সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৮২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তুরস্কের সমর্থনের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগণকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

গতকাল তুরস্কের আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ ভবন উদ্বোধন করেন।

এ সময় তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু।

পরে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আল্লামা সিদ্দিকী দূতাবাস কমপ্লেক্সে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানকে সপরিবার বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আশা করি শিগগিরই তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তার সঙ্গে ফার্স্ট লেডিও এমিনা এরদোগানও আসবেন বলে আশা করি। একই সঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আসবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের গভীর ভিত্তি রয়েছে।

বাংলাদেশ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সুবিধার জন্য তুরস্কের সঙ্গে তার সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের আমন্ত্রণে ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল আঙ্কারা সফরের কথা স্মরণ করেন। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের শুরু হয়। তবে আমাদের সম্পর্কের শুরু ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুর্কি জেনারেল ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা জয়ের মধ্যে দিয়ে। পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাসে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের দ্বিপক্ষীয় সুবিধার জন্য বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ নীতিই আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নই দেখেননি
তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সংঘাতমুক্ত বিশ্বের স্বপ্নও দেখেছেন। মানবকল্যাণে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে গেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব একটি কঠিন সময় পার করছে। এটি বিশ্বব্যাপী বেশির ভাগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশে আমরা করোনাভাইরাসটির বিস্তার সফলভাবে রোধ করতে সক্ষম হয়েছি। একই সঙ্গে আমাদের সময়োপযোগী এবং যথাযথ ব্যবস্থা ও প্রণোদনা প্যাকেজগুলো মারাত্মক রোগের বিপর্যয়কর প্রভাব হ্রাস করেছে। আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ওই টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিকী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তুরস্কের সমর্থনের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগণকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

গতকাল তুরস্কের আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ ভবন উদ্বোধন করেন।

এ সময় তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু।

পরে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আল্লামা সিদ্দিকী দূতাবাস কমপ্লেক্সে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানকে সপরিবার বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আশা করি শিগগিরই তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তার সঙ্গে ফার্স্ট লেডিও এমিনা এরদোগানও আসবেন বলে আশা করি। একই সঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আসবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের গভীর ভিত্তি রয়েছে।

বাংলাদেশ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সুবিধার জন্য তুরস্কের সঙ্গে তার সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের আমন্ত্রণে ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল আঙ্কারা সফরের কথা স্মরণ করেন। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের শুরু হয়। তবে আমাদের সম্পর্কের শুরু ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুর্কি জেনারেল ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা জয়ের মধ্যে দিয়ে। পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাসে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের দ্বিপক্ষীয় সুবিধার জন্য বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ নীতিই আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নই দেখেননি
তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সংঘাতমুক্ত বিশ্বের স্বপ্নও দেখেছেন। মানবকল্যাণে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে গেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব একটি কঠিন সময় পার করছে। এটি বিশ্বব্যাপী বেশির ভাগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশে আমরা করোনাভাইরাসটির বিস্তার সফলভাবে রোধ করতে সক্ষম হয়েছি। একই সঙ্গে আমাদের সময়োপযোগী এবং যথাযথ ব্যবস্থা ও প্রণোদনা প্যাকেজগুলো মারাত্মক রোগের বিপর্যয়কর প্রভাব হ্রাস করেছে। আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ওই টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিকী।