমারীতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বানারীপাড়ায় নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিসিসির ৬৪৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা *‘স্মার্ট, সবুজ ও জনবান্ধব বরিশাল’ গড়ার অঙ্গীকার ঠিকাদারের মৃত্যুর পর বন্ধ সড়ক সংস্কার, দ্রুত কাজ শুরুর দাবিতে নলছিটিতে মানববন্ধন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন

জোড়া নূপুরে তছনছ ৫ সংসার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

সিনেমার কাহিনিকেও হার মানাল এক জোড়া নূপুর। বন্ধকী নূপুর ছাড়াতে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রথমে অটোরিকশা ভাড়া, এরপর অটোচালককে হত্যা। এখানেই শেষ নেয়; হত্যাকাণ্ড ঢাকতে কতই না ছলচাতুরি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি ঘাতকদের। তারা এখন কারাগারে। মাত্র কয়েক হাজার টাকার নুপূরের জন্য তছনছ হয়ে গেল পাঁচটি সংসার।
২৫ নভেম্বর রাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এলাকার আমবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুলাল মিয়া নগরীর মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা। মূলত অটোরিকশার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ২৬ নভেম্বর রাতে অজ্ঞাতদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী জহুরা খাতুন। মামলার পরদিন রাতে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তারা হলেন-আলমগীর হোসেন, বাতেন মিয়া, লিটন মিয়া ও শুক্কর আলী। তারা সবাই ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, ২৮ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আলমগীর ও বাতেন। জবানবন্দিতে তারা অটোচালক দুলাল মিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে গ্রেফতার লিটন মিয়া ও শুক্কুর আলী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার না করায় তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আলমগীর ও বাতেন দুই বন্ধু। তারা একসঙ্গে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ ও নেশা করতেন। নেশার টাকার জন্যই স্ত্রীর পায়ের নূপুর সাত হাজার টাকায় বন্ধক দেন আলমগীর। পরে তিনি বন্ধক ছাড়াতে পারেননি। স্ত্রীর নূপুর বন্ধক থেকে ছাড়াতেই আলমগীর ও বাতেন অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে মাসকান্দা থেকে যাত্রীবেশে কয়েকজন দুলালকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগান এলাকায় ভাড়ায় নিয়ে যান।

আমবাগান এলাকায় যাওয়া মাত্রই নিজের কাছে থাকা চিকন রশি দিয়ে দুলালের গলায় পেঁচিয়ে ধরেন বাতেন। এ সময় আলমগীরের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে দুলালের পিঠে আঘাত করেন এবং অটো থেকে তাকে ফেলে দেন। পরে তারা অটোরিকশাটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমবাগান এলাকার বাসিন্দারা দুলাল মিয়াকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আলমগীর ও বাতেনের স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি, ছুরি ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করা হয় বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জোড়া নূপুরে তছনছ ৫ সংসার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৭:০১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক

সিনেমার কাহিনিকেও হার মানাল এক জোড়া নূপুর। বন্ধকী নূপুর ছাড়াতে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রথমে অটোরিকশা ভাড়া, এরপর অটোচালককে হত্যা। এখানেই শেষ নেয়; হত্যাকাণ্ড ঢাকতে কতই না ছলচাতুরি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি ঘাতকদের। তারা এখন কারাগারে। মাত্র কয়েক হাজার টাকার নুপূরের জন্য তছনছ হয়ে গেল পাঁচটি সংসার।
২৫ নভেম্বর রাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এলাকার আমবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুলাল মিয়া নগরীর মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা। মূলত অটোরিকশার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ২৬ নভেম্বর রাতে অজ্ঞাতদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী জহুরা খাতুন। মামলার পরদিন রাতে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তারা হলেন-আলমগীর হোসেন, বাতেন মিয়া, লিটন মিয়া ও শুক্কর আলী। তারা সবাই ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, ২৮ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আলমগীর ও বাতেন। জবানবন্দিতে তারা অটোচালক দুলাল মিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে গ্রেফতার লিটন মিয়া ও শুক্কুর আলী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার না করায় তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আলমগীর ও বাতেন দুই বন্ধু। তারা একসঙ্গে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ ও নেশা করতেন। নেশার টাকার জন্যই স্ত্রীর পায়ের নূপুর সাত হাজার টাকায় বন্ধক দেন আলমগীর। পরে তিনি বন্ধক ছাড়াতে পারেননি। স্ত্রীর নূপুর বন্ধক থেকে ছাড়াতেই আলমগীর ও বাতেন অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে মাসকান্দা থেকে যাত্রীবেশে কয়েকজন দুলালকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগান এলাকায় ভাড়ায় নিয়ে যান।

আমবাগান এলাকায় যাওয়া মাত্রই নিজের কাছে থাকা চিকন রশি দিয়ে দুলালের গলায় পেঁচিয়ে ধরেন বাতেন। এ সময় আলমগীরের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে দুলালের পিঠে আঘাত করেন এবং অটো থেকে তাকে ফেলে দেন। পরে তারা অটোরিকশাটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমবাগান এলাকার বাসিন্দারা দুলাল মিয়াকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আলমগীর ও বাতেনের স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি, ছুরি ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করা হয় বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।