৫ম স্ত্রীকে ঘরে তুলতে বাঁধা, হাতুড়ি দিয়ে বাবাকে পেটালেন ছেলে। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ ১২২ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক:: নাম তার সুরুজ মিয়া। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের আকমত আলীর পুত্র সে। বিয়ে করেই সুরুজ মিয়ার নেশা। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন কৌশলে ৪টি বিয়ে করেছেন তিনি।
সর্বশেষ স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে আসলে বাধাঁ দেন বৃদ্ধ পিতা। তাই বাবাকে জনসম্মুখেই হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছেন পাষণ্ড এই ছেলে। সেই ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নিরূপায় হয়ে বখাটে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন বাবা।
এ বিষয়ে আকমত আলী বলেন, আমার ছেলে পরিবারের লোকজন ছাড়াই সুরুজ মিয়া প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলার ধলাহাস গ্রামের আলফাজ আলীর মেয়ে মাফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। তার সাথে ৫ বছর সংসার করে দু’টি সন্তানসহ তাকে তালাক দেয়।
পরে একই উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে আছমা আক্তারকে বিয়ে করে দুবাই পাড়ি জমান সে। সেখানে সুরুজ মিয়া দুবাই প্রবাসী যশোরের ফাতেমা আক্তার নামে আরেক মেয়েকে বিয়ে করেন।
তখন থেকেই বাড়িতে থাকা আছমা আক্তারের সাথে সুরুজ মিয়ার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরবর্তীতে হোমনা থানার ওমরাবাদ গ্রামের আমির হোসেনের মেয়ে সাজেদা বেগম নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে মাত্র ৩ মাস পরই আবার তালাকও দেন।
সর্বশেষে গত ৪ মাস পূর্বে মুরাদনগর উত্তর পাড়ার জায়েদ আলীর মেয়ে সুবর্ণা বেগমকে বিয়ে করেন সুরুজ মিয়া। তাকে ঘরে তুলতে আমি বাধাঁ দেই। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার আমাকে কিলঘুষিসহ হাতুড়ি পিটা দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন সুরুজ মিয়া।
অশ্রুস্বজল চোখে আকমত আলী আরো বলেন, দুই লাখ টাকায় ৭ শতক জমি বিক্রি করি। এর মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও গরু বিক্রির ৫০ হাজার টাকা ধার নেয় সুরুজ মিয়া। পরে ওই টাকা চাইলেই আমাকে মারধর করে।
শুধু তাই নয়, তার দ্বিতীয় স্ত্রী আছমা আক্তার আমাকে দেখাশুনা করায় তাকেও বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার বিভিন্ন পাঁয়তারা করছে। জন্মদাতা পিতা হয়ে কতটুকু কষ্টে থানায় গিয়ে অভিযোগ দিয়েছি তা আপনাদেরকে বুঝাতে পারব না। শেষ বয়সে একটু শান্তিতে মরতে চাই।
এ বিষয়ে সুরুজ মিয়া, ‘ আমার বাড়ি আমার ঘর, তারা আমার বিষয়ে নাক গলানোর কে?।
পিতাকে মারধর করেছেন কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলনি, শালার বেটাকে জানে মাইরা ফেলা উচিত। সে আমার পক্ষে কথা বলে না।’
মুরাদনগর থানার ওসি (তদন্ত) নাহিদ আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


























