সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে খুশি মালিকরা, প্রশংসিত কাউনিয়া থানা পুলিশ ভান্ডারিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েও দমানো যায়নি, এবার সাংবাদিক আসলামকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ছক! বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে গৃহবধূকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন ওসি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২০ ৩৬০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডেস্ক প্রতিবেদক:: নারী পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে ওসি আবু নাসের রায়হানের বিরুদ্ধে। জানা যায়, ওই নারী পুলিশকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ভয় দেখিয়ে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে ওসি আবু নাসের রায়হান।
মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর সার্কেলের অ্যাডিশনাল এসপির কার্যালয়ে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ওই ওসির বিরুদ্ধে ভিকটিমের এমনই অভিযোগ করেন।

২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর পুলিশ কনস্টেবল পদে নীলফামারী পুলিশ লাইনে যোগ দেন ওই নারী। এরপর থেকেই নীলফামারী রিজার্ভ অফিস পরিদর্শক (বর্তমানে বরিশাল ডিআইজি অফিসে ওসি তদন্ত হিসেবে কর্মরত) আবু নাসের রায়হান প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করতো এবং বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিতো বলে অভিযোগে বলা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে ভিকটিমকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দিতেন ওসি আবু নাসের রায়হান। এরই একপর্যায়ে ২০১৬ সাল থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। শুধু তাই নয়, তাদের এ সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আগের স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়।

স্বামীকে তালাক দেয়ার পরও দীর্ঘদিন বিয়ে না করায় চাপ দিলে একদিন হুজুর প্রকৃতির একজন লোক ডেকে এনে বিয়ে করে। কিন্তু কাজীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করার কথা বললে আবু রায়হান বলেন, আমরাতো আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করেছি, রেজিস্ট্রির প্রয়োজন নেই। এভাবে বিয়ের নামে দীর্ঘদিন থেকে ধর্ষণ করে আসছিল।

বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন বিয়ে রেজিস্ট্রি করার চাপ দিলে ওসি কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং উল্টো তাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে কৌশল করে ভিকটিমকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পুলিশ লাইনে এবং নিজে বরিশাল ডিআইজি অফিসে বদলি হয়ে যান।

এক পর্যায়ে ভিকটিম প্রথমে বরিশাল ডিআইজি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল ডিআইজি তদন্তের নির্দেশ দিলে মঙ্গলবার সৈয়দপুর সার্কেল কার্যালয়ে ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডিশনাল এসপি অশোক কুমার পাল জানান, এ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে গৃহবধূকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন ওসি!

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২০

ডেস্ক প্রতিবেদক:: নারী পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে ওসি আবু নাসের রায়হানের বিরুদ্ধে। জানা যায়, ওই নারী পুলিশকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ভয় দেখিয়ে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে ওসি আবু নাসের রায়হান।
মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর সার্কেলের অ্যাডিশনাল এসপির কার্যালয়ে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ওই ওসির বিরুদ্ধে ভিকটিমের এমনই অভিযোগ করেন।

২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর পুলিশ কনস্টেবল পদে নীলফামারী পুলিশ লাইনে যোগ দেন ওই নারী। এরপর থেকেই নীলফামারী রিজার্ভ অফিস পরিদর্শক (বর্তমানে বরিশাল ডিআইজি অফিসে ওসি তদন্ত হিসেবে কর্মরত) আবু নাসের রায়হান প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করতো এবং বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিতো বলে অভিযোগে বলা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে ভিকটিমকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দিতেন ওসি আবু নাসের রায়হান। এরই একপর্যায়ে ২০১৬ সাল থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। শুধু তাই নয়, তাদের এ সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আগের স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়।

স্বামীকে তালাক দেয়ার পরও দীর্ঘদিন বিয়ে না করায় চাপ দিলে একদিন হুজুর প্রকৃতির একজন লোক ডেকে এনে বিয়ে করে। কিন্তু কাজীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করার কথা বললে আবু রায়হান বলেন, আমরাতো আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করেছি, রেজিস্ট্রির প্রয়োজন নেই। এভাবে বিয়ের নামে দীর্ঘদিন থেকে ধর্ষণ করে আসছিল।

বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন বিয়ে রেজিস্ট্রি করার চাপ দিলে ওসি কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং উল্টো তাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে কৌশল করে ভিকটিমকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পুলিশ লাইনে এবং নিজে বরিশাল ডিআইজি অফিসে বদলি হয়ে যান।

এক পর্যায়ে ভিকটিম প্রথমে বরিশাল ডিআইজি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল ডিআইজি তদন্তের নির্দেশ দিলে মঙ্গলবার সৈয়দপুর সার্কেল কার্যালয়ে ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডিশনাল এসপি অশোক কুমার পাল জানান, এ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছে।