সাংবাদিক এস এম জাকিরের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০২:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০ ৬০৪ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক দখিনের মুখ পত্রিকার সম্পাদকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। একই পত্রিকার তৎকালীন বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম রাসেলকে বেতনের সমুদয় অর্থ বুঝিয়ে না দেওয়াসহ নানাভাবে হয়রনির অভিযোগে দন্ড বিধির ৪২০ ও ৫০১/৫০২ ধারায় সম্পাদক এসএম জাকিরসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করেন। গত ১১ মার্চ বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক রাসেলের এই মামলাটি সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক সিআর (নং ৭২/২০২০) নথিভুক্ত করেন। এবং সম্পাদকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ঘটনাটি তদন্তে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব সভাপতিকে দায়িত্ব অর্পণ করেন। আদালতের এই আদেশের কপি প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র ব্যাটবল হাতে পাওয়ার বিষয়টি বুধবার বিকেলে এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্র জানায়, রাসেল ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি দখিনের মুখ পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে নিয়োগপত্রবিহিন মৌখিক আদেশে যোগদান করতে বলে। এসময় তাকে অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের ২নং গ্রেডের প্রশাসনিক কর্মচারীদের বেতন অবকাঠামোর ঙ শ্রেণিভুক্ত গ্রেড ২এর বেতন তালিকাসহ বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্য আলাদাভাবে যাতায়াত খরচ বহন করবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে রাসেলের সাথে পুরোটাই প্রতারণা করা হয়েছে। কর্মস্থলে যোগদানের পরে ব্যক্তিগত খরচে বিজ্ঞপনসমূহ সংগ্রহ করলেও কোন প্রকার যাতায়াত খরচ দেয়া হয়নি। এমনকি পত্রিকার বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে উৎসব ভাতা প্রদানের কথা থকলেও তা না দিয়ে মাস শেষে নাম মাত্র বেতন ৫ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেয়। ওই সময় রাসেলের দাবির প্রেক্ষিতে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ কম আসছে অজুাহাতে টাকা দেই-দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকেন। ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে পাওনা টাকার পরিমান ২ লক্ষ ৪ হাজার ২শত টাকা দাঁড়ালে তা পেতে বিভিন্ন উপায়ে রাসেল চাপ প্রয়োগ করলে সেই সময়েও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সম্পাদকসহ তিনজন টালবাহানা করেন। ফরে বাধ্য হয়ে রাসেল দখিনের মুখ ছেড়ে অন্য একটি স্থানীয় পত্রিকা দক্ষিণাঞ্চলে একই পদে যোগদান করে পাওনা অর্থ আদায়ে চেষ্টা করেন।
রাসেল মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন- পাওনাসমূদয় অর্থাৎ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ৬ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে অভিযুক্তদের একজন ডাক্তার মো: আল-আমিন তার চেম্বার শহরের ফজলুল হক এভিনিউ ‘সিটি মেডিকেল সার্ভিসে’ ডাকার পরে রাসেল সেখানে গেলে জানতে চাওয়া হয় নিয়োগপত্র রয়েছে কী। প্রতিত্তোরে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি জানানোর পর অভিযুক্তরা রাসেলকে ঠেলা-ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয় এবং হুমকি দিয়ে বলে কোন টাকা পাবি না, যা পারো করিস!
বিষয়টি মিডিয়ার গণ্যমান্যদের অবহিত করার একদিনের মাথায় অর্থাৎ সাত মার্চ এসএম জাকির হোসেনের দৈনিক মতবাদ, দখিনের মুখ ও ভোরের আলোসহ একাধিক পত্রিকায় রাসেলের ছবি সংবলিত সতর্কীকরণ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে উল্টো লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনে। এবং সেখানে বহিস্কারের বিষয়টিও উল্লেখ রাখে।
সাধারণ ডায়েরি ও মামলাসহ কোন প্রমাণ ব্যতিত ওই সংবাদ প্রকাশ করার কারণে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে রাসেলের ১০ লক্ষ সম্মানহানি হয়েছেন। এমন দাবি করে সম্পাদক এসএম জাকির, প্রকাশক ডা. আল আমিন ও নির্বাহী সম্পাদক মোসা, রেশমা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন রাসেল।
রাসেলের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ইমন এ প্রতিবেদককে জানান, মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক সিআর নথিভুক্ত করে প্রেসক্লাব সভাপতিকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার পরে আদালত সিদ্ধান্ত শোনাবেন।
তবে করোনা দুর্যোগের কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়ায় তদন্ত কাজ শুরু করা যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রেসক্লাব সভাপতি মানবেন্দ্র ব্যাট বল। তবুও চেষ্টা চলছে দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দেখার।’
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা এস.এম জাকিরের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। এবং একাধিক চাঁদাবাজি মামলা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সাথে তার বড় ভাই হায়দারের সৌদিতে কুকীর্তি ও ভাই নাহিদের আলোচিত অলক হত্যা মামলাসহ ফিরিস্তি জানতে চোখ রাখুন বরিশার ক্রাইম নিউজে।


























