সংবাদ শিরোনাম ::
ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ ​রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ​ ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় দুই অভিযোগ ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী”

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেয়া হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২০ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেয়া হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

অনলাইন ডেস্ক :: স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক পরা, হাত পরিস্কার, থার্মোমিটার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। আগের মতো প্রতিদিন সব বিষয়ের ক্লাস হবে না। তবে কোন বিষয়ের ক্লাস হবে তা শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সদস্যরা নির্ধারণ করবেন।

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিদ্যালয় খোলার আগে স্বাস্থ্য নিরাপত্তামূলক এমন ৫০টির বেশি নির্দেশনা জারি করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব নির্দেশনা মেনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রেখে বিদ্যালয়ে পাঠদান পরিচালনায় করণীয় বিষয়ক নির্দেশনা তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যালয় খোলার আগে ও চলাকালীন করণীয় বিষয়ক বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন কীভাবে ক্লাস পরিচালনা হবে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে আলাদাভাবে তিনটি ক্যাটাগরিতে ৫০টির বেশি নির্দেশনা থাকবে। করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া স্বাস্থ্যবিধিগুলো অনুসরণ করে এসব নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম হোসেনের সভাপত্বিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে খসড়া থেকে কিছু সংযোগ-বিয়োজন করা হয়েছে। পরবর্তী আরেকটি সভা করে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনের পর তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা করে এ সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণা শুরু করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন মঙ্গলবার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান পরিচালনা করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, সিডিসি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো মেনে আমরা করোনা পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় পরিচালনায় দিকনিদের্শনা তৈরি করছি। সবাইকে সেসব মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগের মতো আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হবে হবে না। বিদ্যালয় খোলার ১৫ দিন আগে থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রস্তুতি শুরু করা হবে। ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করণীয় ও প্রতিদিন কীভাবে ক্লাস পরিচালনা করা হবে সেসব বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে।

খসড়া নির্দেশনায় দেখা গেছে, বিদ্যালয় খোলার সরকারি নির্দেশনা আসার পর ন্যূনতম ১৫ দিন আগে শিক্ষক, কর্মচারী এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সদস্যদের উপস্থিতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ক্লাস উপযোগী করে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন করে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুলের গেটে বা প্রবেশের স্থানে হাত ধোয়ার জন্য সাবান ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে প্রবেশ করবে। থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করানো হবে।

পাঠ্যক্রম পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আগের মতো ক্লাসে এক বেঞ্চে তিন বা চারজন বসতে পারবে না, দূরত্ব বজায় রেখে পাঠদান করা হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এক বেঞ্চে দুজন শিক্ষার্থীকে বসাতে হবে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আগের মতো আর সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হবে না। একটি স্তরে সপ্তাহে দুই বা তিন দিন অথবা প্রতিদিন দুই-তিনটি ক্লাস নেয়া হবে। তবে ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রে চতুর্থ শ্রেণিকে অধিক গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যক্রম নির্বাচন করে কোন দিন কোন বিষয়ের ক্লাস নেয়া হবে তা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও এসএমসির সদস্যদের নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

বিদ্যালয় চলাকালীন করণীয় হিসেবে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক মুখে মাস্ক পরে আসতে হবে। বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে উপচে পড়া ভিড় করে খেলাধূলা, আড্ডা-গল্প করতে পারবে না। সামাজিক দূরত্ব রেখে হাঁটাচলা করতে হবে। নোটিশ বোর্ডে বিদ্যালয় শিক্ষক, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যোগাযোগ নম্বর লিখে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কেউ অসুস্থ হয়ে গেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাইবে না। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা ৫০টি বেশি দিকনির্দেশনামূলক গাইডলাইন তৈরি করেছি। বিদ্যালয় খোলার ঘোষণা এলে তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য তৈরি দিকনির্দেশনাগুলো সবার কাছে পৌঁছে দিতে ফেসবুক, অনলাইন, ওয়েবসাইট, গণমাধ্যমসহ সকল মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। এতে করে অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহী হবেন। করোনাকালীন বাৎসরিক উন্নয়ন বাবদ অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে নির্দেশ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেয়া হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২০

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেয়া হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

অনলাইন ডেস্ক :: স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক পরা, হাত পরিস্কার, থার্মোমিটার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। আগের মতো প্রতিদিন সব বিষয়ের ক্লাস হবে না। তবে কোন বিষয়ের ক্লাস হবে তা শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সদস্যরা নির্ধারণ করবেন।

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিদ্যালয় খোলার আগে স্বাস্থ্য নিরাপত্তামূলক এমন ৫০টির বেশি নির্দেশনা জারি করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব নির্দেশনা মেনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রেখে বিদ্যালয়ে পাঠদান পরিচালনায় করণীয় বিষয়ক নির্দেশনা তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যালয় খোলার আগে ও চলাকালীন করণীয় বিষয়ক বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন কীভাবে ক্লাস পরিচালনা হবে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে আলাদাভাবে তিনটি ক্যাটাগরিতে ৫০টির বেশি নির্দেশনা থাকবে। করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া স্বাস্থ্যবিধিগুলো অনুসরণ করে এসব নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম হোসেনের সভাপত্বিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে খসড়া থেকে কিছু সংযোগ-বিয়োজন করা হয়েছে। পরবর্তী আরেকটি সভা করে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনের পর তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা করে এ সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণা শুরু করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন মঙ্গলবার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান পরিচালনা করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, সিডিসি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো মেনে আমরা করোনা পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় পরিচালনায় দিকনিদের্শনা তৈরি করছি। সবাইকে সেসব মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগের মতো আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হবে হবে না। বিদ্যালয় খোলার ১৫ দিন আগে থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রস্তুতি শুরু করা হবে। ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করণীয় ও প্রতিদিন কীভাবে ক্লাস পরিচালনা করা হবে সেসব বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে।

খসড়া নির্দেশনায় দেখা গেছে, বিদ্যালয় খোলার সরকারি নির্দেশনা আসার পর ন্যূনতম ১৫ দিন আগে শিক্ষক, কর্মচারী এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সদস্যদের উপস্থিতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ক্লাস উপযোগী করে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন করে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুলের গেটে বা প্রবেশের স্থানে হাত ধোয়ার জন্য সাবান ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে প্রবেশ করবে। থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করানো হবে।

পাঠ্যক্রম পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আগের মতো ক্লাসে এক বেঞ্চে তিন বা চারজন বসতে পারবে না, দূরত্ব বজায় রেখে পাঠদান করা হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এক বেঞ্চে দুজন শিক্ষার্থীকে বসাতে হবে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আগের মতো আর সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হবে না। একটি স্তরে সপ্তাহে দুই বা তিন দিন অথবা প্রতিদিন দুই-তিনটি ক্লাস নেয়া হবে। তবে ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রে চতুর্থ শ্রেণিকে অধিক গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যক্রম নির্বাচন করে কোন দিন কোন বিষয়ের ক্লাস নেয়া হবে তা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও এসএমসির সদস্যদের নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

বিদ্যালয় চলাকালীন করণীয় হিসেবে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক মুখে মাস্ক পরে আসতে হবে। বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে উপচে পড়া ভিড় করে খেলাধূলা, আড্ডা-গল্প করতে পারবে না। সামাজিক দূরত্ব রেখে হাঁটাচলা করতে হবে। নোটিশ বোর্ডে বিদ্যালয় শিক্ষক, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যোগাযোগ নম্বর লিখে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কেউ অসুস্থ হয়ে গেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাইবে না। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা ৫০টি বেশি দিকনির্দেশনামূলক গাইডলাইন তৈরি করেছি। বিদ্যালয় খোলার ঘোষণা এলে তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য তৈরি দিকনির্দেশনাগুলো সবার কাছে পৌঁছে দিতে ফেসবুক, অনলাইন, ওয়েবসাইট, গণমাধ্যমসহ সকল মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। এতে করে অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহী হবেন। করোনাকালীন বাৎসরিক উন্নয়ন বাবদ অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে নির্দেশ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।