সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ১৮ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীকে সংবর্ধনা প্রদান চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সেক্রেটারী আটক সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির পাওনা পরিবারকে বুঝিয়ে দিল সমকাল কর্তৃপক্ষ কাঠালিয়া আমুয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মনস্বিতা কলেজ সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি। বাবুগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, গাছের সঙ্গে ধাক্কা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা যাত্রীরা দর্শনায় কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেফতার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের জরুরি বৈঠক: অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন ও ঐক্যের সংকল্প ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কুষ্টিয়া লালন শাহের মাজারের তিনটি সিন্দুক ভেঙে টাকা চুরি। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২০ ১৪৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক:: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সাধক ফকির লালন শাহের মাজারের তিনটি সিন্দুক ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।
প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৪ মে রাতে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এ সময় লালন মাজার অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ না থাকায় মাজারের ছাদের কার্নিশ দিয়ে চোর ভেতরে প্রবেশ করে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। রোববার (১৭ মে) সকালে মাজারের দায়িত্বরত খাদেম মূল দরজা খুললে তিনটি সিন্দুক ও সিসি ক্যামেরা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
মাজারের খাদেম রিপন জানান, সকালে লালন মাজারের দরজা খুলে তিনি সিন্দুকগুলোর তালা ভাঙা দেখতে পান। তিনটি সিন্দুকেরই তালা ভাঙা। চোরের দল সিন্দুক তিনটি ভেঙে সেখানে রক্ষিত সমস্ত টাকা নিয়ে গেছে। লালন মাজারের ভেতরে বাউল সম্রাটের সমাধীঘেঁষে দানবাক্স হিসেবে ওই সিন্দুকগুলো রাখা আছে।
তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি আসলাম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, লালন মাজার শুধু কুষ্টিয়া জেলার নয় সারা বিশ্বের মানুষের কাছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কাম্য হতে পারে না। লালন মাজারে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা চালু রয়েছে। সিসি টিভির ফুটেজ দেখা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় ওই সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুমারখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।
জানা যায়, প্রতি বছর দু’বার লালন মাজারে অনুষ্ঠান হয়। সে সময় দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত-সাধু ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে লালন মাজারে। দুবার অনুষ্ঠান এবং সারা বছর দর্শনার্থীরা লালন মাজার পরিদর্শনের সময় এই সিন্দুকে টাকা-পয়সা দান করে থাকেন।
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার দু’একদিন আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি খোলা হয়। তারপর আবার জেলা প্রশাসন থেকেই এই সব সিন্দুকগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়। প্রতি বছর এসব সিন্দুক থেকে কয়েক লাখ টাকা পাওয়া যায়। তবে চুরি যাওয়া এই তিনটি সিন্দুকে কী পরিমাণ টাকা ছিল তা জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে লালন মাজারে সিন্দুক ভেঙে টাকা চুরির ঘটনায় ভক্ত-সাধুসহ স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে চোর চক্রকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

কয়েক বছর আগে কুমারখালীর শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির জাদুঘর থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তরবারি চুরির ঘটনা ঘটে। আজও সেই চুরির ঘটনার কোনো কূল কিনারা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে সর্বশেষ লালন একাডেমির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর আর লালন একাডেমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই থেকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত এডহক কমিটির মাধ্যমে লালন একাডেমির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক লালন একাডেমির সভাপতি এবং এনডিসি সদস্য সচিব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুষ্টিয়া লালন শাহের মাজারের তিনটি সিন্দুক ভেঙে টাকা চুরি। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২০

অনলাইন ডেস্ক:: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সাধক ফকির লালন শাহের মাজারের তিনটি সিন্দুক ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।
প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৪ মে রাতে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এ সময় লালন মাজার অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ না থাকায় মাজারের ছাদের কার্নিশ দিয়ে চোর ভেতরে প্রবেশ করে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। রোববার (১৭ মে) সকালে মাজারের দায়িত্বরত খাদেম মূল দরজা খুললে তিনটি সিন্দুক ও সিসি ক্যামেরা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
মাজারের খাদেম রিপন জানান, সকালে লালন মাজারের দরজা খুলে তিনি সিন্দুকগুলোর তালা ভাঙা দেখতে পান। তিনটি সিন্দুকেরই তালা ভাঙা। চোরের দল সিন্দুক তিনটি ভেঙে সেখানে রক্ষিত সমস্ত টাকা নিয়ে গেছে। লালন মাজারের ভেতরে বাউল সম্রাটের সমাধীঘেঁষে দানবাক্স হিসেবে ওই সিন্দুকগুলো রাখা আছে।
তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি আসলাম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, লালন মাজার শুধু কুষ্টিয়া জেলার নয় সারা বিশ্বের মানুষের কাছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কাম্য হতে পারে না। লালন মাজারে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা চালু রয়েছে। সিসি টিভির ফুটেজ দেখা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় ওই সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুমারখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।
জানা যায়, প্রতি বছর দু’বার লালন মাজারে অনুষ্ঠান হয়। সে সময় দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত-সাধু ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে লালন মাজারে। দুবার অনুষ্ঠান এবং সারা বছর দর্শনার্থীরা লালন মাজার পরিদর্শনের সময় এই সিন্দুকে টাকা-পয়সা দান করে থাকেন।
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার দু’একদিন আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি খোলা হয়। তারপর আবার জেলা প্রশাসন থেকেই এই সব সিন্দুকগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়। প্রতি বছর এসব সিন্দুক থেকে কয়েক লাখ টাকা পাওয়া যায়। তবে চুরি যাওয়া এই তিনটি সিন্দুকে কী পরিমাণ টাকা ছিল তা জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে লালন মাজারে সিন্দুক ভেঙে টাকা চুরির ঘটনায় ভক্ত-সাধুসহ স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে চোর চক্রকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

কয়েক বছর আগে কুমারখালীর শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির জাদুঘর থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তরবারি চুরির ঘটনা ঘটে। আজও সেই চুরির ঘটনার কোনো কূল কিনারা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে সর্বশেষ লালন একাডেমির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর আর লালন একাডেমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই থেকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত এডহক কমিটির মাধ্যমে লালন একাডেমির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক লালন একাডেমির সভাপতি এবং এনডিসি সদস্য সচিব।